fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দী মৃতদেহ উদ্ধার, আটক অভিযুক্ত জ্যাঠার পরিবার, উত্তপ্ত রনডিহা

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: দু’দিন ধরে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দী মৃতদেহ উদ্ধার হল রাস্তার পাশে ঝোঁপে। শিশুটির জ্যাঠা, জ্যাঠিমা ও জ্যাঠাতুতো বিরুদ্ধে উঠেছে খুনের অভিযোগ।রবিবার ঘটনাটিকে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল বুদবুদের রনডিহা গ্রাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে পুলিশকে মৃতদেহ নিয়ে যেতে বাধা দিল উত্তেজিত গ্রামবাসীর। পুলিশের গাড়ী আটকে বিক্ষোভ দেখালে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। অভিযুক্তের বাড়ী ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। রনডিহা জলাধার যাওয়ার রাস্তার পাশে ঝোঁপ থেকে বস্তাবন্দী মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহটি প্লাস্টিক প্যাকেটে মোড়া ও বস্তাবন্দী অবস্তায় ছিল। প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা পর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, মৃত শিশুর নাম সানি বাগদী(৭)। তার বাবা দেবজিৎ বাগদী, মা চম্পা বাগদী পেশায় দিনমজুর। গত ১৪ আগষ্ট বাড়ী থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবার সুত্রে জানা গেছে, ওইদিন জঙ্গলে জ্বালানির খোঁজে গিয়েছিল সানির মা-বাবা। শিশুটি বাড়ীতে ঠাকুমার কাছে ছিল। সেখান থেকে প্রতিবেশী তার জ্যাঠাতুতো দাদার ছেলের সঙ্গে খেলা করছিল বলে । শিশুটির বাবা দেবজিৎ বাগদীর অভিযোগ,” দুপুরে বাড়ি ফিরে ছেলেকে আর খুঁজে পাই না। আশপাশে বাজার, পুকুর সব তল্লাশী করা হয়। কিন্তু খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারি আমার ছেলে পাশের বাড়িতে ভাইপোর ছেলের সঙ্গে খেলছিল। তাদের জিজ্ঞাসা করতেই অস্বীকার করে। পরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়।” এদিকে ঘটনার তদন্ত শুরু করে বুদবুদ থানার পুলিশ।

তদন্তে পুলিশ পরিবারের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শিশুটির জ্যাঠাতুতো দাদা নিলু বাগদীকে শনিবার আটক করে নিয়ে যায়। রবিবার সকালে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী আটক নিলু বাগদীর বাড়িতে রক্তমাখা বাঁশের বেত উদ্ধার করে। আর তার পর থেকে গোটা এলাকায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিলু বাগদীর বাড়ী ঘেরাও করে রাখে উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ নিলু বাগদীর মা-বাবাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এদিকে অভিযুক্তের শাস্তির দাবীতে ও মৃতদেহ উদ্ধারের দাবীতে সরব হয় এলাকাবাসী। উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। আশপাশের গ্রাম থেকে কাতারে কাতারে লোকজন আসতে শুরু করে।

শিশুটির বাবা দেবজিত বাগদী অভিযোগে জানান,” মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। তারপর প্রমান লোপাটের জন্য প্ল্যাস্টিকে মুড়ে, বস্তাবন্দী করে রাস্তার পাশে ঝোপে ফেলে দিয়েছিল।

এদিকে পুলিশ মৃতদেহ গাড়ীতে তুলতেই এলাকাবাসী গাড়ীটি আটকে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পুলিশ গাড়ীটি পিছিয়ে কিছুটা দুরে জেলা পরিষদের বন্ধ অতিথীশালায় ঢুকে পড়ে। প্রায় হাজার দুয়েক লোক গোটা এলাকা ঘিরে রাখে। ওই অতিথীশালার রাস্তার ওপর শুয়ে পড়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী। অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা।

এসিপি শ্বাশতী শ্বেতা সামন্ত জানান,” প্রাথমিক অনুমান পারিবারিক বিবাদের জেরে খুন। ঘটনার তদন্ত চলছে। নিলু বাগদীকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

Related Articles

Back to top button
Close