fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুরুলিয়ায় এনসিএলপি-র শিক্ষক-পড়ুয়ারা চরম আর্থিক অনটন ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন

শুক্লা সিকদার, দমদম: পুরুলিয়ার ৮৯ টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০০ জন শিক্ষক করোনা পরিস্থিতিতে চাকরি হারিয়ে চরম দূর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন I তথৈবচ অবস্থা বিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও সংশ্লিষ্ট পরিবারবর্গেরও I ন্যাশনাল চাইল্ড লেবার প্রজেক্ট, এনসিএলপি-এর উদ্যোগে পরিচালিত উক্ত বিদ্যালয়গুলিতে দুর্দশাগ্রস্ত শিক্ষকগণ বিগত এক দশকের অধিক সময়কাল ধরে শিক্ষকতা করলেও এবছরের শুরু থেকেই তারা মাইনে পাচ্ছেন না I তারপর লকডাউনে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তারা মাইনে, চাকরি ও বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন সংক্রান্ত ব্যাপারে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন I

 

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান হওয়ায় দুপুরে খাবারের জন্য বিদ্যালয়ের মিড-ডে-মিল এর উপরে অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল I কিন্তু করণা পরিস্থিতিতে দুবেলা দু’মুঠো খাবার জোগান দিতে যাদের ওষ্ঠাগত প্রাণ সেই শ্রমজীবী পরিবারের সন্তানরা মিড-ডে-মিল থেকে বঞ্চিত হওয়ায় রীতিমতো অভুক্ত অবস্থায় দিনযাপন করছে I বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন বন্ধ থাকায় দরিদ্র পরিবার সমূহের পড়ুয়ারা মা বাবার সঙ্গে শিশুশ্রমিক হিসেবে শ্রমদান করতে বাধ্য হচ্ছে I যে শিশুশ্রম নিবারণের উদ্দেশ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের অধীনে ‘ন্যাশনাল চাইল্ড লেবার প্রজেক্ট’ কর্মসূচির বাস্তবায়নে উক্ত বিদ্যালয়ে গুলি শুরু হয়েছিল আজ যেন তার উলটপুরাণ হতে বসেছে I

 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাগণ ডিস্ট্রিক্ট মেজিস্ট্রেটের অফিস, স্থানীয় পঞ্চায়েতসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়ে প্রতিকারের আশ্বাস পেলেও সুরাহা হয়নি I বিদ্যালয়গুলির পরিচালন সমিতির পক্ষ থেকে বিদ্যালয়গুলির জন্য বরাদ্দ বাজেটের অপব্যবহারের আশঙ্কাও করা হচ্ছে I দিল্লির যন্তর মন্তরে এবছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ ধর্না কিংবা কেন্দ্রীয় শ্রমদপ্তরের কার্যালয়ে ডেপুটেশন দেওয়ার পরেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি I শোনা গেছে কেন্দ্রীয় শ্রমদফতর থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পুনর্নবীকরণ না হাওয়াতেই নাকি এই বিড়ম্বনা I তাই প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পেলে শিক্ষকদের প্রাপ্য বেতন, বিদ্যালরের পঠন পাঠন কিংবা মিড-ডে-মিল চালু করার জন্য সবুজ সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না I

 

যদিও সাম্প্রতিককালে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষকুমার গঙ্গোয়ারও করোনা পরিস্থিতিতে শিশুশ্রম সংক্রান্ত ঘটনার বৃদ্ধি সামলানোর জন্য কিছু উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন I কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার উক্ত বিদ্যালয়গুলির সঙ্গে যুক্ত সকলে আজ কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর উদ্যোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকায় দিন কাটাচ্ছে I সমস্যা কোথায়, আর তার সমাধানই বা কিভাবে সম্ভব, তার উত্তর খুঁজছে ভুক্তভোগী শিক্ষকগণ, পড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই I আর পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলাতে যেখানে শ্রমজীবী পরিবার ও শিশুশ্রমিকের সংখ্যা অন্যান্য জেলাগুলোর তুলনায় অনেকটাই বেশি, সেখানেই কেন এই বঞ্চনা, তা ভাবাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সকল মহলকেই I

Related Articles

Back to top button
Close