fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

 হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন আনন্দপুরের সাহসিনী নীলাঞ্জনা, জীবনের গানে স্যালুট হাসপাতালের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: চোখের সামনে তরুণীকে আক্রান্ত হতে দেখে কর্তব্যের খাতিরে নিজের গাড়ি থেকে নেমে এসে তাকে রক্ষা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ওই দুর্ঘটনায় ডান পায়ের হাড় ভেঙে যায় আনন্দপুরের সাহসিনী নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়ের। সেই সাহসিনী নীলাঞ্জনাকেই ৮ দিন পর ছুটি দিল হাসপাতাল। যদিও ৪ মাস এখন তিনি হাঁটতে পারবেন না।
 হাসপাতাল থেকে বেরোবার সময় তার কাজকে সম্মান জানিয়ে সমবেত সমস্ত চিকিৎসক এবং নার্সরা তার সঙ্গে গলা মেলালেন, ‘হও করমেতে বীর,  হও ধরমেতে বীর,  হও উন্নত শির, নাহি ভয়।’ স্ট্রেচারে শুয়ে শুয়ে সেই গান গাইলেন নীলাঞ্জনাও। জীবন বাজি রেখে তার সাহসকে কুর্নিশ জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরাও।
প্রসঙ্গত, সপ্তাহখানেক আগে স্বামীর জন্মদিন সেলিব্রেশন করে স্বামী এবং মেয়েকে নিয়ে ফিরছিলেন আনন্দপুর এর সাহসিনী নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়। কালিকাপুরে অভ্যুদয় হাউসিং কালিকাপুর অভ্যুদয় হাউসিং কমপ্লেক্সের কাছে তার নজরে পড়ে, পাশের একটি গাড়ির ভিতরে এক তরুণীকে ক্রমাগত মারধর করে চলেছেন এক তরুণ। নিজের গাড়িকে সামনে আড়াআড়ি ভাবে রেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমে আসেন।পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আক্রান্ত তরুনীর হবু স্বামী অভিষেক তরুণীকে গাড়ি থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তার ফলেই দুর্ঘটনায় আহত হন নীলাঞ্জনা। এমনকি সঠিক সময় মাথা না সরিয়ে নিলে নীলাঞ্জনার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারতো বলে দাবি করেছেন তার স্বামী দীপ শতপথী।
কিন্তু অভিযুক্ত যে আক্রান্ত তরুণীর হবু স্বামী, তা ভাবতে পারেনি পুলিশও।পুলিশকে ওই তরুণী প্রাথমিক ভাবে জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন অজানা অচেনা যুবকের সঙ্গে আলাপ হয়। তার সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে তিনি বিপদে পড়েন। এমনকি যুবকের নামও ভুল বলেন ওই তরুণী। আবার নিজেই ফোন করে ওই যুবককে সবকিছু জানিয়ে পালিয়ে যেতে বলেন।
কিন্তু ঘটনার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, তারা দুজনেই একে অপরকে ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চেনেন এবং তারা একে অপরের সহকর্মী। লকডাউনের আগেই তাদের বিয়ে হবার কথা ছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে তরুণীর মা জলপাইগুড়ি থেকে আসতে না পারায় সেই নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়। তা নিয়ে কথা বলতেই তরুণী ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করেন। আর ঝামেলা মিটমাট হওয়ার বদলে দুজনের মধ্যে গাড়িতে মারপিট ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। সেই সময়  একজন তরুনীকে আক্রান্ত হতে দেখে তার স্বাভাবিক কর্তব্যে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন নীলাঞ্জনা। এদিকে ঘটনায় নীলাঞ্জনাদেবী আহত হওয়ায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান  ওই তরুণী। অভিযোগ না জানালে তিনি বিপদে পড়ে যাবেন এই ভেবে নিজের হবু স্বামীর বিরুদ্ধেই বিভ্রান্তিমূলক অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে আহত নীলাঞ্জনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী এবং তার চিকিৎসার খরচ নেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু পরে পুলিশি তদন্তে গোটা বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় এবং গ্রেফতার হন অভিষেক  পান্ডে নামে ওই অভিযুক্ত যুবক। তবে হাসপাতালের শয্যা শুয়েই নীলাঞ্জনা বলেন, ‘আক্রান্ত এবং অভিযুক্তের মধ্যে কি সম্পর্ক ছিল সেটা আমি জানি না। তবে ওর জায়গায় অন্য যে কোন মেয়ে থাকলে আমি সেটাই করতাম যেটা আমি করেছি।’ স্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন তার স্বামীও।

Related Articles

Back to top button
Close