fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আমফানের সতর্কতায় সাগরে NDRF, কাকদ্বীপে মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরার উপস্থিতিতে চলছে বৈঠক

বিশ্বজিত হালদার, কাকদ্বীপ: করোনা ও ঘূর্ণিঝড়ের জোড়া ফলায় ত্রস্থ সুন্দরবন। ঘূর্ণিঝড় আমফানের সতর্কতা হিসেবে‌ সুন্দরবনের সমুদ্র ও নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ফ্ল্যাড সেন্টার, স্কুল বা প্রশাসনিক ভবনগুলিতে তুলে আনার কাজ শুরু করে দিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। সোমবার দুপুরে জেলাশাসক পি উলগানাথন কাকদ্বীপ মহকুমা প্রশাসন ভবনে একটি জরুরি বৈঠক করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা, সুন্দরবনের পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি, সাগরের বিধায়ক বঙ্কিম হাজারা, পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর জানা, মহকুমা শাসক শোভিক চট্টোপাধ্যায়, উপকূল রক্ষী বাহিনীর ফ্রেজারগঞ্জ ঘাঁটির কমান্ডার অভিজিৎ দাশগুপ্ত-‌সহ পুলিশ আঝিকারিকরা। এদিনের বৈঠকে আমফানের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেই গতিপ্রকৃতির উপর আগাম সতর্কতা নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।

বিশেষ করে সাগর, পাথরপ্রতিমা ও নামখানার সমুদ্র ও নদী তীরবর্তী এলাকার প্রত্যেক বাসিন্দাকে মঙ্গলবারের মধ্যে তুলে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। করোনার জন্য প্রত্যেকটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলিকে বিশেষভাবে তৈরি করা হচ্ছে। স্যানিটাইজ করার কাজ চলছে সব কটি সেন্টারে। এনডিআরএফের একটি দল ইতিমধ্যে সাগরদ্বীপে পৌঁছে গিয়েছে। এই দলটি এদিন সকাল থেকে সাগরদ্বীপ এলাকায় মাইক দিয়ে ঝড়ের আগাম সতর্কতা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বিপর্য়য় মোকাবিলা দফতরের সঙ্গে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সাগরের পাশের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঘোড়ামারা ও নামখানার মৌসুনি থেকে এদিন বাসিন্দাদের তুলে আনা হয়েছে। এদিনের বৈঠক থেকে প্রত্যেকটি দফতরের মধ্যে সমন্বয় রেখে আমফান মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিপর্যয়ের পর দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্লকগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মজুত করা হচ্ছে ত্রাণ ও ত্রিপল। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা বলেন,‘‌ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উপকূলের মানুষকে ইতিমধ্যে তুলে আনা শুরু হয়েছে।’‌

এদিন বিকেল পর্যন্ত হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আমফান ২০০৯ সালের আইলার পথ ধরে আছড়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে পাথরপ্রতিমা, সাগর ও নামখানা ব্লককে বিশেষভাবে সতর্কিত করা হয়েছে। এই ৩টি ব্লকের নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার ওপর বিশেষ নজরদারি রাখছে প্রশাসন। আইলার পর থেকে সুন্দরবনের অনেক নদী ও সমুদ্র বাঁধের দশা বেহাল। সেই বাঁধ এখনও মেরামত না হওয়ায় আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। কারণ আমফানে ঝড়ের গতিবেগ ১৫০ কিমির বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝড়ের পাশাপাশি মুষলধারায় বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এর ফলে নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস হবে। বাঁধ ধুয়ে মুছে যেতে পারে। বাঁধ দিয়ে দল ঢুকলে প্লাবিত হয়ে যাবে সুন্দরবনের বড় অংশ। ‌

Related Articles

Back to top button
Close