fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মহানন্দা নদীর জলে প্লাবিত মালদার একাধিক ব্লক

নিজস্ব প্রতিবেদক, মালদা: মহানন্দা নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সংকেত জারি। ইংরেজবাজার পৌরসভার ৮,৯,১৩,২১ নম্বর ওয়ার্ড গুলির অন্তর্গত বালুচর, সদরঘাট, গয়েশপুর সহ বেশ কিছু এলাকায় জলমগ্ন হয়ে গেছে। পাশাপাশি পুরাতন মালদার পুরো এলাকার, সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত, আইহো গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু অংশ জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে মহানন্দা নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ফুলহার নদীর জল। ফলে রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রতিবছর মহানন্দা নদীর তীরবর্তী এলাকায় জল ঢুকে প্লাবিত হয়। এবছর ব্যতিক্রম নয়। ইংরেজবাজার পৌরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের মানুষ ইতিমধ্যেই মহানন্দ জলে প্লাবিত হয়েছে। যদিও তারা সেখান থেকে সরে এসেছে। ওই এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব মণ্ডল জানান, এবছর মহানন্দা নদীর জল অনেক আগে থেকেই বাড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি সেই জলে বালুচর, সদরঘাট এলাকার বহু মানুষ প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই মানুষেরা স্থানীয় ক্লাব ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে যেভাবে জল বারছে আগামী দিনে ভয়ঙ্কর আকার নেবে।

অন্যদিকে রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের, মহানন্দ টোলা, বিলাই মারি, জঞ্জালীটোলা দেবীপুর, সূর্যাপুর সহ নদী তীরবর্তী অসংরক্ষিত এলাকায় ইতিমধ্যেই হলুদ সংকেত জারি করা হয়েছে সেচ দপ্তরের পক্ষ থেকে। ওই এলাকার মানুষেরা নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর ফুলহার ও গঙ্গা নদীর ধারে এবছরও তার ব্যতিক্রম নয়। শুরু হয়েছে নদীর জল বারা। আর যার ফলে চাষের জমি ও বসত ভিটার অনেকটাই জলের তলে তলিয়ে গেছে। আর যার ফলে চাষবাস হারিয়েছে অনেকে। সমস্যায় পড়তে হচ্ছে এলাকার মানুষদের। অন্যদিকে গঙ্গার জল কমায় মানিকচক, কালিয়াচক ৩ নম্বর, ও ২ নম্বর ব্লকের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটা নতুন কিছু নয়। প্রতিবার বন্যা মোকাবিলা ভাঙ্গন মোকাবিলা নামে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছে গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের ছোট-বড়-মাঝারি নেতারা। এই টাকার ভাগ ওদের রাজ্য নেতারাও পেয়েছে। যদি সঠিক ভাবে বন্যা মোকাবেলার জন্য পরিকল্পনা করা হতো। তাহলে বাৎসরিক এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। আর কয়েকটা মাস এই দুর্নীতি গ্রস্ত সরকারের হাত থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে বিজেপি আসছে।

মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গা নদীতে নদীর আপ স্ট্রিমে ভুতনির হিরানন্দপুর থেকে নদীর ডাউন স্ট্রিমে মুর্শিদাবাদের টলটলি পর্যন্ত ভাঙ্গন মোকাবিলার কাজ করে ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। এই ফারাক্কা ব্যারেজ কেন্দ্রীয় সরকারের জলসম্পদ দপ্তরের অধীন। প্রথম ইউপিএ সরকারের আমলে তৎকালীন জল সম্পদ মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির উদ্যোগে ভাঙ্গন মোকাবেলার কাজ ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ শুরু করে। কিন্তু এই সরকার আসার পর থেকে দেখছি তারা উদাসীন। আসলে বাংলাকে বঞ্চিত করায় ওদের কাজ। আর সাংসদ যা বলছে ভিত্তিহীন অভিযোগ। উনি বন্য ভাঙন নিয়ে সংসদে কটা প্রশ্ন করেছেন। চোরের মুখে ধর্মের কাহিনী মানায় না। গোটা জেলায় মানুষ যাতে সংরক্ষিত জায়গায় পৌঁছে যায় সেই ব্যবস্থা করছে জেলা প্রশাসন।

Related Articles

Back to top button
Close