fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কাজ নেই! নন্দীগ্রাম থেকে ভিন রাজ্যে পাড়ি পরিযায়ী শ্রমিকদের

রাজকুমার আচার্য, নন্দীগ্রাম (পূর্ব মেদিনীপুর): কাজ নেই! সরকারি সাহায্যও সেভাবে পাওয়া যায়নি! ঘরে বসে থেকে শুকিয়ে মরার চেয়ে যতটা সম্ভব করোনা সংক্রমণ এড়িয়ে কাজে ফিরে যাওয়াই ভালো। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন নন্দীগ্রামের অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিক।

করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে বিভিন্ন পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরা নিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে ছিল সারা দেশ জুড়ে। করোনা সংক্রমণ এখনও সমানভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতেও বাড়ি ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। প্রায় প্রতিদিন বাস গাড়ি রিজার্ভ করে নন্দীগ্রাম থেকে যাচ্ছেন তাঁরা। শুক্রবার রাত প্রায় ১২টার সময় কয়েকটি গাড়িতে অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিক পাড়ি দিয়েছেন ভিনরাজ্যে।

নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়া এলাকা থেকে যাওয়ার সময় পুষ্পেন্দু দাস, শেখ আসরফ, আমির খান, বাসুদের জানা, গৌরহরি ভূঁইয়া প্রমুখ বলেন, “আমাদের জন্য রাজ্য সরকার যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পাইনি। করোনা মহামারী ভয়ঙ্কর জানি কিন্তু বাড়িতে বসে থাকলে না খেতে পেয়ে মরেই যাব। আমরা তো আর একা নয়, আমাদের পরিবার রয়েছে। আমাদের উপর তারা নির্ভর করে আছে। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ভিনরাজ্য যাচ্ছি। এখানে কাজ নেই। রাজ্যের মধ্যে কোথাও কাজ পেলে ভাল হত। তা সম্ভব হচ্ছে না বলেই একপ্রকার পালিয়ে যাচ্ছি জীবনকে হাতে নিয়ে।”

জানা গিয়েছে, এ দিন রাতে প্রায় দেড়শ জন পরিযায়ী শ্রমিক নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে টেঙ্গুয়াতে জমায়েত হয়ে রিজার্ভ গাড়িতে করে কেউ ব্যাঙ্গালোর, কেউ গুজরাট এভাবে বিভিন্ন রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এই যাওয়ার খরচ তাঁরা বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করেছেন। প্রায় প্রতিদিন এভাবে বাহিরে চলে যাচ্ছেন কাজের সন্ধানে নন্দীগ্রামের পরিযায়ী শ্রমিকরা।

যাত্রপথের শুভ কামনা করে নন্দীগ্রামের ধর্মীয় সংগঠন “সনাতন সেনা” শুক্রবার রাতে পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে শুকনো খাওয়ার এবং জলের বোতল তুলে দেন। গন্তব্যে পৌঁছাতে তাঁদের ২-৩ দিন সময় লাগবে।

Related Articles

Back to top button
Close