fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

ঐতিহাসিক জয়, সন্তানের পরিচয়পত্রে যুক্ত হচ্ছে আফগান নারীদের নাম!

কাবুল,  (সংবাদ সংস্থা): নিজেদের নাম প্রকাশের স্বাধীনতার দাবিতে টানা তিন বছর সামাজিক আন্দোলনের পর, অবশেষে ঐতিহাসিক জয় পেল আফগান নারীরা। শীঘ্রই সন্তানের জাতীয় পরিচয় পত্রে যুক্ত হতে যাচ্ছে তাদের নাম। গত বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি আইনের সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।
সংশোধনীত আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে পর্যন্ত আফগানিস্তানের আইনে নির্দেশনা রয়েছে, ‘সন্তানের জাতীয় পরিচয়পত্রে শুধু বাবার নাম থাকবে।’ প্রকাশ্যে সেখানে নারীর নাম প্রকাশে ঐতিহ্যগতভাবে মানুষের আপত্তি রয়েছে এবং এটাকে তিরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনকি, চিকিৎসকের কাছে গিয়ে প্রেসক্রিপশন পেতে নিজেদের নাম ব্যবহার করার কারণে নারীদের অনেককেই মারধরসহ নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে তিন বছর আগে #হোয়্যারইজমাইনেম হ্যাশট্যাগে একটি ক্যাম্পেইন শুরু হয়, এতে সমর্থন দিয়ে তারকা এবং বেশ কিছু সংসদ সদস্য এর পক্ষে কথা বলেন।
ক্যাম্পেইনে সন্তানের পরিচয়পত্রে বাবার সঙ্গে মায়ের নাম যুক্ত করার দাবি জানানো হয়। এরপর, চলতি মাসের শুরুতে আফগান সংসদে নারীদের অধিকার রক্ষার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার সঙ্গে মায়ের নামও যুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনী বিলটি পাস করে। এরপর প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা সংশোধিত আইন হিসাবে স্বীকৃতি পেল।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট এই সংক্রান্ত আইনের সংশোধনীতে স্বাক্ষর করার পর #হোয়্যারইজমাইনেম ক্যাম্পেইনের প্রতিষ্ঠাতা নারী লালেহ ওসমানি  সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর এমন ফলাফলে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। কোনও সন্দেহ নেই যে সবার ঐক্যবদ্ধ অবিরাম সংগ্রামের ফসল আজকে আমাদের এই বিজয়।’
জানা যাচ্ছে, আফগান নারীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার একটি ধারা আছে সমাজে। জন্মের পর বহু বছর তাদের কোনও নাম থাকে না। কন্যাসন্তানের নাম দিতেই গড়িয়ে যায় বছরের পর বছর। এরপর যখন বিয়ে হয়, বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে কোথাও তার নাম উল্লেখ করা হয় না। অসুস্থ হলে প্রেসক্রিপশনেও থাকে না তার নাম। এমনকি একজন নারী যখন মারা যায়, তখন মৃত্যু সনদেও তার নাম লেখা হয় না। সে কারণেই, আফগান নারীদের নাম প্রকাশের স্বাধীনতার দাবিতে আফগানিস্তানে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনের নাম দেওয়া হয় – ‘হোয়্যারইজমাইনেম?’ বা ‘কোথায় আমার নাম?’ এবার সেই আন্দোলনের জয় হল। নিজেদের নাম প্রকাশের অধিকার আদায়ের মাধ্যমে মুক্তির স্বাদ পেল আফগান নারীরা।

Related Articles

Back to top button
Close