fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

থিমের নামে মা দুর্গার বিকৃতি! ক্ষুব্ধ হিন্দুত্ববাদীরা

রক্তিম দাশ, কলকাতা: কলকাতায় থিম পুজোর নামে মা দুর্গার মূর্তির বিকৃতি ঘটানোর বিরুদ্ধে সরব হলেন হিন্দুত্ববাদীরা। তাঁদের দাবি, এধরণের থিম পুজোর মধ্য দিয়ে দেবি মূর্তির বিকৃত পরিবেশন আসলে হিন্দু সমাজকে ভাঙার চক্রান্ত।

শিল্পের নামে হিন্দু ধর্মের আবেগ নিয়ে এধরণের ছেলেখেলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। করোনা আবহের মধ্যেই পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা কথা তুলে ধরে কলকাতার একটি থিম পুজোয় দেবী দুর্গাকে শৈল্পিক রূপ দেওয়া হয়েছে! শুধু তাই নয় অপর একটি পুজো মন্ডপে দেবী দুর্গাকে চিকিৎসক, গনেশকে পুলিশ এবং কার্তিককে সাফাইকর্মীর রূপে সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আর এতেই বেজায় চটেছে হিন্দুত্ববাদীরা।

বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্রের সম্পাদক অমিয় সরকার। তিনি বলেন,‘ এর আগে ম-প অন্যধর্মের বিভিন্ন উপাসনালয়ের আদলে হয়েছে। শুধু তাই নয়, মন্ডপে আজান দেওয়া হয়েছে। এবার মায়ের মূর্তিকেও বিকৃত করে সামনে আনা হচ্ছে। সরকারি অনুদানে এসব থিম পুজো চলছে যার মধ্য দিয়ে হিন্দু সমাজের ভাবাবেগে আঘাত করা হচ্ছে। হিন্দু সমাজকে ভাঙার চক্রান্ত চলছে। এসব একটা পরিকল্পনার অংশ। আমরা এটা মেনে নেব না। সাবেকিয়ানার পুজোগুলিকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’

অমিয়বাবু বলেন,‘ শরৎকালে রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য অকালবোধন দুর্গাপুজো করেছিলেন ভগবান শ্রীরাম। যা পরবর্তীতে বাংলায় প্রচলিত হয়। ভগবান রামের এই পুজোকে ভুলিয়ে দিতেই এধরণের চক্রান্ত চলছে। তার জন্যই থিম নামক এই নোংরামির আয়োজন। এর বিরুদ্ধে হিন্দুদের রুখে দাঁড়াতেই হবে। শিল্পের নামে আমাদের ধর্মকে নিয়ে এই ছেলেখেলা চলতে দেওয়া যাবে না।’

বিশিষ্ট সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলেন,‘ আমাদের হিন্দু ধর্মকে আঘাত করার কৌশল। অন্য কোনও ধর্মের দেব-দেবীকে নিয়ে এসব হয় না। আমাদেও এখানে শিল্পের নাম করে অনায়াসে হয়। আমাদের সাবেকি দুর্গা মূর্তি। যা মাতৃশক্তির প্রতীক। তাঁকে এভাবে নানাভাবে বিকৃত করে, হেয় করার কারণ কি? কিন্তু এতে লাভ কিছু হবে না। হিন্দু ধর্মের শিকড় এতটাই বিস্তৃত এর আগেও বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার মন্দির ধ্বংস করে, মূর্তি ভেঙেও জেহাদিরা চেষ্টা করেও সফল হয়নি। আর এটা কি ধরণের শিল্প? মহম্মদের ছবিকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা বেধেছিল। তখন কেউ শিল্প বলেনি। আজকে শিল্পের দোহাই দিয়ে হিন্দু দেব-দেবীকে নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করা যাবে এটা কোথায় ঠিক হল।’

অধ্যাপক মোহিত রায় বলেন,‘এটা করা অনৈতিক। এটা শিল্পের স্বাধীনতা নয়। প্রোপাগান্ডার শিল্প। গত ত্রিশ বছরে আমরা দেখেনি থিম পুজো হয়েছে নোয়াখালির দাঙ্গায় হিন্দুদের নির্যাতন নিয়ে। সব দুর্গা পুজোর সামনে তো শ্রীরামে ছবি থাকার কথা। তিনি তো এই পুজোর প্রর্বতক। আমরা দেখলাম না বাঙালি নিজস্ব ঐতিহ্যর ধারক মহারাজা শশাংঙ্ক, প্রতাপদিত্যকে। বাঙালি জীবনে যে বামপন্থী অবক্ষয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে গত পঞ্চাশ বছরে এটা তারই ফল।’

ঐতিহাসিক অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে,‘মহিষাসুরমর্দিনী মা দুর্গার মূর্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে শাস্ত্র নির্দেশিত পথ নেওয়াই শ্রেয়। এখন অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মা দুর্গার হাত থেকে শিল্পী সব অস্ত্র কেড়ে নিচ্ছেন- এটা কোনমতেই মেনে নেওয়া যায় না। এই অস্ত্রহাতে মা দুর্গা তো নারী ক্ষমতায়নের সাক্ষাৎ প্রতীক। তাঁকে অস্ত্রহীনা করে দেখাবার যে চল বিভিন্ন পূজা কমিটিতে শুরু হয়েছে- আমার তো মনে হয় নারীবাদীদেরই এর প্রতিবাদ করা উচিত। আর মা দুর্গাকে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য রাখার জন্য কখনই ব্যবহার করা উচিত নয় কোন রাজনৈতিক দলের। আসলে সিপিএমের আমলেই দুর্গা পূজাকে শারদোৎসব বলার চল হয়। সনাতনী রীতিনীতি ও ঐতিহ্য মেনেই পুনরায় বাঙ্গালীর প্রাণের দুর্গা পূজা ফিরে আসুক।’

থিমপুজো কখনওই হিন্দু বাঙালির সংস্কৃতি নয় এমনটাই মনে করেন হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য। তিনি বলেন,‘ আমরা বরাররই মনে করি থিম পুজো একটা ষড়যন্ত্র। এটা আমাদের ধর্মকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার জন্য। বাঙালিকে ধর্মহীন করার চক্রান্ত। ধর্মীয় আচার ছেড়ে বাঙালি যেন উৎসবে মেতে ওঠে তা করার প্রচেষ্টা। এর জন্যই দুর্গা বাদ, পুজো বাদ হয়ে গিয়ে এখন শারদ উৎসব। এটা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মগুরুদের ভূমিকা নেওয়া উচিত। এর বিরুদ্ধে সবার এগিয়ে এসে জনমত গঠন করা উচিত।’

শিক্ষাবিদ অচিন্ত বিশ্বাস বলেন,‘ বামআমলে থেকে থিমপুজোর চক্রান্ত শুরু। দুর্গাপুজোকে অবান্তর করে এটাকে উৎসব বানাও। যাতে অন্যদের ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। হিন্দু ধর্মের বারোটা বাজানো যায়। দেবী দুর্গার পুজো এবং তার প্রতিমা নিয়ে শাস্ত্রে তার সঠিক ধারনা আছে। যা কয়েক হাজার বছর ধরে আছে। তাকে থিম পুজোর নামে বিকৃত করা হচ্ছে। যাতে ধর্মহীন হিন্দু বাঙালি সমাজ তৈরি করা যায়।’

Related Articles

Back to top button
Close