fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নবাব সিরাজের রাজধানী মুর্শিদাবাদে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি জোরালো হচ্ছে

মোকতার হোসেন মন্ডল:এক সময় আজকের বাংলাদেশ,পশ্চিমবঙ্গ, বিহার,ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদ। কিন্তু ঐতিহাসিক সেই নবাবী জেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি উঠলেও কোনও সরকার গুরুত্ব দেয়নি। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মধ্যে গত ঊনিশের লোকসভার আগে তৃণমূল সরকার ইউনিভার্সিটি করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এতটা দিনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ সমাপ্ত হয়নি বলে অভিযোগ।

সরকারের ঘোষণা মতো মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতির হাল-হকিকত জানতে তথ্যের অধিকার আইনে উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের কাছে স্টুডেন্ট ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার সেক্রেটারি সৈয়দ শরীফ আল মামুন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি দরখাস্ত জমা দেয়। ২২ জুন ওই চিঠির জবাবে উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মুর্শিদাবাদ ইউনিভার্সিটি তৈরি হবে বহরমপুরেই। যদিও কত দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ হবে তা নিয়ে কোন নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়নি। সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সোস্যাল সাইটে পোস্ট করা হয় এবং জানানো হয়, ইউনিভার্সিটির দাবিতে ফের দ্রুত পথে নামবে এসআইও।
সৈয়দ বিন শরীফ আল মামুন উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের কাছে জানতে চান “মুর্শিদাবাদ ইউনিভার্সিটি প্রস্তুত করার জন্য যে ঘোষণা করা হয়েছিল তার বর্তমান অবস্থান কি?”এই প্রশ্নের জবাবে উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে মুর্শিদাবাদ ইউনিভার্সিটি ২০১৮ ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে।
উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ ইউনিভার্সিটির বাউন্ডারি ওয়াল তৈরি করার জন্য ১ কোটি ৮৪ লক্ষ্য ৫৪ হাজার টাকা প্রশাসনিক স্তরে অনুমোদন দেওয়া হয়ে গেছে।

তৃতীয় প্রশ্নে এসআইও-র পক্ষে সৈয়দ বিন শরীফ আল মামুন ইউনিভার্সিটির জন্য কোন জায়গা ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানতে চান। এই প্রশ্নের উত্তরে উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে ইতিমধ্যেই বহরমপুরে একটি জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ ইউনিভার্সিটি তৈরি করার জন্য।
এরপর সর্বশেষ প্রশ্ন সৈয়দ শরীফ আল মামুন জিজ্ঞাসা করেন এই কাজ শেষ করতে সরকার কোন সময় সীমা নির্দিষ্ট করেছে কিনা সে বিষয়ে। উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
কিন্তু আর কতদিন পর ইউনিভার্সিটির কাজ শেষ হবে? সেই প্রশ্ন উঠছে। এসআইও-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী মাসেই মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি পূরণে বৃহত্তর আন্দোলনের সূচনা করা হবে।

সংগঠনটি আরও বলছে, মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য এসআইও পশ্চিমবঙ্গের আপোষহীন সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে
২০১৮ সালের শুরুতে রাজ্য সরকার মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় ঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পর্যন্ত বিশেষ কার্যকরী কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। এই প্রসঙ্গে বেশ কয়েকবার সরকার পক্ষের কাছে দরবার করে এসআইও। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিশেষ কোন অগ্রগতি না হওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরে উল্লেখিত বিষয় সম্পর্কে জানতে আরটিআই ফাইল করা হয়।”

অনেকে বলছেন, মুর্শিদাবাদ ঐতিহাসিক জেলা। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পীঠস্থান।

নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদিয়ার পলাশী প্রান্তরে ১৭৫৭ সালে যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তা মুর্শিদাবাদ থেকে।

যে জেলা এক সময় এতগুলো রাজ্যের রাজধানী ছিল সেখানে আজও একটা ইউনিভার্সিটি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। কেউ কেউ বলছেন,এখানে ইউনিভার্সিটি খুব জরুরি। এত আন্দোলন সত্ত্বেও ইউনিভার্সিটির কাজ কবে শেষ হবে সরকার জানাতে পারছে না, এটা দুর্ভাগ্যজনক।

এদিকে আগামী একুশের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ ইউনিভার্সিটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সরব হবে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, কংগ্রেস ও সিপিএম স্বাধীনতার এতটা বছর ক্ষমতায় থেকেও ইউনিভার্সিটি করেনি। সেক্ষেত্রে তৃণমূল সরকার কাজ শুরু করেছে।
কিন্তু শিক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বলছেন, ইউনিভার্সিটি যেখানে এতো প্রয়োজন সেখানে কাজ সম্পন্ন করতে এতো দেরি কেন? আবার অনেকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার নামে ইউনিভার্সিটি করার দাবি জানিয়েছেন। আবার লেখক ফারুক আহমেদ উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button
Close