fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অ্যান্টি অক্সিড্যান্টে ভরপুর ড্রাগন ফলের চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন নদীয়ার চাষিরা

অভিষেক আচার্য, নদীয়া: আলু, ধান, পাট, সব্জিতে দর না মেলায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে চাষিদের৷ সে কথা মাথায় রেখে বিকল্প চাষে চাষিদের ঝোঁকার কথা বলছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা৷ তেমনই ড্রাগন ফ্র‌ুট বা পাটায়া ফলের চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন নদীয়ার কয়েক জন চাষি৷ এমন চাষে লাভ আছে দেখে উৎসাহী হয়েছেন এলাকার অন্য চাষিরা৷ অ্যান্টি অক্সিড্যান্টে ভরপুর এমন ফল চাষে লাভ আছে বলে জানাচ্ছেন নদীয়ার বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানপালন দপ্তরের ফলবিজ্ঞান বিভাগের আধিকারিকরাও৷

অরিজিন মেক্সিকোতে হলেও এখন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতে ড্রাগন ফ্রুটের চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন চাষীরা। ড্রাগন ফ্রুটের আর এক নাম পাটায়া ফ্রুট৷ নদীয়ার বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানপালন দপ্তরের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন ব্লকের চাষীদের চারা দেওয়া হচ্ছে৷ পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নদীয়া জেলার হরিনঘাটার ব্লক আধিকারিকরা। ড্রাগন ফল চাষের জন্য পাওয়া যাচ্ছে সরকারি অনুদানও। ড্রাগন ফল চাষ করছেন হরিনঘাটা ব্লকের কাষ্ঠডাঙ্গা এলাকার চাষী অলিউল্লা মন্ডল। তিনি বলেন, উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় ও রাঢ় অঞ্চলে এর চাষ ভাল হবে। অন্য জেলাতেও করা সম্ভব। তবে আর্দ্রতা বেশি থাকলে রোগপোকার আক্রমণ হতে পারে। খুব অম্ল-ক্ষার মাটি ছাড়া সব জমিতেই চাষ করা যেতে পারে। দেখতে হবে মাটিতে যেন কোনও ভাবেই জল না দাঁড়ায়।

তিনি আরো বলেন, অন্যান্য চাষের থেকে ড্রাগন ফল চাষ করা অনেক লাভজনক। খরচ বেশি হলেও এই ফলের চাহিদা যেমন আছে তেমন লাভ রয়েছে। নদীয়ার বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানপালন দফতরের ফল বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডঃ মোঃ আবু হাসান বলেন, ক্যাকটাস জাতীয় এই গাছ মাঠে কংক্রিটের পিলার করে তাতে জড়িয়ে দিতে হয়৷ অন্য চাষের মাঝেও ড্রাগন ফ্র‌ুটের চাষ করা যায়৷ এই চাষ বেশ লাভজনক। টক-মিষ্টি স্বাদের ফল ড্রাগন ফ্র‌ুট অ্যান্টি অক্সিড্যান্টে ভরপুর৷ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বেড়েছে। ফলে এই ফলের চাহিদা বাড়ছে এই দেশেও৷ এখন ব্যবসায়িক দৃষ্টি থেকে চাষ দেখতে হবে বলে জানান তিনি। নদীয়ার হরিনঘাটার ব্লক আধিকারিক কৃষ্ণগোপাল ধাড়া বলেন, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যান দফতর ও হরিনঘাটা ব্লক যৌথ উদ্যোগে ড্রাগন ফল চাষে চাষীদের সাহায্য করছে। ড্রাগন ফল চাষে উদ্যোগী চাষীদের দেওয়া হচ্ছে সরকারি অনুদানও। এখনো পর্যন্ত ২৪ জন চাষী ড্রাগন ফল চাষ করছেন হরিনঘাটা ব্লকের বিভিন্ন এলাকায়। এমন বিকল্প চাষে ঝুঁকতে পারেন চাষিরা৷ গতানুগতিক চাষ ছেড়ে চাষিদের শস্য বৈচিত্র ও আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে৷ যে ফসলে একবার চাষি লাভ পাচ্ছেন, পরের বার ওই ফসলের চাষ আরও বেশি এলাকা জুড়ে করছেন৷ লাভ পেতে গেলে ড্রাগন ফল চাষে চাষীদের এগিয়ে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন ব্লক আধিকারিক থেকে ফলবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকরা।

Related Articles

Back to top button
Close