fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় সালিশী সভার নিদান,ছাত্রকে গলায় জুতোর মালা, অপমানে আত্মঘাতী ছাত্র

মিল্টন পাল,মালদা,১৪মে: বাগান থেকে আম ভাঙ্গা নিয়ে সামান্য বিবাদ। সেই বিবাদের জেরে সালিশি সভা। সালিশীর নিদান মত জুতোর মালা পরিয়ে ক্ষমা চাওয়ার অভিযোগ। অপমানে আত্মঘাতী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।ঘটনাটি ঘটেছে রতুয়া থানার মাকাইয়া কলোনি গ্রামে। এমন ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য এলাকায়। শুরু হয়েছে তদন্ত। তবে এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয় নি।  পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে,আত্মঘাতী দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার্থী নাম শাহীন আক্তার(১৮)। মৃত পরিবারের সদস্য মহন্মদ কাজি জানান,গ্রামের শামীম আক্তারের এলাকায় চার বিঘা আমের বাগান রয়েছে। সম্প্রতি মরশুমে আমখাছে আম ধরেছে।

মঙ্গলবার শামীম আক্তারের বাগান থেকেই বাড়ি ফেরার সময় একটি আম পাড়ে শাহীন। ঘটনা দেখতে পায় শামীমের পরিবারের সদস্যরা। এই নিয়ে শামীম দলবল নিয়ে শাহীনের পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। এবং শাহীনের বাবা ও মাকে ধাক্কাধাক্কি করে। এরপর সমস্ত ঘটনা গ্রামের মোড়ল মাতব্বরদের জানা। আর সেই কারণে গ্রামে সালিশি করেন শামীম আক্তার ও তাঁর পরিবার। সেই সালিশিতে নিদান দেওয়া হয় জুতোর মালা পড়িয়ে বাগান মালিকের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। মাথা ন্যারা করে গ্রামে ঘোরানো হবে শাহীনকে। সেই মত ক্ষমা চাওয়ানো হয় ওই ছাত্রকে। এরপর থেকে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই অপমানে বৃহস্পতিবার সকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয় শাহীন।পরিবারের সদস্যরা ঘটনা দেখতে পেয়ে তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনার পর রতুয়া থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: পণ না পেয়ে গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ স্বামী সহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে

তবে অভিযুক্ত শামীম আক্তার সহ তাঁর স্ত্রী সামসেরা বিবি ও ছেলে সাহাবুদ্দিন পলাতক। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর শামীম সহ তিজনের নামে রতুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মোড়ল মাতব্বরদের খোঁজে তল্লাশী শুরু হয়েছে।  গ্রামের আরেক বাসিন্দা সাহেব শেখ বলেন,ঘটনাটি খুব দুঃখজনক। সামান্য একটি আম পাড়া নিয়ে এক স্কুল ছাত্রকে হেনস্থা ও অপমান করা আর তার জেরে আত্মহত্যা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেডকোয়ার্টার মেহেদী হোসেন জানিয়েছেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছে রতুয়া থানায়। অভিযুক্তদের খোঁজ করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close