fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মেদিনীপুরের প্রবীণ তৃণমূল নেতা মৃগেন মাইতির প্রয়াণে শোকপ্রকাশ মমতার

সুদর্শন বেরা, পশ্চিম মেদিনীপুর: মেদিনীপুরে বর্ণময় এক অধ্যায়ের অবসান হল। সোমবার প্রয়াত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মেদিনীপুরের প্রবীণ বিধায়ক মৃগেন মাইতি। মৃত্যুকালে  তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। মৃগেন মাইতির জন্ম ও পড়া শুনা করে বড় হয়ে ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের জাগুল গ্রামে।তাদের পারিবারিক ব্যবসা ছিল পরিবহন।  মৃগেন মাইতি  ডেবরা ব্লকের বালিচক ভজহরি হাই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।তিনি কিছুদিন শিক্ষকের চাকরি করার পর শিক্ষক এর চাকরি ছেড়ে মেদিনীপুরে কালেকটরিতে অফিসে চাকরি তে যোগদান করেন। সেই সঙ্গে মেদিনীপুর পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের সিপাইবাজার এলাকায় বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন।তিনি তার ভাইদের নিয়ে একই সঙ্গে বসবাস করতেন।২০০৬ সালে প্রথম ডেবরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের  প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে   মৃগেন মাইতি হেরে যায়।এরপর ২০১১  ও ২০১৬ সালে মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে পরপর দুইবার বিধায়ক নির্বাচিত হন মৃগেন মাইতি।

 

তিনি মৃত্যুর দিন পর্যন্ত মেদিনীপুরের বিধায়ক ছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি ছিলেন মেদিনীপুর খড়গপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান। এছাড়াও মেদিনীপুর পৌরসভার প্রশাসক বোর্ডের সদস্য মৃগেন মাইতি।তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারি কর্মচারী সংগঠনের এক সময় রাজ্য সভাপতি ছিলেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি হয়েছিলেন। এ ছাড়াও তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলে।ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃগেন মাইতি কে মৃগেন দা বলে ডাকতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কয়েকদিন আগে তাকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । ৭ ডিসেম্বর সোমবার দুপুর নাগাদ মৃগেন মাইতি কলকাতার পিজি হাসপাতালের আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি মৃত্যকালে তার স্ত্রী সহ অন্যান্যদের রেখে গেছেন। তাই মৃগেন মাইতির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃগেন মাইতির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শোক প্রকাশ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, খড়গপুর গ্রামীণের বিধায়ক দিনেন রায় সহ একাধিক বিধায়ক ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানান ।

 

সেই সঙ্গে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম লগ্ন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিযেন এবং তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা ভেঙে ঝাড়গ্রাম জেলা হয়েছে। এই অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার বাম বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম নেতা। তিনি মেদিনীপুর  শহরের রবীন্দ্রনগর এলাকায় ফেডারেশনের কার্যালয়ে বসে তিনি কাজ করতেন। মৃগেন মাইতি বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অনেক উন্নয়ন করেছেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো মেদিনীপুর বিধানসভার অন্তর্গত শালবনি ব্লকের গড়মাল গ্রামের পানীয় জলের সমস্যা সমাধান তিনি করেছেন ।তিনি মানুষের অভাব অভিযোগ শুনতেনএবং অসহায় মানুষের পাশে থাকতেন। তার মৃত্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসে এক শূন্যতার সৃষ্টি হল এবং তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ভালো মানুষ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। এক সময় মেদিনীপুরের সিপিএম দলের জেলা সম্পাদক দীপক সরকার কে পায়ে হাত দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন। সেটা নিয়ে বহু সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল তাতেও তিনি কান দেননি।

 

তিনি বলেন দীপক বাবু একজন শিক্ষক এবং রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রেখে অধ্যাপক দীপক সরকার কে প্রণাম করে তিনি কোনো ভুল কাজ করেননি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর খোঁজখবর নিতেন। যখন মেদিনীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করছেন তখন  বিধায়ক মৃগেন মাইতি র মৃত্যুসংবাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ব্যথিত করেছে। তাই তার  মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মেদিনীপুর কলেজ মাঠে জনসভা শেষ করে  প্রয়াত বিধায়ক মৃগেন মাইতির মেদিনীপুর শহরের সিপাই বাজারের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী ।তিনি বিধায়কের পরিবার বর্গকে সমবেদনা জানান এবং তার পরিবারের  পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মৃগেন মাইতির আত্মার শান্তি কামনা করেন।

Related Articles

Back to top button
Close