fbpx
অন্যান্যঅফবিটহেডলাইন

নিউ নর্মাল পুজো ২…..

মনীষা ভট্টাচার্য: হাতে গোনা আর কটা দিন। তিনি আসছেন আর তাই পৃথিবীর গভীর অসুখেও একটু সুখের খোঁজে মানুষ ব্যস্ত হয়ে ঊঠেছেন। কাহাতক আর ঘরে থাকা যায়।  তাই গতদিন রাস্তায় বেরিয়ে ঠাকুর দেখার প্ল্যান করেছিলেন। আজ বাড়িতে বসে অন্তরজালে ঠাকুর দেখার প্ল্যান করুন আমার সঙ্গে। গতদিন আমরা যোধপুর পার্কে গাড়ি থামিয়েছিলাম। আজ না হয় সেখান থেকেই শুরু করা যাক। শুরুর আগে একটা কথা বলে রাখি এবছর প্রত্যেক প্যান্ডেলেই থাকবে স্যানিটাইজার, মাস্ক, থার্মাল চেকিং। আপনি বেরোলে আপনার সঙ্গেও যেন এই অতি আবশ্যিক জিনিস দু’টি থাকে। চলুন ইন্টারনেটে বেরিয়ে পড়া যাক।

মুদিয়ালি ক্লাবের খুঁটি পুজো

যোধপুর পার্ক থেকে আপনি চলে যান টালিগঞ্জের দিকে। পথে পড়বে ৮৬ বছরের টালিগঞ্জ মুদিয়ালি ক্লাবের পুজো। এবছর তাদের থিম দায়। কমিটির সম্পাদক অশোক দে বলেন, এবছর আমাদের পুজো দায়বদ্ধতার পুজো। আমাদের দায় এই পুজোর সঙ্গে জড়িত সকল মানুষের প্রতি। মণ্ডপসজ্জার শিল্পী, ঢাকি, প্রতিমাশিল্পী, ফুলওয়ালা যাদের অবস্থা এই পরিস্থিতিতে খুবই খারাপ, তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এবারের পুজো করা। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উজ্জ্বল আনন্দের জন্য নয়, বাঁচার দায় থেকেই পুজোর ভাবনা। মণ্ডপসজ্জায় আছেন গৌরাঙ্গ কুইল্যা এবং এবারও চন্দননগর থেকেই শিল্পী অসিত পালের করা সাবেকি প্রতিমাই আসবে। পুজোর কটাদিন সকলের জন্য প্রবেশ অবাধ থাকলেও অষ্টমীরদিন  সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২ টো পর্যন্ত মণ্ডপে থাকবেন শুধু ক্লাব সদস্য আর পল্লিবাসীরা। ওই সময় অষ্টমীর অঞ্জলি, সন্ধিপুজো ইত্যাদি চলবে তাই জনসাধারণের জন্য মণ্ডপ বন্ধ থাকবে। তবে এসবই আপনি দেখতে পারেন অনলাইনে।

মুদিয়ালি থেকে এবার চলে যান টালিগঞ্জের দিকে। হরিদেবপুর ৪১ পল্লির পুজো। এখানেও শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যা। ৬২ বছরে তাদের থিম ‘আগন্তুক’। সারা পৃথিবীতে করোনা ‘আগন্তুক’। শুধু তাই নয় করোনা ছড়াচ্ছে সেই খবরটাও হঠাৎই আমাদের কাছে এসে পৌঁছয়। শিল্পী গৌরাঙ্গ এই আগন্তুকের চরিত্রে  এখানে উপস্থিত করছেন খবরকে। শিল্পী জানালেন, মানুষের জীবনে শুধু খবর আর খবর। সুখের, দুখের, শিক্ষার, সচেতনতার সবরকমের। একটা সময় ঢেরা পিটিয়ে রাজা খবর দিত। তারপর পায়রা মাধ্যমে খবর পৌঁছত, সলিল চৌধুরীর সুরে হেমন্তর কণ্ঠে ‘রানার’কে তো আমাদের মনে আছেই। আজও সংবাদপত্র আমাদের কাছে খবরের অন্যতম মাধ্যম। পাশাপাশি এখন সব খবরই ডিজিটালে চলে আসে সবার আগে। সুতরাং এই মণ্ডপে গেলে আপনি খবরের রাজ্যে পৌঁছে যাবেন।

কমিটির সম্পাদক দীপঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, এবছরও মুখ্যমন্ত্রী ঊদ্বোধন করবেন। সাধারণের জন্য কোনও পাস থাকছে না তবে সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট পাস থাকবে। তাছাড়া সকল বিধিনিষেধ মেনেই পুজো হবে।

