fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বক্সা বাঘ বনেফের রহস্য মৃত্যু বুনো হাতির

আলিপুরদুয়ার:  মাঝে মাত্র দিন কয়েকের ব্যবধান। আবারও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলের লাগোয়া লোকালয়ে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল এক বুনো হাতির। এবার ঘটনাস্থল জেলার কুমারগ্রাম ব্লকের মারাখাতা এলাকার কাঞ্চিবাজার এলাকায়। বুনো মাখনা হাতির বয়স ছিল ২০ থেকে ২২-এর মধ্যে। জানা গেছে স্থানীয় রবীন্দ্র রাই জমিতে কাজ করতে যাবার সময় হাতিটিকে পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে তার মনে হয়েছিল হাতিটি ক্ষেতে বসে রয়েছে। পরবর্তীতে অনান্য বাসিন্দাদের সাথে জমিতে গেলে মৃত হাতিটিকে দেখতে পেয়ে বনদফতরকে খবর দেয়।

এদিকে বনাধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে হাতির মৃত্যুর পরিপেক্ষিতে সকালেই স্থানীয় এক গ্রামবাসীকে আটক করেছে বনদফতর। দুপুর ৩টার পর থেকেই হাতির দেহের ময়নাতদন্ত শুরু হয়েছে ব্যাঘ্র প্রকল্পের সাউথ রায়ডাক রেঞ্জের জঙ্গলে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, বুনো হাতির মৃত্যু হয়েছে বিদ্যুৎ বেড়ার সংস্পর্শে আসায়। আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের সভাপতি অমল দত্ত বলেন,বেশ কিছু ফটো আমরা দেখেছি।খুব পরিস্কার দেখা যাচ্ছে একটি ক্ষেতের ভেতর মুখ থুবরে, মাটিতে কার্যত মুখ গুজে পরে রয়েছে অবলা প্রানীটি।এইভাবে হাতির স্বাভাবিক মৃত্যুর দৃশ্য অন্তত আমরা দেখিনি। আমাদের পরিস্কার মনে হচ্ছে হাতিটিকে হয় বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে নয়তো বিদ্যুৎ শক লেগেই মারা গেছে।”

বক্সাতে কিছুদিন আগেই তুরতুরি এলাকায় একটি মাখনা হাতির মৃত্যু হয়।যদিও সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবেই মৃত্যু হয়েছিল বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জানতে পারে বনদফতর। তবে অবশ্যই প্রশ্ন উঠেছিল অল্প বয়সী একটি মাখনা হাতির আচমকাই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হবে কেন? মারাখাতা এলাকার অন্য কোথাও শক্তিশালী অবৈধ বিদ্যুৎ বেড়ার অস্তিত্ব তেমন একটা মেলেনি।তবে আটক হওয়া ব্যক্তির বাড়িতে তেমনই বেড়ার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।তাতেই সন্ধেহ আর গার হয়। প্রকৃতি প্রেমীকদের একটি অংশের অভিযোগ, মানুষই জঙ্গলের জমি দখল করে চাষাবাদ করছে।মারাখাতা এলাকার মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে বক্সার জঙ্গল। সারাবছর হাতির করিডোরে থাকা এলাকার উপর দিয়ে বুনো হাতিরা চলাচল করে। যে জমিতে সবার আগে বন্যপ্রাণীর অধিকার তারা এলে তাদেরই মেরে ফেলছে তথাকথিত সভ্য মানুষ।সারাবছর ধরে প্রচার চললেও এখনও একশ্রেণীর মানুষ রয়েছে যারা এই অসভ্য কাজগুলো করে যাচ্ছে লোকচক্ষুর আড়ালে।

আরও পড়ুন: রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নামে প্রহসন চলছে: সুজন চক্রবর্তী

এদিন সকাল থেকেই হাতির মৃত্যু ঘিরে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে বিভিন্নমহলে।প্রকান্ড প্রানীটির ময়নাতদন্ত চলবে সন্ধ্যা অবদি।বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের উপক্ষেত্র অধীকর্তা পূর্ব পি. হরিশ বলেন,“ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারন বুঝতে পারবো আমরা।একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।” অন্যদিকে প্রকৃতি প্রেমিকদের একাংশ সাফ জানিয়েছেন, যদি ঘটনায় কারোর দোষ প্রমাণিত হয় তবে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।কুমারগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাধীপতি বিপ্লব নার্জিনারি বলেন,“প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়েছি।আমরা নিশ্চিত বিদ্যুৎ শক লেগেই হাতির মৃত্যু হয়েছে।এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায়না।মানুষের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে এমন অবৈধ কাজ না করতে।”

Related Articles

Back to top button
Close