fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তারকেশ্বরে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে নয়া কৌশল

পার্থ সামন্ত, তারকেশ্বর: জাতীয় পঞ্চায়েতি রাজ দিবসকে সামনে রেখে আজ ২৪ শে এপ্রিল মনরেগা-র কাজ শুরু করেছে হুগলী জেলার তারকেশ্বর ব্লকের আস্তারা দত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। স্থানীয় আস্তারা কলানন্দ পুকুর সংস্কার হাতে নিয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত । মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি অ্যাক্ট (এম জি এন আর ই জি এ) অনুযায়ী যে কোন জব কার্ড ধারী শ্রমিক কাজের আবেদন করলে তাঁকে দিতে হবে কাজ তবে এক বছরে ১০০ দিনের বেশি কেউ কাজ পাবেন না। পুকুর সংস্কার প্রসঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আনন্দ মোহন ঘোষ বলেন লকডাউনে ১০০ দিনের কাজকে ছাড় দেওয়ার পরে তারকেশ্বরের বিডিও সাহেব, পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক ও জব কার্ডের সুপার ভাইজারদের নিয়ে মিটিং করে সকলে মিলে এই কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লকডাউনের জন্য গ্রামের গরিব মানুষের নগদ অর্থে টান পড়েছে, ১০০ দিনের কাজ চালু রাখলে গ্রামের গরিব মানুষের কাছে নগদ অর্থের যোগান পৌঁছনো সম্ভব হবে। আনন্দ মোহন বাবু বললেন এই পুকুর থেকে পার্শ্ববর্তী প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ বিঘা জমিতে চাষের জল যায়। গ্রামের বহু লোকের জমি আছে এখানে, পুকুরটির সংস্কার হলে তাঁদের চাষের অনেক সুবিধা হবে। আমরা পঞ্চায়েত থেকেই প্রত্যেক শ্রমিকের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে প্রত্যেক শ্রমিককে মাস্ক দিয়েছি।

তাছাড়া যেখানে মাটি কাটা হচ্ছে সেই জায়গায় ও তার থেকে ৯/১০ ফুট দূরে দূরে বাঁশ পুঁতে তার উপর লোহার রিং দিয়ে তৈরি হয়েছে মাটির ঝুড়ি রাখার জায়গা। যিনি মাটি কাটছেন উনি মাটি কেটে মাটি ভর্তি ঝুড়ি রেখে দিচ্ছেন ওই বাঁশ দিয়ে তৈরি উঁচু জায়গায় তারপর অন্য শ্রমিক সেই মাটির ঝুড়ি নিজে নিজে মাথায় তুলে ৯/১০ ফুট দূরে বাঁশ দিয়ে তৈরি অন্য একটি উঁচু জায়গায় রেখে গেলে আর একটি অন্য শ্রমিক সেটি নিয়ে আরো ৯/১০ ফুট দূরে গিয়ে একই ভাবে রেখে দিচ্ছেন। ফলে কেউ কারো মুখোমুখি হচ্ছেন না। আমরা এই ভাবেই সামাজিক দূরত্ব বজায়ের পন্থা বার করেছি যাতে প্রত্যেক শ্রমিকই সুরক্ষিত থাকেন।

আরও পড়ুন: কোলাঘাট স্কুলের পক্ষ থেকে করোনার জন্য সাহায্য

লকডাউনে তারকেশ্বর ব্লকে আস্তারা দত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতই প্রথম এই অনবদ্য নজির তৈরি করে ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের হাতে অৰ্থের যোগান ঠিক রাখতে এ ধরনের প্রকল্প হাতে নিল। পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক সৌরিশ মিত্র জানান এই প্রকল্পে মোট ১৬,৭৫৬ জন শ্রমিকের কাজ আছে। প্রকল্পের মোট ব্যায় ধরা হয়েছে ৩২,৯৬,৪৭৬ টাকা। আজ থেকে প্রতিদিন ২৮২ জন করে শ্রমিকের ১০ দিনের মাস্টার রোল বার করা হয়েছে, ১০ দিন কাজ হওয়ার পর ভবিষ্যত কর্মপন্থা ঠিক করা হবে।

এই কাজের সুপারভাইজার প্রভাস জানা বলেন সামাজিক দূরত্ব মেনে কাজ হওয়াতে লেবারদের মতো আমিও খুব খুশি। কথা হচ্ছিল এই কাজের শ্রমিক প্রভারানী জানার সঙ্গে। প্রভারানী দেবী বললেন করোনার জন্যে চারদিকে সব কিছু বন্ধ, কোথাও কাজ নেই এই অবস্থায় জমানো টাকাও শেষ হয়ে যাচ্ছে। জব কার্ডের কাজ চালু হতে খুব ভালো হলো, হাতে তবু দুপয়সা আসবে। দুজন চাষী কাজ করছিলেন পাশের জমিতে। একজন চাষী অশোক জানা বললেন পুকুরটা সংস্কার হলে আমাদের আর দূর থেকে চাষের জল আনতে হবেনা। দ্বিতীয় চাষী প্রশান্ত ধাড়া বললেন আশেপাশে খাল ও ডিপ টিউবওয়েল কিছুই নেই পুকুরটা কাটানো হলে চাষের কাজে আমাদের সবারই উপকার হবে।

Related Articles

Back to top button
Close