fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ফুলিয়ার শ্রমিকদের পাঠানো হল বাড়ি, খুশির বাতাবরণ শ্রমিকমহলে

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস। নদীয়ার শান্তিপুরের ফুলিয়া থেকে প্রায় ৬৫০জন শ্রমিক পৌঁছলেন বাড়ি। নদীয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কোচবিহারে পাঠানো হল। বাড়ি যাওয়ার আগে শ্রমিকরা জানিয়ে গেলেন, ”আবার হবে তো দেখা। এই দেখাই শেষ নয় তো”।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো লকডাউনের জেরে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের ধাপে ধাপে তাঁদের বাড়িতে ফেরানোর কাজ শুরু করল নদীয়া জেলা প্রশাসন। করোনা ভাইরাসের প্রকোপের জেরে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে গোটা দেশেই একাধিক রাজ্যে বহু পরিযায়ী শ্রমিক আটকে রয়েছেন। এরাজ্যেও বিভিন্ন জেলায় শ’য়ে-শ’য়ে শ্রমিক আটকে রয়েছেন৷ প্রশাসনের ওপর যেমন চাপ বাড়ছিলই। তার থেকে বেশি চাপ বাড়ছিল মালিকদের। শ্রমিকরাও তাঁদের বাড়ি ফিরতে একাধিক যুক্তি ও কারণও তুলে ধরছিলেন জেলা প্রশাসনের কাছে।
ফুলিয়া মূলত তাঁতশিল্পের জন্য বিখ্যাত। ফলে যাঁরা বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা বেশিরভাগই তাঁতশিল্পী।

লক ডাউনের জেরে তাঁরা কয়েকমাস আটকে ছিলেন এখানে। কাজ নেই। নেই টাকা । বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না, ফলে ধীরে ধীরে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন অধিকাংশ শ্রমিকরা।

অবশেষে সেই সমস্ত আটকে থাকা মানুষদের নিজের নিজের জেলায় ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু করে দিল নদীয়া জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডু বলেন, মোট ৬ টি বাসে প্রায় ৬৫০ জন শ্রমিককে ফুলিয়া থেকে কোচবিহারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হল। জেলা প্রশাসন ও জেলা শাসকের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ সম্ভব হয়। অনেক পরিযায়ী শ্রমিক প্রশাসনের কাছে নাম নথিভুক্ত করেছেন। তাঁদেরকেও বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনামা অর্থাৎ দুরত্ব বজায় রেখে শ্রমিকদের বাসে পাঠানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর মিলছে বাসে ওঠার ছাড়পত্র। সন্দেহজনক হলেই পাঠানো হবে কোয়ারেন্টাইনে। যদিও এখনও পর্যন্ত সন্দেহজনক কাউকে পায়নি স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।

বিমল দাস নামে এক শ্রমিক বলেন, বাড়ি ফিরতে পারবো এটা কখনো ভাবিনি। অনেকদিন পর বাড়ির সদস্যদের দেখবো। খুশি তো অবশ্যই। তবে বাড়ি ফিরলেও আপাতত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে শ্রমিকদের। তাঁদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখবে কোচবিহার জেলা প্রশাসন।

মনে পড়লো মহিনের ঘোড়াগুলি ব্যান্ডের বিখ্যাত গানের একটি লাইন, “আমি চাই, ফিরে যেতে সেই গাঁয়ে।বাঁধানো বটের ছায়।সেই নদীটি, হাওয়া ঝিরঝির
মনের গভীরে পড়ে থাকা যত
স্মৃতি বিস্মৃতি কখনো কি ভোলা যায়।”

Related Articles

Back to top button
Close