fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

মাঝেরহাট ব্রিজের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী, প্রায় সম্পূর্ণ টালা ব্রিজ ভাঙার কাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অবশেষে সমস্ত বাধা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতা ও দক্ষিণ শহরতলির যোগসূত্র মাঝেরহাট ব্রিজের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর এবং দক্ষিণ শহরতলির সঙ্গে কলকাতার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও এবার ফের দক্ষিণ শহরতলির সঙ্গে চার লেনের এই নতুন কেবল স্টেড রেলওভার ব্রিজের মাধ্যমে শুরু হল নয়া যোগাযোগ। ২০১৮-র ৪ সেপ্টেম্বর সেতু ভেঙে পড়ার পরে রেল এবং রাজ্যের তরফে বেশ কিছু সমস্যা তৈরি হওয়ায় বিলম্বিত হচ্ছিল কাজ। অতিসম্প্রতি রেলের তরফে মেলে চূড়ান্ত অনুমোদন। সেই সমস্ত নিয়ে উদ্বোধনের দিন রেল কে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। নেতাজির ১২৫ তম জন্মবর্ষ এই সেতুর নাম রেখেছেন তিনি জয় হিন্দ ব্রিজ।
 প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দ্বিতীয় হুগলি সেতুর ধাঁচে তৈরি হয়েছে মাঝেরহাট ব্রিজ। আগে মাঝেরহাট ব্রিজের বহন ক্ষমতা ছিল ১৫০ টন। নতুন ব্রিজের ভার বহন ক্ষমতা বেড়ে ৩৫০ টন হয়েছে। প্রায় ২৫০ কোটি টাকা খরচ করে ৬৫০ মিটার লম্বা সেতু দিয়ে চার লেনে গাড়ি চলাচল করবে। সেতুর ২২৭ মিটার ঝুলন্ত রয়েছে অর্থাৎ নিচে কোন পিলার নেই। মাঝেরহাট ব্রিজের ভেঙে পড়া অংশ ও রেল লাইনের উপরের অংশে লাগানো হয়েছে বিদেশ থেকে আনা হয় বিশেষ কেবল। এই অংশের অনুমোদনের জন্য উদ্বোধন দেরি হচ্ছিল বলে দাবি রাজ্যের।
তবে ধীরে ধীরে সেতুর ওপরে মালবাহী গাড়ি চলতে দেয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। চালু হওয়ার পর মাঝেরহাট ব্রিজ দিয়ে দ্বিমুখী যান চলাচল করবে। মাঝেরহাট ব্রিজ চালু হলেও বেইলি ব্রিজ থাকবে। তবে মালবাহী ভারী গাড়ি এখনই নতুন ব্রিজে উঠতে দেওয়া হবে না। সাহাপুর রোড দিয়ে এতদিন নিউ আলিপুর থেকে তারাতলার দিকে গাড়ি চলাচল করতো। নতুন ব্রিজ চালু হওয়ার পর সাহাপুর রোড দিয়ে দ্বিমুখী গাড়ি চলাচল করবে। এছাড়াও মাঝেরহাটের যে ক’টি বিকল্প সেতু চালু করা হয়েছিল, সেগুলিও যানজট কমানোর জন্য চালু থাকবে।
কাজে দেরি হওয়ার জন্য শহরবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সেতু তৈরিতে রেলের হাজারও অসহযোগিতার অভিযোগে উদ্বোধনী ভাষণেও রেলকে বিঁধলেন তিনি। তাঁর কথায়, ”আমরা সব কাজ করব আর রেল কৃতিৃত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবে? তা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। কেন তাহলে এতদিন কাজে ছিল না রেল?” এমনকী আর্থিক বিষয় নিয়েও রেলের প্রতি তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন। সেতু নির্মাণে রাজ্যের অবদান এবং আর্থিক খরচের কথা উল্লেখ করে এই কাজের জন্য রাজ্যের তরফে যে অর্থ নিয়েছে রেল, তা ফেরত দিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের কাছে ব্রিজটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়ম মেনে যাতায়াত, হেলমেটহীন অবস্থায় বাইক না চালানো-সহ একাধিক আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, উত্তর কলকাতা ও উত্তর শহরতলির যোগসূত্র টালা ব্রিজ ভাঙার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। এরপর চূড়ান্ত নকশা তৈরি করে পাঠানো হবে রেলের কাছে। এ বছরের জানুয়ারিতে টালা ব্রিজ বন্ধ করে ভাঙার কাজ শুরু হয়। প্রস্তাবিত নকশায় চার লেনের কেবল স্টেড রেলওভার ব্রিজ তৈরি হবে। খরচ ধার্য করা হয়েছে ২৬৮ কোটি টাকা।
সবকিছু ঠিকঠাক হলে, ২০২২-এর মাঝামাঝি টালা ব্রিজ তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close