fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রেল বোর্ড কেলেঙ্কারি মামলায় আলিপুর আদালতে কলকাতা পুলিশের চার্জশিটে নাম বাদ মুকুল রায়ের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা: ২০১৯ সালে প্রকাশ্যে আসা রেল বোর্ড কেলেঙ্কারি মামলায় অন্যান্য বিজেপি নেতাদের সেভাবে জিজ্ঞাসাবাদ না করা হলেও বিভিন্ন থানায় ডেকে মুকুল রায়কে ডেকে একাধিক বার জেরা করেছিলেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। এমনকি পরে আদালতে সাক্ষী দিতে না আসায় তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয়েছিল গ্রেফতারি পরোয়ানাও। কিন্তু কাকতালীয় ভাবে সেই মামলাতেই শুক্রবার কলকাতা পুলিশের চার্জশিট পেশের সময়ে বাদ গেল তাঁর নাম। সদ্য কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়ের কাছে এই খবর স্বাভাবিক ভাবেই অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে।
 সূত্রের খবর,  শুক্রবার দুপুরে আলিপুর আদালতে ৮ পাতার চার্জশিট পেশ করল পুলিশ। চার্জশিটে নাম নেই মুকুল রায়ের। তবে নাম রয়েছে বাবান ঘোষ, রাহুল সাউ, সাদ্দাম হোসেন, কমল হোসেন আনসারি (পলাতক)-র নামে ৪ জনের। চার্জশিটে পুলিশ জানিয়েছে, কমলের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছিল। ৪ টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত হয়েছে, সেখানে বেশ কিছু ভয়েস রেকর্ডিংও রয়েছে। সেই রেকর্ডিংগুলো টেস্টের জন্য চন্ডিগড়ে ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হবে। তবে তার মধ্যে মুকুল রায়ের আওয়াজ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই কারণে তার নাম সন্দেহের তালিকায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে বড়বাজারে রেলের এক আধিকারিকের কাছ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। পুলিশ দাবি করে, এই ঘটনায় সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে মুকুল রায়ের। বেশ কয়েকবার জেরার পর মামলার সাক্ষী হিসেবে ডেকে পাঠানো হয় মুকুল রায়কে। তবে তিনি দিল্লির বাসিন্দা হওয়ার কারণ দেখিয়ে আসতে চাননি মুকুল। তারপর তাকে বেশ কয়েকবার হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়।
এরপর ২০১৯ ফ্রেব্রুয়ারি ব্যাঙ্কশাল আদালত তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে। তাকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেন মুকুল। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই তার বয়স ৬৫ হয়ে গিয়েছে। তাই যেখানে তিনি ইচ্ছুক সেখানেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। সেই মামলায় তাঁকে ১০ দিনের রক্ষাকবচ দেয় আদালত। সেইসঙ্গে কলকাতায় মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়। হাইকোর্টে মামলা করেন মুকুল রায়। বিচারপতি রাজশেখর মান্থার সিঙ্গল বেঞ্চ গ্রেফতারি পরোয়ানা খারিজ করে দেয়। আর এবার চার্জশিটেও উধাও হয়ে গেল তার নাম।

Related Articles

Back to top button
Close