fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিয়ম রক্ষার্থে পালিত হল কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির বিখ্যাত সিদুঁর খেলা, মুখে মাস্ক পরে সিঁদুর খেললেন স্বয়ং রানি মা

অভিষেক আচার্য, নদিয়া: এবছরটা যেন শুধুই মন খারাপের। শহরের প্রাণকেন্দ্র এই রাজবাড়িটার উঠোনেও আজ মন খারাপের জমাট অন্ধকার। করোনা কেড়ে নিয়েছে অনেক কিছুই। যেমন এ বছর কেড়ে নিল রাজবাড়ির পুজোর সেই আনন্দানুষ্ঠান। পুজো হল, মানা হল সমস্ত আচার-নিয়মও। কিন্তু বাধা নিষেধও রইল অনেক। প্রতিবছর রাজবাড়ির পুজো জাঁকজমক পূর্ণ হলেও এবছর নেই সেই উৎসবের সমারোহ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর দুর্গা প্রতিমার উচ্চতা প্রায় দেড় ফুট ছোট করা হয়েছে।

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের এই রাজবাড়িতে রাজরাজেশ্বরীর পুজো দেখতে প্রতিবছর উপচে পড়ে জেলা ও জেলার বাইরের মানুষের ভিড়। কিন্তু এবছর, করোনা আবহে আদালতের নির্দেশে ভিড় কম রাখার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছিল বাঁশের ব্যারিকেড। পুজো মণ্ডপ করা হয়েছিল দর্শক শূন্য। সংক্রমণের আশঙ্কায় এবছর বন্ধ রাখা হয়েছিল রাজবাড়ির গেট। বাতিল থাকলেও নিয়ম রক্ষার্থে পালিত হল রাজবাড়ির বিখ্যাত সিদুঁর খেলা। সোশ্যাল ডিসটেন্স মেনে মুখে মাস্ক পরে সিঁদুর খেললেন স্বয়ং রানি মা।

এ পরিবারের ইতিহাস বহু প্রাচীন। বর্তমান রানি মা শ্রীমতী অমৃতা রায় বলেন, “কোভিডের কারণে এবার অনুষ্ঠান কাটছাঁট করতে হয়েছে। সত্যি মন খুব ভারাক্রান্ত। দর্শনার্থীদের দূর থেকে দেখা করতে হচ্ছে। আশা করছি আগামী বছর ফের আগের মত পুজো করতে পারবো”।

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো প্রায় আড়াইশো বছরের প্রাচীন। কথিত আছে, মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরেই বাংলায় দুর্গাপুজোর জনপ্রিয়তা আসে। এক সময় রাজবাড়ির সন্ধিপুজোয় কামান দাগা হত। বলি প্রথা থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। বিসর্জনের সময় ওড়ানো হত নীলকণ্ঠ পাখি। এখন তা সবই অতীত। তবুও স্মৃতির সাক্ষী বহন করে আজও ঐতিহ্যবহন করে চলেছে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো।

Related Articles

Back to top button
Close