fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে খুন নারী সাংবাদিক, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: সাংবাদিকদের রক্তে রক্তাক্ত হয়ে উঠছে পাকিস্তানের মাটি। গত রবিবার একই ঘটনা ঘটেছে বালুচিস্তানের তুরবাত অঞ্চলে। শাহিনা শাহিন বালোচ নামে একজন মহিলা সাংবাদিককে রহস্যজনকভাবে খুন করা হয়েছে। তবে, তাঁকে কে বা কারা গুলি করে হত্যা করেছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য।

জানা যাচ্ছে, তরুণী সাংবাদিক শাহিনা শাহিন সাংবাদিকতা ছাড়াও একজন নামী শিল্পী ও সমাজকর্মী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ‘দাসগোহার’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এর পাশাপাশি পিটিভি বোলান চ্যানেলের একটি শোয়ের সঞ্চালিকার দায়িত্বও পালন করছিলেন। নারীদের সমান অধিকার নিয়ে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন সাংবাদিক শাহিনা। নারীদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বহু প্রতিবাদী মিছিলের তিনি আয়োজক ছিলেন। পাশাপাশি বালুচিস্তানের নারীদের অধিকারের ওপর যেন নতুন আইন পাস করানো হয়, এই বিষয়ের ওপরও দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আঘাতে আক্রান্ত ওই তরুণী সাংবাদিককে তুরবাতের সিভিল হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গেছে তাঁর শরীরে দুটি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিন্দনীয় ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন অসংখ্য সাংবাদিক সমাজকর্মী এবং নেটিজেনরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বালুচিস্তানকে সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের মধ্যে অন্যতম কঠিন ও বিপদসঙ্কুল জায়গা বলে বিবেচনা করা হয়। এর আগেও এই অঞ্চলে বহুবার সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বহু সাংবাদিককে হত্যাও করা হয়েছে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্যারিসের একটি সংবাদ সংস্থা সরাসরি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে- পাকিস্তান এবং সে দেশের সেনাপ্রধানরা স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করেন না। সূত্রের খবর, শুধু শাহিনা শাহীন হত্যা নয়, গত শুক্রবার ইসলামাবাদ থেকে সাজিত গোন্ডাল নামের একজন প্রাক্তন সাংবাদিক উধাও হন। এর আগেও পাকিস্তানে বহু সাংবাদিক খুন হয়েছেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন সময় গুম করা হয়েছে অসংখ্য সাংবাদিককেও। ‘বালোচ ন্যাশনালিস্ট গ্রুপ’ এর তরফে এই তরুণী সাংবাদিক-শিল্পীর হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তাঁদের দাবি এই ঘটনার পেছনে নাকি হাত রয়েছে পাকিস্তান সেনার। যদিও পাকিস্তানি সেনা কর্তৃপক্ষের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close