fbpx
দেশহেডলাইন

ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাইছেন মুসলিম বুদ্ধিজীবীরা

মোকতার হোসেন মন্ডল: ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হোক, এমনটাই চাইছেন মুসলিম বুদ্ধিজীবীরা। হাথরসের ঘটনার পর মুসলিম সংগঠনগুলি ও সমাজকর্মীরা বলছেন, ধর্ষণের শাস্তি এমন হোক যাতে কেউ ধর্ষণ করার সাহস না দেখাতে পারে। এ বিষয়ে আলিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আয়াতুল্লাহ ফারুক বলেন, “ধর্ষকের চরম ও কঠোর শাস্তি হোক প্রকাশ্য দিবালোকে। ধর্ষণের ঘৃণ্য চিন্তা যেন কারোও মাথাতেই না আসে।”

অন্যদিকে ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক অধ্যাপক ইমানুল হক বলেন, “জনসচেতনতা বৃদ্ধি দরকার। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আন্তর্জালে নীল ছবির প্রদর্শনী বন্ধ করতে হবে। নারী মানেই পণ্য নয়, তা বোঝানো প্রয়োজন। যে-কোনোও পণ্যের সঙ্গেই অকারণ নারী শরীরের প্রদর্শণ বন্ধে কঠোর আইন আনা। এছাড়া গ্রাম শহর মহল্লায় নারী ও পুরুষের সম্পর্ক মানে শুধু যৌনতা নয় তা বোঝানো। ভাই, বোন, মা, ছেলে পিসি, ভাইপো, মাসি, বোনপো বা বন্ধুর সম্পর্কও হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞাপণ দেওয়া, প্রচার চালানো প্রয়োজন। আবার আমানত ফাউন্ডেশনের কর্ণধার, বিশিষ্ট সমাজকর্মী শাহ আলমের মন্তব্য, সুবিচারের উপর জোর দিতে হবে। ধর্ষণের এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে সেটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক বলেন, “হাথরসের ধর্ষণের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লজ্জার। এই মুহূর্তে সারা দেশজুড়ে ধর্ষণের বিরুদ্ধে উত্তাল গণআন্দোলন দরকার। এমন আইন দরকার যেখানে কেউ নারীদের উপর নোংরা চোখ তুলে তাকাবে না। আন্দোলন এমন হওয়া উচিত যাতে পুলিশ, প্রশাসন অপরাধীদের ছেড়ে না দেয়। এমন একটা সমাজ গড়তে হবে যেখানে ধর্ষণ দূরে থাক, পথে ঘাটে দিনে রাতে নারী একাকিনী যাবে কেউ কটূ কথা পর্যন্ত বলবে না।”

[আরও পড়ুন- গলসিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা যাত্রীবাহী বাসের, আহত দুই শিশু সহ ২০ জন যাত্রী]

জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সম্পাদক আলমগীর সরদার বলেন, “যেকোনো ধর্ষণই ভয়াবহ অপরাধ। ধর্ষকদের চূড়ান্ত সাজা হওয়া উচিত।” উত্তরপ্রদেশের হাথরসে যে ধর্ষণ হয়েছে তা শুধু জোরপূর্বক, যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া নয়, পরিকল্পিত গ্যাং রেপ। শুধু গ্যাংরেপ বললেও কম বলা হয়। এই গ্যাংরেপ পশুপ্রবৃত্তিকে হার মানিয়েছে। মেয়েটিকে ঘাড় মটকে, কোমর ভেঙে, জিভ কেটে যে পাশবিক অত্যাচার এই নরপিশাচরা করেছে তার জন্য তাদের চূড়ান্ত সাজার দাবি করছি।

এই সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে সঙ্গে সে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের আচরণ হতবাক করে দিয়েছে। প্রথমত অজ্ঞাত কারণে হাসপাতাল পরিবর্তন করা, মৃত্যুর পরে তার লাশকে পরিবারের হাতে তুলে না দেওয়া, রাতের অন্ধকারে ধর্মীয় রীতি নীতি না মেনে তার লাশকে জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে দেওয়া, তার পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা লিখে নেওয়া, ধর্ষণ হয়নি বলে মন্তব্য করা, এলাকাতে মিডিয়াকে ঢুকতে না দেওয়া, বিরোধী দলকে সেখানে পৌঁছতে না দেওয়া, এসব কিছুই করা হয়েছে ধর্ষকদের আড়াল করার জন্য। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এসব গুলো করা হয়েছে সরকার উলঙ্গ হয়ে যাওয়ার ভয়ে। আমরা চাই গোটা ঘটনার পিছনে যারা যারা দায়ী তাদের যথোপযুক্ত সাজা হোক।”

মুসলিম পার্সোনাল বোর্ডের মহিলা শাখার সদস্যা উজমা আলম বলেন, এখন প্রতিবাদের সময়। রাস্তায় নেমে ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে নারীদেরও।” জানা গেছে, বেশ কিছু মুসলিম সংগঠন, ধর্ষণমুক্ত ভারতবর্ষের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনে নামছে।

 

Related Articles

Back to top button
Close