fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজোর মধ্য দিয়ে রাঢ়বঙ্গে শুরু হল নবান্ন

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির একটি প্রাচীন পিঠস্থান। এই মন্দিরটিকে অনেকে শক্তিপীট বলে মনেকরেন। বর্ধমানবাসীর আদি অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন সর্বমঙ্গলা। তিনি বাংলার লৌকিক দেবতাও বটে । কোভিড বিধি মেনে সেই মন্দিরেই রবিবার হল নবান্ন অনুষ্ঠানের পুজো পাঠ। আর সর্বমঙ্গলা মন্দিরে হওয়া নবান্ন পুজোর মধ্য দিয়েই গোটা রাঢ়বঙ্গে সূচনা হল নবান্নের ।

বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা রূপেই পুজিতা হন।এই মন্দির ঘিরে রয়েছে অনেক কাহিনী ও উপকথা। কথিত আছে বহুকাল পূর্বে বর্ধমানের উত্তরাংশে বাহির সর্বমঙ্গলা পাড়ার বাগদিরা পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে কষ্টিপাথরের অষ্টাদশভূজা দেবীর শিলা মূর্তিটি পেয়েছিলেন। সেই মূর্তির উপরে তারা গুগলি ,শামুক ভাঙতেন । দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে বর্ধমান মহারাজা সঙ্গম রায় সেই শিলামূর্তিটি উদ্ধার করে নিয়ে এসে সর্বমঙ্গলা নামে পুজো শুরু করেন । পরবর্তীকালে দৃষ্টিনন্দন করে সর্বমঙ্গলা মন্দিরটি তৈরি করেন বর্ধমানের মহারাজাধিরাজ কীর্তিচাঁদ মহতাব। স্বয়ং রামকৃষ্ণদেব এই মন্দিরে এসেছেন বলেও কথিত আছে।

কোভিড সংক্রমণের কারণে টানা ছ’মাস ধরে মন্দিরের গেটে তালা পড়েছিল। ধীরে ধীরে সব কিছু স্বাভাবিক হতেই কোভিডের নির্দেশিকা মেনে খুলেগেছে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের গেটের তালা। সংক্রমণ এড়াতে এদিন নবান্ন পুজোয় স্যানিটাইজার ব্যবহার ও মাস্ক পরে মন্দিরে আসা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল । স্বাস্থ্য আগে, শাস্ত্র পরে এবার এই হচ্ছে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মূলমন্ত্র।

মন্দির ট্রাস্টের সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ জানিয়েছেন ,এদিন  সর্বমঙ্গলা মন্দিরে নবান্ন উৎসব দিয়ে গোটা রাঢ়বঙ্গে নবান্নের সূচনা হল। কোভিডের জন্য এতদিন ভোগবিলি বন্ধ ছিল।আজই প্রথম সাধারণের জন্য ভোগ বিলি করা হল। মাত্র ৮০০ জনকে ভোগ বিলি করা হয়েছে। তবে মন্দির চত্ত্বরে বসে ভোগ খাওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে । সঞ্জয় বাবু বলেন, পূর্বের বছর গুলিতে  নবান্ন অনুষ্ঠানে মন্দিরে প্রচুর লোকজনের সমাবেশ হত। কিন্তু এবার এই করোনা কালে  লোকজনের সমাবেশ তুলনায় বেশ কম ছিল । তা সত্ত্বেও রাজার আমল থেকে চলে আসা রীতি পালণে  কোনো অন্যথা হয়নি।

 

Related Articles

Back to top button
Close