fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে দিল্লিতে আটকে মা, বাড়িতে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে সন্তানরা

বিজয় চন্দ্র বর্মন , মেখলিগঞ্জঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলির রাজ্য স্তরের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় গত বছর দৌড়ে রাজ্য সেরা কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের উছলপুকুরির রত্না বর্মনের মা লক ডাউনের জেরে দিল্লিতে আটকে রয়েছেন। রত্নার বাবা নেই। অভাবের সংসার। পরিবারে দিদি ও মা রয়েছেন। দুই মেয়ের মুখে অন্ন তুলে দিতে নিরুপায় মা দিল্লি পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি পরিচারিকার কাজ করেন। এ কাজ করে যেটুকু আয় হয় তা পাঠিয়ে দেন বাড়িতে দুই মেয়ের ও বৃদ্ধা মায়ের অন্ন জোগানে।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে দেশে লকডাউন জারি হলে সে কাজও হারিয়ে দিল্লিতেই আটকা পড়েছেন রত্নার মা। রত্না ও তার দিদি বাড়িতে থাকে তাদের দিদিমার কাছে। এদিকে এই লক ডাউনে কার্যত অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে দুই বোনকে। তার মা যেমন বাড়িতে ফিরতে পারছে না তেমনি টাকাও দিতে পারছে না। কারণ যেটুকু হাতে ছিল সেটুকু দিয়ে নিজের খরচ চালানোর পর এখন তার মায়ের কাছেও টাকা নেই।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের উছলপুকুরির এক প্রত্যন্ত এলাকার প্রাথমিক স্কুল থেকে রাজ্য স্তরের খেলায় অংশ নিয়েছিল রত্না। কলকাতার সাইয়ের প্রশিক্ষণের মাঠে ২০১৯ সালের ২০ ও ২১ ডিসেম্বর দু’দিন ব্যাপী রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক স্কুল সমূহের এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে বালিকা ‘ খ ‘ বিভাগে ১০০ মিটার দৌড়ে রাজ্য সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছিল রত্না বর্মন। সে সময় নানা মহল থেকে কিছু অর্থ সাহায্য ও সংবর্ধিত করা হয়েছিল এই খুদে খেলোয়াড়কে। কিন্তু বর্তমানের দুঃসময়ে তাদের দুবেলা অন্ন জোগাতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেও তাদের কেউ খোঁজ নিচ্ছে না বলে তারা জানিয়েছে।যে প্রাথমিক স্কুল থেকে লড়ে সে রাজ্য চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সেই স্কুলের পাশেই এক চিলতে ভাঙ্গাচোরা ঘরে তারা বাস করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রত্নারা তিন বোন। তাদের কোনও ভাই বা দাদা নেই। বোনেদের মধ্যে রত্নাই সবচেয়ে ছোটো। বড় দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে।আর এক দিদি অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। রত্না এখন তার দিদির স্কুলেরই পঞ্চম শ্রেনিতে পড়ে। দশ বছর আগে অসুখে ভুগে তার বাবা মারা গিয়েছেন। স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর তিন মেয়েকে মানুষ করতে তার মা দিল্লিতে যান ও পরিচারিকার কাজ নেন। বৃদ্ধা মায়ের কাছে দুই মেয়েকে রেখে তিনি দিল্লিতে যান। বর্তমানেও তিনি দিল্লিতে রয়েছেন। লক ডাউনের জন্য তিনি বাড়ি ফিরতে না পারায় মেয়েদের জন্য উৎকন্ঠায় রয়েছেন তিনি। তার অভুক্ত মেয়েদের পাশে দাঁড়ানোর কাতর আবেদন জানিয়েছেন নানা স্তরে।

 

এ বিষয়ে কোচবিহার জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক জ্যোতির্ময় তাঁতি বলেন, ‘ মেয়েটি ক্রীড়া জগতে জেলার নাম উজ্জ্বল করেছে। ওর পরিবারের আর্থিক অভাবের কথা শুনেছি। খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’

Related Articles

Back to top button
Close