fbpx
অন্যান্যঅফবিটকলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিউ নর্মাল পুজো…..

মনীষা ভট্টাচার্য: চারিদিকে এখন একটাই ধ্বনি। মা আসছেন। নিউ নর্মালে পুজো হবেই। শাড়ি-জামা-জুতোর দোকানে একটু একটু করে ভিড় হতে শুরু করেছে। স্যোশাল ডিস্টেন্সিং সেখানে কতটা মানা সম্ভব হচ্ছে তা নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সে যাই হোক। একবছর পরে মা আসছেন। কোথাও মা মুখে মাস্ক পরে থাকবেন, কোথাও আবার পরবেন না, তবে আপনার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। প্রায় সমস্ত পুজো কমিটি বলেছে স্যানিটাইজার এবং মাস্ক জরুরি এবারের পুজোয়। বাড়িতে যখন থাকবেন না তখন নতুন জামা, নতুন জুতো পরে, চুল এবং চোখের মেকআপ করে গাড়ি কিংবা পায়ে হেঁটে বেরিয়ে পড়ুন।

কুমারটুলি সর্বজনীন

সোজা চলে যান কুমোরটুলি অঞ্চলে। সেখানে দুটি পুজো কুমোরটুলি পার্ক সর্বজনীন এবং কুমোরটুলি সর্বজনীন। কুমোরটুলি পার্কের পুজো এবার ২৮তম বর্ষে পদার্পণ করল। বিশাল পার্কে চলছে মণ্ডপসজ্জা এবং প্রতিমা নির্মাণের কাজ। কমিটির সদস্য তাপস মুখার্জি বলেন, এই পুজোর সঙ্গে অনেক লড়াই আছে। তবে এবারের লড়াইটা আলাদা। এবার তাদের থিম ওয়াল মাস্ক। শিল্পী চন্দন পাল। তাপসবাবু জানালেন, এবার বিজ্ঞাপনের অবস্থা খুবই খারাপ। তবু পুজো বন্ধ করা যাবে না। খোলামেলা প্যান্ডেল হবে।

প্রতি বছরের মতো পুজো কেন্দ্রিক মেলাও হবে তবে ছোট করে। পার্কের দু’টো গেটই এবার খুলে দেওয়া হবে। প্যান্ডেলে এবার একসঙ্গে ২০-২৫ জনের বেশি থাকতে পারবেন না। অন্যদিকে কুমোরটুলি সর্বজনীন এবার ৯০ তে শূন্য নেই শুরু – এই ভাবনায় সেজে উঠছে। ১৯৩১ সালে প্রথম পুজো শুরু একচালায়। ১৯৩৮ সালে একচালা প্রতিমা ভেঙে পাঁচচালা হয়। এবার অবশ্য সেই শুরুর দিনগুলোতেই ফিরে যাবে তারা। খুবই ছোট মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে, তবু তারই মধ্যে থাকবে স্যানিটাইজার গেট, টানেল এবং সবার জন্য মাস্ক।

বাগবাজার সর্বজনীন

কুমোরটুলি থেকে বেরিয়ে চলে আসুন বাগবাজার সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে। এখানে মা সব সময়ই সাবেকি। ১০২ বছরেও ঠাকুরের উচ্চতা একইরকম থাকছে। শিল্পী নারায়ণচন্দ্র পাল মূর্তি গড়ছেন এবং কৃষ্ণনগর থেকেই আসছে মা-এর সাজ। কমিটির সাধারণ সম্পাদক গৌতম নিয়োগী জানালেন, এই প্যান্ডেমিক সিচ্যুয়েশনেও পুজো করা হবে। তবে অবশ্যই সরকারি নিয়ম মেনে সব আয়োজন হবে। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু এই পুজোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাই এই পুজোর ঐতিহ্যই আলাদা। তবে এবার বীরাষ্টমী আয়োজন বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু দশমীতে সিঁদুর খেলা হবে সীমিত ভাবে স্যোশাল ডিস্টেন্সিং মেনে।

এবার বাগবাজার থেকে সোজা বেরিয়ে উল্টোডাঙার কিছু ঠাকুর দেখে আপনি চলে আসুন বেলেঘাটা অঞ্চলে। বেলেঘাটা এলাহাবাদ ব্যাংকের পাশেই বেলেঘাটা ৩৩ পল্লির পুজো। এই পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত সাহার বক্তব্য, নিয়ম মেনে প্রতিবারের মতো ঊল্টোরথের দিনেই খুঁটিপুজো হয়েছে। প্রতিবছরই তারা থিমের মাধ্যমে মানুষকে কিছু বার্তা দিতে চান। এবারও তার অন্যথা হবে না। শিল্পী শিবশঙ্কর দাসের ভাবনায় এবার ফুটে উঠবে স্বজন।

