fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তৃণমূলের পতাকা নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম

রাজকুমার আচার্য, নন্দীগ্রাম : ত্রাণ দুর্নীতিতে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে নন্দীগ্রামে। তৃণমূল কংগ্রেস আমফান ত্রাণ দুর্নীতির জন্য দলের ২৫ জনকে সাসপেন্ড করেছে। কিন্তু বিক্ষোভ কমেনি। তৃণমূলের দলীয় পতাকা নিয়ে এবার বিক্ষোভে নামলো ক্ষতিপূরণ না পাওয়া দলের সমর্থকরা । ত্রাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বুধবার ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম।

নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের মহম্মদপুর ৪ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা নিয়ে প্রচুর মানুষ বিক্ষোভ দেখান। আমফান ঝড়ে ক্ষতিপূরণ না-পাওয়া, বিভিন্ন কাজে কাটমানি নেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন দাবি নিয়ে তারা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভে কার্যত উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনি।

বিক্ষোভকারী মিনহাজ আলি খান, হাসানুর রহমান, জিয়াউল খানদের দাবি তারা তৃণমূল কংগ্রসের সমর্থক। কিন্তু এই গ্রাম পঞ্চায়েতে দুর্নীতির কারণে তারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, “আমফান ঝড়ে যাদের প্রকৃত ক্ষতি হয়েছে অধিকাংশ ক্ষতিপূরণ পায়নি। ক্ষতিপূরণ পেয়েছে ক্ষতি হয়নি এমন অনেক নেতা নেত্রী ও তাদের আত্মীয়স্বজন। এমনকী সরকারি চাকরি করেন এমন অনেকেই ত্রাণের ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন। অথচ বহু মানুষের ঘর ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে তাদের মাথার গোঁজার ঠাঁই নেই।”

গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সেখ হাবিবুল বলেন, “আমফান ঝড়ে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কিছু না কিছু ক্ষতি হয়েছে। কী ধরণের বাড়ি ঠিক কীরকম ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ পাবে সেরকম কোনও নির্দেশিকা আমাদের কাছে ছিল না। তাই যারাই আবেদন করেছিলেন সবার আবেদন বিডিও অফিসের মারফত ডিএম সাহেবের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই এলাকার তিন হাজার চার শত বাইশ (৩৪২২) জনের আবেদন পত্র পাঠানো হয়েছে। প্রায় ৯৬২ জন ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। বাকিরা এখনও পায়নি বলেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আমাদের দলের সমর্থকরাও আছেন।”

বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, “আমফান ঝড়ের ক্ষতিপূরণের জন্য কাটমানি চাওয়া হচ্ছে পাঁচ, দশ হাজার টাকা করে। টাকা দিলেই আমফানের টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়াও আবাস যোজনা প্রভৃতি সরকারি কাজে পঞ্চায়েত অফিসে টাকা চাওয়া হয়। যেকোনও কাজে এলেই টাকা চাওয়া, দুর্নীতির আখড়া এই গ্রাম পঞ্চায়েতে তালা ঝোলাতে চাই।”

কাটমানি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান। পঞ্চায়েত অফিসের বিক্ষোভের খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশের সঙ্গেও বচসা হয় বিক্ষোভকারীদের। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

Related Articles

Back to top button
Close