fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভাতারে শ্বশুরবাড়িতে বধূর রহস্যমৃত্যু, চাঞ্চল্য এলাকায়

দিব্যেন্দু রায়, ভাতার: শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল এক গৃহবধূর। ঘটনাটি ঘটেছে ভাতার থানা এলাকার খেড়ুর গ্রামে। মৃতার নাম কবিতা বসু(৪৯) । বুধবার সকালে বাড়ির রান্নাঘরের মধ্যে বধূকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। মৃতার বাবা-মায়ের অভিযোগ স্বামী ও শাশুড়ি মিলে কবিতাদেবীকে মেরে ফেলেছে। অন্যদিকে মৃতার ছেলেমেয়ের দাবি তাদের মা আত্মঘাতী হয়েছেন। যদিও এই ঘটনায় এদিন বিকেল পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে। পুলিশ দেহটির ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, ভাতার থানার কানপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহন মাঝি ও তার স্ত্রী মিনতিদেবীর মেজ মেয়ে কবিতাদেবী। বছর ত্রিশ আগে খেড়ুর গ্রামের বোস পাড়ার বাসিন্দা শ্রীধর বসুর ছেলে তাপসের সঙ্গে বিয়ে হয় কবিতাদেবীর। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে সুমন্ত বড়৷ মেয়ে চিত্রলেখার বিয়ে হয়ে গেছে। কবিতাদেবীর ছেলে ও স্বামী দুজনেই ব্যাবসা করেন। ছেলে সুমন্ত বৈদ্যুতিক সামগ্রী ভাড়ায় খাটায় । স্বামীর পান বিড়ির দোকান রয়েছে। বাড়ির কিছুটা পাশেই রয়েছে বাবা ও ছেলের দোকান।

মৃতার বাবা মোহন মাঝি জানিয়েছেন, তাঁর জামাই মদের নেশায় আসক্ত ৷ প্রতিদিন মদ খেয়ে এসে তাঁর মেয়ের উপর অত্যাচার করত। তারই জেরে মাস দুই তিন আগে হাঁড়ি আলাদা হয়ে যায়। তার মেয়ে ও নাতি আলাদা খেত। অন্যদিকে জামাই ও জামাইয়ের মা আলাদা রান্নাবান্না করত। পাশাপাশি তিনি বলেন, “জামাইয়ের বাবা সরকারি চাকরি করত। বছর ৪-৫ আগে তিনি মারা গেছেন ৷ বর্তমানে পেনশন পান জামাইয়ের মা। জামাইয়ের ব্যাবসার আয় ও পেনশনের টাকায় জামাই ও তার মায়ের ভালোভাবে চলে গেলেও আমার নাতির স্বল্প রোজগারে কবিতাকে অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হত। তা সত্ত্বেও জামাই প্রতিদিন মদ খেয়ে এসে মেয়ের উপর অত্যাচার করত ।”

মৃতার ছেলে সুমন্ত জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই তার বাবা ও মায়ের মধ্যে ঝগড়া চলছিল। তারপর খাওয়া দাওয়ার পর তাদের দু কামরার মাটির চিলেকোঠা বাড়ির উপর তলার ঘরে তিনি শুতে চলে যান ৷ নিচের ঘরে তার মা শুয়েছিলেন। বারান্দায় শুয়েছিলেন তার বাবা । কিছুটা পাশে একটা পৃথক ঘরে ছিলেন তার ঠাকুমা। তিনি বলেন, ” হঠাৎ রাতের দিকে মা জোরে চিৎকার করে উঠলে আমি নিচে নেমে আসি । তখন মাকে খুব বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল ৷ সেই কারনে এদিন ভোর চারটে পর্যন্ত আমি মায়ের পাশেই ছিলাম । মা ঘুমিয়ে গেলে তখন আমি উপরে চলে যাই ৷ শোয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই আমি ঘুমিয়ে পড়ি। তারপর সকালে ঠাকুমা আমাকে খুব জোরে ডাকাডাকি করতে থাকলে আমি দ্রুত নিচে নেমে আসি । তখন রান্নাঘরে মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই ।” সুমন্ত ও তার বোনের দাবি তাদের মা আত্মঘাতী হয়েছেন।

যদিও মৃতার বাবা মোহন মাঝির অভিযোগ, জামাই ও জামায়ের মা মিলে তার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। এনিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন মোহনবাবু ৷ পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে।

Related Articles

Back to top button
Close