আরও পড়ুন:প্রত্যন্ত গ্রামের শিল্প ও সাংস্কৃতিক মঞ্চের মেলবন্ধন “ক্রান্তিগোষ্ঠী” …… আঁধারে থেকেও উষার রোশনায় আলোক সন্ধানে

এই অতিমারীর সময়ে আমাদের চারপাশে দিন আনে দিন খায় যে মানুষগুলো (ফুচকাওয়ালা, বেলুনওয়ালা) তাদের ছবি, তাদের কথাতেই সাজবে ৩৩ পল্লি। প্রতিমাশিল্পী সুশান্ত পাল। ৩৩পল্লি দেখে আরও একটু এগিয়ে এসে সি আই টি মোড়ে বেলেঘাটা সন্ধানীর পুজো প্যান্ডেল। এ বছর তাদের পুজোর বয়স ৫১ বছর। বিগত ৪৮ বছর ধরে সন্ধানী সাবেকি পুজো করে এসেছে। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে তারাও থিম পুজোর স্রোতে ভেসেছেন। এবছরের থিম অস্তিত্ব। এই করোনা আবহে অস্তিত্বের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তাই তাদের এই ভাবনা। বিশ্বরঞ্জন রাজের ভাবনায় মণ্ডপ খুঁজবে অস্তিত্বকে আর তারই মাঝে শিল্পী সৌমেন পালের তৈরি মা থাকবেন আপনাদের জন্য।

বেলেঘাটা ৩৩ পল্লি-র খুঁটি পুজো

এবার সোজা বেলেঘাটা মেন রোডে পড়ে বাইপাসে উঠে রুবি হয়ে গড়িয়াহাটের দিকে চলে আসতে পারেন। এই রাস্তায় আর তেমন পুজো নেই। দক্ষিণের দু’টো পুজোর কথা এখানে বলব। গড়িয়াহাট থেকে দু’পা এগোলে একডালিয়া এভারগ্রিনের পুজো। ৭৮ বছর বয়সী এই পুজোর খুঁটি পুজো হয়েছে গত ৬ সেপ্টেম্বর। ক্লাবের সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কথায়, প্যান্ডেলে এবং প্রতিমায় আড়ম্বর থাকলেও থাকবে না প্যান্ডেলের বাইরে আলোর জৌলুস। গাইড লাইন মেনে পুজো হবে। গেটে থাকবে স্যানিটাইজার টানেল। দর্শকদের দেওয়া হবে স্যানিটাইজার পাউচ। স্যোশাল ডিস্টেন্সিং মেনে মার্ক করে দেওয়া থাকবে। সেই জায়গাতে দাঁড়িয়েই দর্শকদের ঠাকুর দেখতে হবে। এক সঙ্গে মণ্ডপের ভেতর ২০-২২ জনের বেশি থাকতে দেওয়া হবে না। দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে তাই সমবেত ভুড়িভোজ এবার বাদ। বাদ থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।

বেলেঘাটা সন্ধানীর খুঁটিপুজো

গড়িয়াহাট থেকে বাঁ-দিকে ঢাকুরিয়া পেরিয়ে আপনি পৌঁছে যেতে পারেন যোধপুর পার্কের পুজোতে। সেখানে থিম আমার জেলা। পুজোর দায়িত্বে থাকা বাপাই সেন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলার শিল্প এবং শিল্পীরা খুবই কষ্টে আছেন। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই থিম ভাবনা। এখানে পুরুলিয়ার ছৌ, বর্ধমানের কাঠশিল্প, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুতুল নাচ ইত্যাদি থাকছে। তবে মণ্ডপের মধ্যে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বাইরে থেকে মায়ের দর্শন সেরে এবারের মতো খুশি থাকতে হবে। তবে ক্লাব কর্তৃপক্ষের একটি অভিনব সংযোজন রয়েছে এবার। তারা তৈরি করছে একটি রথ। সেখানেও থাকবেন মা। যোধপুর পার্ক পুজো কমিটির ওয়েবসাইটে গেলে আপনি পাবেন একটি ফোন নম্বর ও একটি লিংক। ফোন করলে কিংবা লিংকে ক্লিক করলে আপনার বাড়ির কাছেই চলে আসবে সেই রথ। আপনি বাড়িতে বসেই সামনে থেকে দেখতে পাবেন দুর্গামাকে।

একডালিয়া এভারগ্রিন

শহরের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে একটা ব্যাপার পরিস্কার হল যে আয়োজনের কোনও ত্রুটি নেই। শুধু নিয়ম মেনে, নিষেধাজ্ঞাকে মাথায় রেখে আনন্দ করুন। মনে রাখবেন আপনার আনন্দ যেন অন্যের নিরানন্দের কারণ না হয়।

Related Articles

Back to top button
Close