fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ব্রাউন সুগার খাওয়ার প্রতিবাদ করায় নবম শ্রেণির ছাত্রকে খুন

মিল্টন পাল,মালদা:  ব্রাউন সুগার খাওয়ার প্রতিবাদ করায় নবম শ্রেণির ছাত্রকে খুন করে ঝুলিয়ে দেয় ব্রাউন সুগার কারবারিরা। ঘটনার বিবাদ মেটাতে গ্রামে বসে সালিসী সভা। মৃতের পরিবারের অভিযোগ  সভা ভেঙে দেয় অভিযুক্তরা । সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে মালদার মোথাবাড়ি থানার উত্তর লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম আল কারীম সাইন(১৭)। সে স্থানীয় বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীতে পড়াতো। মৃতের আত্মীয় আসিফ ইকবাল বলেন,এই এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্রাউন সুগারের নেশা ও কারবার বেড়েই চলেছে। এই নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন থেকে পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েও কোন লাভ হয় নি। বরং দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে মাদাকাশক্তদের আনা গোনা।এলাকার অভিযুক্ত দুই যুবক রোয়েল সেখ ও সাইল শেখ ব্রাউন সুগার খেতো ও কারবার চালাতো। পাশাপাশি এলাকায় বহিরাগতদের নিয়ে এসে এই মাদক জাতীয় নেশা করত। যার ফলে একদিকে বহিরাগতদের আনাগোনা অন্যদিকে সমাজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। সন্ধ্যা হতেই গ্রামের রাস্তা দিয়ে চলাফরা করা যেত না। আর এতেই প্রতিবাদ করেছিল আলকারিম সাইন। মাদকদ্রব্য খাওয়াতে তাদের বাধা দিয়েছিল।

এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় বেশ কিছুদিন আগে অভিযুক্তরা আল-কারীম সাইন ও তার দাদা হাসান সাইনকে ব্যাপক মারধর করে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল-কারীমের বাবা আসুস সাইন মোথাবাড়ি থানায় অভিযুক্তদের নামে লিখিত অভিযোগ করে। রবিবার গ্রামের লোকেরা এই বিষয় নিয়ে একটি সালিশি সভা ডাকা হয়েছিল কিন্তু অভিযুক্তরা সেই সালিশি সভায় এসে ভেঙে দেয়। সোমবার রাত থেকেই আল-কারীম সাইন নিখোঁজ ছিল। সারা রাত খোঁজ করেও মেলেনি তার সন্ধান। মঙ্গলবির দেখা যায় বাড়ির পিছনে একটি নিমগাছে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের সন্দেহ তার ছেলেকে দুষ্কৃতীরা খুন করে নিম গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে। মৃতের পরিবার অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: গোপালনগর হাইস্কুল থেকে কেশাপাট পীরতলা পর্যন্ত বেহাল ভগ্ন রাস্তা, প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে,মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পর থেকে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। তাদের খোঁজে চিরুনী তল্লাশী শুরু করেছে মোথাবাড়ি থানার পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close