fbpx
অসমগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

যৌতুকের দাবি না মেটায় পাঁচ মাসের সন্তান সহ স্ত্রীকে খুন, চাঞ্চল্য অসমের বদরপুরে

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, বদরপুর: যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় লোমহর্ষক জোড়া খুনের ঘটনা। চাঞ্চল্য অসমের বদরপুর এলাকায়। পাঁচ মাসের সন্তানও রেহাই মিললো না নৃশংস ঘটনার হাত থেকে। হ্যাঁ, পাঁচ মাসের সন্তানকে খুন করে কাটাখালের হাওরে ভাসিয়ে দিল পাষণ্ড পিতা। এখানেই শেষ নয়। শিশুটির মা-কে হত্যা করে গুম করেছে সেখান থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে মুর্গপুরের এক রবার বাগান সংলগ্ন পাহাড়ি ঝিলে। যৌতুক ইস্যুকে কেন্দ্র করে রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক জোড়া খুনের পর থেকে পলাতক হাশিম আলি। পাঁচগ্রাম থানা এলাকার হুড়িয়ারপারে তার মূল বাড়ি।

বছর দশেক আগে বদরপুর থানা এলাকার বাশাইল নয়াগ্রামের সফিক আলির মেয়ে কবিরুন নেছাকে ইসলামী রীতিনীতি মেনে বিয়ে করে কাটাখাল হুড়িয়ারপার গ্রামের মৃত ঈমান উদ্দিনের ছেলে হাশিম আলি। বিয়ের পর বহু দিন তাদের সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু গত মার্চ মাসে কোভিড১৯ লকডাউন শুরু হতেই হাশিম আলি তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে। ব্যাপারটা গোপন থাকেনি। এ নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার সামাজিক বিচার হয়। এর পর আরও কয়েক দিন মোটামুটি স্বাভাবিক ভাবেই অতিবাহিত হয়। গত ১৬ জুলাই বিকেল দুটায় হাশিম আলি ও তার মা বিলই বিবি মিলে কবিরুননেছাকে বেধড়ক মারপিট করেন তাদের নতুন বাড়ি বদরপুর থানা এলাকার মুর্গপুরে। মারপিটের খবর পেয়ে কবিরুন নেছার বৃদ্ধ পিতা সফিক আলি (৭৩) মুর্গপুরে যান। এসে দেখতে পান মেয়ে কবিরুন নেছা সহ নাতি নাতনিরা ঘরে নেই। জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, ‘ওদেরকে আপনার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:২০২১-এর আগে মিলবে না করোনা ভ্যাকসিন: WHO

কিন্তু সফিক আলি বাড়িতে এসে কাউকে পাননি। তিনি এরপর অনেক খোঁজ খবর করেন। শেষ পর্যন্ত গত ১৯ জুলাই মেয়ে ও পাঁচ মাসের নাতি জুনাইদ আহমদের নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি এজহার দেন বদরপুর ( Badarpur ) থানায়। ২০ জুলাই কাটাখাল রেল লাইনের পাশে জলাশয়ে পাঁচ মাসের জুনেদের মরদেহ উদ্ধার হয়।

এরপরই সবার সন্দেহ হয় যে হাশিম আলির শিশু পুত্রের যেহেতু মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, তাহলে হয়তো স্ত্রীকেও ওরা হত্যা করে লুকিয়ে রেখেছে।
সেই আশঙ্কা করে কবিরুন নেছার বাবার বাড়ির বাশাইল নয়াগ্রাম এলাকার মানুষ এককাট্টা হয়ে মুগ্রপুরের তার বাড়ির লাগোয়া রাবার বাগান সহ পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে খোঁজ খবর করতে শুরু করেন। কিন্তু কোনও সুলুক সন্ধান পাননি। আজ ২২ জুলাই ফের রাবার বাগান সহ পার্শ্ববর্তী জলাশয়ে খোঁজ শুরু করলে একটি ঝিলের মধ্যে থাকা ট্যাঙ্কির ভিতর বস্তাবন্দি অবস্হায় কবিরুনের পচাগলা লাশ উদ্ধার হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্হলে পৌছান বদরপুর থানার এস আই অনুপজ্যোতি কলিতা, এ এস আই সামছুল হক। তারা মৃতদেহ উদ্ধার করে মুর্গপুর গ্রামের পুর্ত সড়কে নিয়ে আসেন। সেই সময় কয়েক হাজার লোক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এখানে বদরপুর সার্কেল ওফিসার দীপমালা গোয়ালা এবং ওসি বি কে বর্মণ মৃতদেহের ইনকোয়েষ্ট করেন। পরে পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এই ঘটনায় দক্ষিণ বদরপুর এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘাতক হাশিম আলি জোড়া খুন করেই গা ঢাকা দিয়েছে। হাশিমের মুর্গপুরের বাড়িতে কেউ নেই। সফিক আলি এই প্রতিবেদক সেলিম আহমদকে (Salim Ahmed) বলেন, বারবার বিচার সভা বসালেও তাঁর জামাতা হাশিম কিন্তু একের পর এক অন্যায় আবদার করে যাচ্ছিল। তাই কবিরুন নিখোঁজ হতেই তিনি বিপদের আঁচ করেছিলেন। সেই আশঙ্কাই সত্য হল। ঘাতক হাশিমকে গ্রেফতার করে চূড়ান্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন তিনি।

Related Articles

Back to top button
Close