fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে পুরনো বন্ধুদের খোঁজে নেটিজেনরা, হোয়াটস অ‍্যাপে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন গ্রুপ

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী:  শোলের জয়-বিরুর পর পরিচালক রাজকুমার হিরানির ‘থ্রী ইডিয়ট” সিনেমা বন্ধুত্বের এক নতুন সংজ্ঞা লিখেছিল । র‍্যাঞ্চো, রাজু ও ফারহানের বন্ধুত্ব দেখে অনেকেই তখন হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর খোঁজ শুরু করে। ফের আর একবার শুরু হল স্কুল, কলেজের বন্ধুদের খোঁজার পালা। না, কোনো সিনেমার গল্প নয়, বাস্তবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পুরোনো বন্ধুর খোঁজ শুরু করেছে নেটিজেনরা।

লকডাউনের বয়স প্রায় দেড়মাস! আপাতত সবার জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে ব্যস্ততা। বাড়িতেই কাটছে দিন। ফলে, পুরনো স্কুল কলেজের বন্ধুর সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ স্থাপন করার প্রবণতা বাড়ছে নেটিজেনদের। স্কুলজীবন শেষ হয়েছে সেই কবে। স্মৃতিগুলো শুধু ফটো ফ্রেমে কিংবা অ‍্যালবামে বন্দি। অনেক বন্ধুর সাথে তো সম্পর্কও নেই। দেখা তো দূর কাছের বন্ধুও তখন যোগাযোগের বাইরে। লকডাউন সেইসব হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের ফের এক সুতোয় বেঁধেছে, মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া। এ বিষয়ে সরকারি কর্মচারী সায়ন মজুমদার বলেন, স্কুলের প্রতিটা দিন আজও স্পষ্ট মনে রয়েছে। স্কুলের গন্ডি পেরোতেই অধিকাংশ বন্ধু আলাদা হয়ে গেল। বিচ্ছিন্ন হল যোগাযোগ স্থাপন। লকডাউনে ফের পুরোনো বন্ধুদের খুঁজে পেয়েছি। স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে হোয়াটস অ‍্যাপে একটি গ্রুপ হয়েছে। সেখানেই হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো ফিরে পাচ্ছি। খুবই খুশি।

একই বক্তব্য সুজন সেনের। একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের স্বাস্থ্য অধিকারীক। তিনি বলেন, কাজের মধ্যেই রয়েছি। কিন্তু সময় পেলেই স্কুলের বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি। আগে যা হত না, এখন হয়। একই বক্তব্য শিল্পা হালদার, শুভ্রনীল পালের। তাঁরা জানান, অফিস নেই, বাড়িতেই বসে। তাই পুরোনো স্কুলের বন্ধু যাঁদের সাথে অনেকদিন দেখা নেই তাঁদের সাথে যোগাযোগ করছেন।

আরও পড়ুন:  লকডাউনে পুরোনো বন্ধুদের খোঁজে নেটিজেনরা, হোয়াটসঅ‍্যাপে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন গ্রুপ

স্কুলের প্রার্থনার লাইনে দাঁড়িয়ে খুনসুটি হোক কিংবা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ফুটবল, ক্রিকেট খেলা। টিফিনে বেঞ্চ বাজিয়ে গান, বান্ধবীদের প্রেম নিবেদন থেকে স্যারদের নিত্যনতুন নামকরণ সে সব এখন স্মৃতির পাতায়। প্রিয় বন্ধুরা কেউ দেশে কেউ বা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কাজের ব্যস্ততায় দুরত্ব বেড়েছে কাছের বন্ধুদের সঙ্গেও। কিন্তু লকডাউন আবার এক করেছে তাঁদের। এ বিষয়ে কবি সৌম্যজিৎ আচার্য বলেন, স্কুল জীবন হল স্বর্ণযুগ। ব্যস্ততায় পুরোনো বন্ধুদের হাত খোঁজা হয়নি। লকডাউন অবসর দিয়েছে তাই নিজের দিকে ফিরে তাকাচ্ছি। অনেকজন কে খুঁজে পায়নি, তাঁদের খোঁজার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন বন্ধুরা ফিরেও আসছে। তিনি আরো বলেন, স্কুলের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের একটি গ্রুপ রয়েছে সেখানে অংশগ্রহণ কম হত। কিন্তু এখন অংশগ্রহণের মাত্রা বেড়েছে। পুরোনো আমিকে খুঁজে পাচ্ছি। ভালো লাগা তৈরি হচ্ছে। এটা ঠিক লকডাউন পুরোনো বন্ধুদের ফিরিয়ে দিয়েছে। যা এক বড় পাওনা।

সোশ্যাল মিডিয়া না থাকলে স্কুল-কলেজ ছাড়ার পর হয়তো অনেক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ হতই না। অনেক কিছু খারাপ প্রভাব থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ার এই গুণের কথা এই সময়ে দাঁড়িয়ে অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। পাশাপাশি এটাও ঠিক, করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে, লকডাউনও বাড়িয়েছে কপালে চিন্তার ভাঁজ। তা সত্ত্বেও কোথাও যেন পুরোনো বন্ধুদের ফিরে পেয়ে মনের চিলেকোঠায় হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো বারবার ফিরে এসে বলে যায়,
      “বন্ধু আমরা দুজন
                                                              বন্ধু ছিলাম,থাকবো,আছি,
                                                                  একটাই তো জীবন
                                                              আয়,সুখ নিয়ে চল বাঁচি”।

Related Articles

Back to top button
Close