fbpx
অফবিটহেডলাইন

মা দুর্গার বিভিন্ন নাম…

দোয়েল দত্ত:  ভারতীয় শ্রাস্ত্রে চোদ্দোজন মনুর উল্লেখ আছে৷ এদের মধ্যে প্রথম মনুর সময়ে মহিষাসুর স্বর্গ দখলের লড়াইয়ে নামলেন৷ একশো বছরের যুদ্ধের শেষের স্বর্গের রাজা  ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতারা হেরে যান৷ এমতাবস্থায় আলোচনায় বসলেন ব্রাহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বররা৷ ক্রমশ এঁদের মুখমণ্ডল থেকে বেরিয়ে এল তেজ৷ ইন্দ্র আর অন্যান্য দেবতাদের শরীর থেকেও প্রচুর তেজ  নির্গত হতে থাকল৷ কথিত আছে, হিমালয়ের উত্তরভাগে ঋষি কাত্যায়নের  আশ্রমে সমস্ত তেজ এসে মিলিত হল৷ সেখানেই মা দুর্গার জন্ম৷ কিন্তু তাঁর একাধিক নাম, বিভিন্ন সময়ে ধরিত্রী তথা  ত্রিভুবনকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে দেবী ভিন্ন ভিন্ন অবতারে জন্মগ্রহন করেছেন৷ সেইসব নামের উৎস ও তাৎপর্য নিয়ে আজকের এই প্ৰতিবেদন৷

কাত্যায়নী:

ঋষি কাত্যায়নের আশ্রম সমস্ত দেবতার তেজ থেকে জন্ম মা দুর্গার৷ কাত্যায়নের আশ্ৰমে জন্মেছেন বলেই তাঁর অপর নাম কাত্যায়নী৷ বৈকৃতিক রহস্যর সমর্থিত  সূত্র জানাচ্ছে মা দুর্গার এক-একটি অঙ্গের রং এক এক রকম৷ যেই দেবতার গায়ের রং থেকে মায়ের যে অংশের উদ্ভব, তাঁর সেই অঙ্গের রং সেই দেবতার অনুসারেই হয়েছে৷

ত্রিনয়না, ত্র্যম্বকা:

চন্দ্র, সূৰ্য আর অগ্নি দেবীর তিনচোখ৷ আর সেটা আছে বলেই দেবী ত্রিনয়না, ত্র্যম্বকা৷

মহিষাসুরমর্দিনী:

মা দুর্গা এই নামেই সমধিক প্রসিদ্ধ৷ মহিষাসুরকে বধ করার জন্যই তাঁর জন্ম৷ মহিষাসুরের কাছে যুদ্ধে হেরে গিয়ে দেবতাদের তেজ থেকে মায়ের জন্ম৷ ক্রমে দেবতারা মায়ের হাতে একে একে তুলে দিলেন নিজেদের  অস্ত্র৷ যেমন মহাদেব দিলেন ত্রিশূল, ব্রুণ শঙ্খ, অগ্নি দিলেন শক্তি, পবন দিলেন ধনু আর দুটো বাণে ভরা তুনির,ইন্দ্র দিলেন ব্জ্র ইত্যাদি৷ শুধু অস্ত্র দিলেই তো হবে না, বাহনও চাই৷  দেবীর বাহন হিসাবে গিরিরাজ হিমালয় দিলেন সিংহ৷ সমস্ত অস্ত্রে সজ্জিতা  অপূর্ব তেজময়ী দেবীর গর্জনে কেঁপে উঠল ত্রিভুবন৷ মা দুর্গা প্রথমে মহিষাসুরের সৈন্যদের পরে মহিষাসুরকে বধ করলেন৷ এরপরে সকলে দেবীর স্তব করতে লাগলেন৷ দেবী তুষ্ট হয়ে বর দিলেন দেবতারা যখনই এরপর থেকে তাঁকে স্মরণ করবেন তিনি  আর্বিভূতা হবেন অশুভ-র বিনাশে৷

জয়া:

দেবী দুর্গা যখন মহিষাসুর বধের আগে  অস্ত্রে সুসজ্জিতা হলেন, তখন তাঁর উল্লাসে কেঁপে উঠল ত্রিভুবন৷ দেবতারা সেই অকুল আনন্দের জোয়ারে ভেসে গিয়ে সিংহবাহিনীর নামে জয়ধ্বনি দিলেন৷ আর সেখান থেকেই দেবীর অপর নাম হয়ে গেল জয়া৷

মধুকৈটভঘাতিনী:

মা দুর্গা মহিষাসুরমর্দিনী রূপে আবির্ভাবের আগে মধুকৈটভঘাতিনী রূপে আর্বিভূতা হন৷ বিষ্ণুর কর্ণমল থেকে মধু ও কৈটভ নামক দুই অসুরের জন্ম হল৷ আর জন্মেই তাঁরা ব্রহ্মাকে মারতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন৷ ব্ৰহ্মা তখন সৃষ্টিরক্ষার্থে মহামায়ার স্তব শুরু করলেন৷ সেই স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে দেবী নামলেন সন্মুখসমরে৷ মহামায়ার জালে পড়ে মধু ও কৈটভ বিষ্ণুকে জানালেন, যেখানে জল নেই সেখানেই আমরা তোমার বধ্য হব৷ বিষ্ণু দুই অসুরের মাথা উরুর উপর রেখে সুদর্শন চক্র দিয়ে কেটে হত্যা করলেন৷ দেবী মহামায়ার দয়া ব্যতীত বিষ্ণুর একার পক্ষে তা কখনওই সম্ভব হতো না৷ সেজন্যই তিনি মধুকৈটভঘাতিনী৷

চণ্ড-মুণ্ডঘাতিনী:

মা দুর্গা ত্রিভুবনে নযখনই বিপদ ঘনিয়ে এসছে, তখন নব নব রূপে আর্বিভূতা হয়েছেন৷ তাঁর তৃতীয় আবির্ভাব  পার্বতী ও গৌরী রূপে৷ৎ শ্রাস্ত্রে এসময় তাঁকে  ধুমলোচনঘাতিনী বলা হয়েছে৷ এই সেই সময় যখন তিনি চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করেন৷ তাই তিনি চণ্ড-মুণ্ড ঘাতিনী৷ এই অবস্থানকালে দেবী বেশ কয়েকবার নিজের রূপ বদল করেছেন কখনও অম্বিকা, কখনও কালী, অথবা চামুণ্ডা৷

নিশুম্ভ-শুম্ভঘাতিনী:

দেবীর তৃতীয় আবির্ভাব-এ তিনি প্রথমে শুম্ভ ও পরে নিশুম্ভকে বধ করে নিশুম্ভ-শুম্ভঘাতিনী নামে প্ৰসিদ্ধ হয়ে ওঠেন৷ এগুলি ছাড়াও নানান সময়ে দেবী আরও নানারূপে আর্বিভূতা হয়েছেন, যা স্থানাভাবে একসঙ্গে বলা গেল না৷

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close