fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণবিজ্ঞান-প্রযুক্তিহেডলাইন

ভারতীয় মহাকাশচারী কল্পনা চাওলার নামাঙ্কিত স্পেসক্রাফট ওড়াল নাসা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: মহাকাশে কল্পনা চাওলার নাম আজও ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছে। ভারতীয় মহিলা হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন কল্পনা। কিন্তু তার ফেরা হয়নি এই পৃথিবীতে। মহাকাশ অভিযানে গিয়েই মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দেশের জন্য তথ্য সরবরাহ করে গিয়েছিলেন। দেশ মনে রেখেছে এই সাহসী নারীর বলিদানে কথা। এবার তাঁর স্মৃতিতে তাঁর নামাঙ্কিত স্পেসক্রাফট ওড়াল নাসা।

মহাকাশে মানব অভিযানের বিশেষ অবদানের কল্পনা চাওলাকে এই সম্মান প্রদান করা হল। শুক্রবার রাতে সেই মহাকাশযান উড়ে গিয়েছে। এটি পাঠানো হয়েছে ইন্টারন্যশনাল স্পেস স্টেশনে। এই স্পেস স্টেশনটির নাম দেওয়া হয়েছে এস এস কল্পনা চাওলা।এটি
স্পেসক্রাফট নাসার ওয়ালপ ফ্লাইট ফেসিলিটি থেকে উড়িয়ে গিয়েছে স্থানীয় সময় রাত ৯ টা ৩৮ মিনিটে। ছাড়ার দু’দিন পর এটি স্পেস স্টেশনে পৌঁছবে। এটি একটি কার্গো স্পেসক্রাফট। এই স্পেসক্রাফটের মাধ্যমে কিছু জিনিস পাঠানো হচ্ছে মহাকাশচারীদের জন্য। মোট ৩৬৩০ কেজি সামগ্রী নিয়ে পাড়ি দিয়েছে এই স্পেস ক্রাফট।

এতে রয়েছে একটি গাছ যা ভবিষ্যতে মহাকাশে ফসল ফলানোর গবেষণায় ব্যবহার করা হবে। এছাড়া রয়েছে মহাকাশচারীদের জন্য তৈরি একটি বিশেষ টয়লেট। রয়েছে একটি ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল ক্যামেরা যা স্পেসওয়াকের সময় ব্যবহার করা হবে।
নাসার প্রজেক্ট ম্যানেজার মেলিসা ম্যাককিনলে জানান, বর্তমানে যে টয়লেট ব্যবহার করা হয়, তার তুলনায় এটি ৬৫ শতাংশ ছোট ও ৪০ শতাংশ হালকা।

আরও পড়ুন:ঐতিহাসিক মুহূর্ত, ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় অটল টানেল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ মার্চ ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের কারনালে বসবাসকারী এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কল্পনা চাওলা। মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন ঠাকুর বালনিকেতন সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল, কারনাল থেকে। এর পরে ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব প্রকৌশল কলেজ থেকে মহাকাশ প্রকৌশলের ওপর স্নাতকের পাঠ সম্পন্ন করেন।

উচ্চশিক্ষার জন্যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং সেখানে ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে একই মহাকাশ প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর শিক্ষা সমাপ্ত করেন ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে। পরবর্তীতে কল্পনা ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো অ্যাট বউল্ডের থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে কল্পনা নাসাতে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তার প্রথম মহাকাশ যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর। তিনিই প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি মহাকাশ থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় কলম্বিয়া স্পেস সাটলটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় এক দুর্ঘটনার ফলে সাত জন ক্রুসহ বিধ্বস্ত হয় এবং কল্পনা সহ সকলে মারা যান।

২০০৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি ঘটেছিল সেই ভয়বাহ দুর্ঘটনা। মিশন সফল হওয়ার পর ফিরছিলেন কল্পনা ও তাঁর সঙ্গীরা। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পরই তাঁদের মহাকাশযান ভেঙে পড়ে। সেই মহাকাশযানের ধংসাবশেষ ও যাত্রীদর দেহাবশেষ টেক্সাসে পাওয়া গিয়েছিল। ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে। মিশন সফল হলেও পৃথিবীতে আর ফিরে আসতে পারেননি কল্পনা ও তাঁর সঙ্গীরা।

আরও পড়ুন:“ইসলাম ধর্মের জন্য গোটা বিশ্ব সমস্যার সম্মুখীন”, বললেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট

১৯৬২ সালে হরিয়ানার কর্নেলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কল্পনা। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সব থেকে ছোট। পাঞ্জাব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনার পর ১৯৮২ সালে তিনি আমেরিকায় পাড়ি দেন। নিজের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবের রূপ দিতে চেয়েছিলেন কল্পনা। আর তাই নাসা-য় যোগ দেন ১৯৮৮ সালে। নাসা-র রিসার্চ সেন্টারে যোগ দিয়েছিলেন কল্পনা। এর পর ১৯৯৫ সালে তিনি নাসার মহাকাশযাত্রীদের কোর টিম-এ সামিল হন তিনি। আট মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ১৯৯৭ সালে প্রথমবার মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন।

Related Articles

Back to top button
Close