fbpx
দেশহেডলাইন

‘খুনের রাজনীতি করে ভোটে জেতা যাবে না’, তৃণমূলকে কড়া বার্তা মোদির

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বিহারে জয় নিয়ে বার্তা দিয়ে বোঝালেন এবার লক্ষ্য বাংলা। বুধবার নয়াদিল্লিতে বিজেপি সদর দফতর থেকে দেওয়া বার্তায় বাংলা নিয়ে কার্যত হুঙ্কারই দিয়ে রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলার নাম না করেও তিনি বলেন, ‘বিজেপি কর্মীদের যারা হত্যা করছে, আগামী নির্বাচনে মানুষ তাদের শাস্তি দেবে।’ নয়াদিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরের সভায় প্রধানমন্ত্রী হঠাত্‍ই বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ভাবে মোকাবিলা না করতে পেরে কেউ কেউ বিজেপির নেতাকর্মীদের হত্যা করছেন। তাঁরা ভাবছেন, এসব করে বিজেপিকে থামিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। পড়ে নিন।’

এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে দলীয় কর্মীদের উপর শাসক দলের অত্যাচার নিয়ে সবথেকে বেশি সরব বিজেপি। কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সফরে এসেও দলীয় কর্মীদের উপরে শাসক দলের অত্যাচারের অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে গিয়েছেন। ফলে বিহার নিয়ে জয়ের বার্তায় দলীয় কর্মীদের উপরে অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে আসলে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলকেই সতর্ক করলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিহারের ফলাফল হাতে নিয়ে আগামী বছর বাংলার ভোটে ঝাঁপিয়ে পড়তে যখন টগবগিয়ে ফুটছেন বঙ্গের বিজেপি কর্মী, তখনই যেন তাঁদের আরও চাঙ্গা করল মোদির ভোকাল টনিক। নাম না করে বাংলার তৃণমূল সরকারকে তিনি বিঁধলেন রাজনৈতিক হত্যা ইস্যুতে। বললেন, ”দেশের কিছু জায়গায় নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিজেপি কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠের জনসমর্থন পাওয়া যাবে না।”

বিজেপির বিহার জয়ের পর এ রাজ্যের গেরুয়া ব্রিগেড আরও বাড়তি উৎসাহ পেয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্য দখলের উদাহরণ তুলে ধরে এবার ‘মিশন বাংলা’-র লক্ষ্যে বিজেপির স্লোগান – ‘এবার বাংলা পারলে সামলা।’ বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই স্লোগানেই তুলে ঝড় তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির এই প্রচার বাংলায় জনমত গঠনের একটা কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় টুইট করে বলেছেন, “গণতন্ত্রে জনতাই সব। পশ্চিমবঙ্গের জনগণের সামনে মমতা সরকারের আসল চেহারা বেরিয়ে গিয়েছ। তৃণমূল সরকারের উপর ত্রস্ত বাংলার মানুষ। বিজেপির পালে এখন হাওয়া বইছে। এবার বাংলা পারলে সামলা।” একই স্লোগান তুলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় থেকে সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, নিশীথ প্রামাণিক, রাজ্য নেতা সায়ন্তন বসুরা টুইট করেছেন।

আরও পড়ুন: বিহারে ফের মুখ্যমন্ত্রী পদে নীতীশ কুমার, ১৬ নভেম্বর নিতে পারেন শপথ

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্বাচন আসবে যাবে। আজ কেউ ক্ষমতায় থাকবে, কাল অন্য কেউ। কিন্তু গণতন্ত্রে এই হত্যালীলা মেনে নেওয়া যায় না। মৃত্যু নিয়ে খেলা করে মানুষের সমর্থন পাওয়া যায় না, এই দেওয়াল লিখনটা বোঝার চেষ্টা করুন।’ বিজেপি-র অভিযোগ, গত দু’ থেকে আড়াই বছরে পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের অন্তত একশো জন কর্মী খুন হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বারংবার দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারেরও দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপি-র রাজ্য নেতারা। বিহার জয়ের পর এবার বাংলা দখলের জন্য যে তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবেন, বিহার জয়ের মঞ্চ থেকেই তা বুঝিয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদি।

বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক হত্যাকে পারিবারিক বলে চালিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। যার জন্য ময়নাতদন্তের দাবি নিয়ে আদালতেও যেতে হচ্ছে। এ সব নিয়ে বিজেপির রাগ কম নেই। একটা সময় ছিল যখন বাংলায় রাজনৈতিক খুন, সন্ত্রাসের ঘটনা নিয়ে সরব হতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছোট আঙারিয়া, নানুর, নেতাইয়ের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছিলেন তিনি। এমনকি দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও দেখা করত তৃণমূল। মমতা যখন এনডিএ-র শরিক সে সময়ে লালকৃষ্ণ আডবাণী ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। তখন বাংলায় রাজনৈতিক হত্যা নিয়ে বামেদের সমালোচনা করতেন আডবাণী। আর এখন রাজনৈতিক খুন নিয়ে সেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব বিজেপি।

Related Articles

Back to top button
Close