এবার বলি বেহালা বড়িশা ক্লাবের পুজোর কথা। এবছরে তাদের ভাবনা ত্রাণ। একে করোনা তাতে আমফান। সার্বিক ভাবেই বিপর্যস্ত মানুষ। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর প্রয়োজন একটু ত্রাণের। মা এখানে ত্রাতার রূপে। ত্রাণ শিবির যেমন হয় তেমনভাবেই বাঁশ, চট, ত্রিপল এসবের সাহায্যে গড়ে উঠছে মণ্ডপসজ্জা। সমগ্র ভাবনায় এবং সৃজনে রিঙ্কু দাস আর প্রতিমাশিল্পী পল্লব ভৌমিক। প্যান্ডেল এমনভাবেই হচ্ছে যাতে বাইরে থেকে তা দেখা যায়। ক্লাব সদস্যরা আশা করছেন দ্বিতীয়ার দিন থেকে জনসাধারণের জন্য মণ্ডপ খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

ঠাকুরপুকুর এসবি ক্লাবে চলছে জীবন-যুদ্ধ-বিগ্রহ নির্মাণ

ঠাকুরপুকুর এসবি পার্কের পুজো এবার সম্পূর্ণরূপেই মানবিকতার পুজো। এবছর তাদের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ। ক্লাবের সভাপতি সঞ্জয় মজুমদার বললেন, এবার তাদের থিম জীবন যুদ্ধ। পৃথিবীর এই কঠিন পরিস্থিতিতে সকলেই লড়াই করছে। তাঁর কথায় প্রতিবছরই তারা মানুষের জন্যই পুজো করেন। তবে এ বছর তারা জ্যান্ত দুর্গার পাশে থাকতে পারায় আনন্দিত। বর্ধমানের কাটোয়ার এক মেয়ে এবছর ৯৪% নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছে।  তাঁর ইচ্ছা সে ডাক্তার হবে। সেই ইচ্ছা পূরণের জন্য যা যা দরকার তা ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক করছে। এছাড়াও তাদের পুজোর সঙ্গে এমন অনেককে জড়িত করেছেন যাঁরা সত্যি জীবন যুদ্ধে ভারাক্রান্ত। পার্থ দাসগুপ্তের ভাবনায় চলছে কাজ। মণ্ডপে যে কণ্ঠস্বরটি সকলে শুনবেন সেটি দিয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্ব দেবশংকর হালদার। মণ্ডপে আলোর ভাবনাও ভেবেছেন নাট্ট্যজগতের আলোর শিল্পী। প্যান্ডেলের বাইরে থাকবে বড় এলইডি স্ক্রিন যাতে মণ্ডপের পুরো ছবিই দেখা যাবে বাইরে থেকে। স্যানিটাইজার গেট, মাস্কের ব্যবস্থা সবই থাকবে।

ইন্টারনেটে যখন ঘুরছেন তখন আর জ্যামজটের ব্যাপার নেই। তাই ঠাকুরপুকুর থেকে অনায়াসেই চলে যেতে পারেন দক্ষিণ কলকাতার সমাজ সেবী সংঘের পুজোতে। তারা এবার প্লাটিনাম জুবিলি (৭৫ বছর)-তে পদার্পণ করল। তাদের ভাবনা ৭৫ এ পঁচাত্তর আর থিম সেতু। ব্যাপারটা একটু খটমট লাগল, তাইতো? সম্পাদক অরিজিৎ মৈত্র জানালেন, বিধ্বংসী আমফানের পর তারা ক্লাবের পক্ষ থেকে ত্রাণ নিয়ে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন মানুষজনের খুবই খারাপ অবস্থা। তখন তারা ঠিক করেন সুন্দরবনের অন্যতম এক গ্রাম হিন্দোলগঞ্জের ৭৫টি পরিবারের দায়িত্ব তারা নেবেন। তাই ৭৫-এ পঁচাত্তর এবং বালিগঞ্জ থেকে হিন্দোলগঞ্জের মধ্যে এই যে সেতু বন্ধন সেইজন্য থিম সেতু। ২০২০ তে ৭৫ বছরের শুরু আর ২০২১ এ শেষ। এই এক বছর তারা ওই ৭৫টি পরিবারের পাশে থাকবেন। সমগ্র ভাবনায় আছেন প্রদীপ দাস। প্রতিমাশিল্পী পিন্টু শিকদার। যারা আসতে পারবেন না তাদের জন্য ক্লাবের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে লাইভ পুজো দেখার বন্দোবস্ত থাকবে।

আরও পড়ুন: দু’জনে দেখা হল…

আজকের অন্তরজালযাত্রা এখানেই থামুক। মা আসছেন বলে আয়োজনে কোনও খামতি নেই। শুধু আপনি ঠিক করবেন কতটা সুরক্ষিত থেকে আপনি এবারের পুজোয় অংশ নেবেন। বাকিটা তাঁর ইচ্ছা।

 

Related Articles

Back to top button
Close