দেশহেডলাইন

নির্ভয়া মামলার শুনানি চলাকালীন আদালতেই জ্ঞান হারালেন বিচারপতি

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:    শুনানি চলাকালীন নির্ভয়াকাণ্ডের আর ভানুমতী।পরে জানা যায় জ্বরে ভুগছিলেন। শুনানি চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ফলে মামলার শুনানি পিছিয়ে গিয়েছে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার শুনানি হবে বলে খবর। চার দোষীকে আলাদা-আলাদা ফাঁসি দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সেই শুনানী চলার সময় জ্ঞান হারান।

অন্যদিকে, নির্ভয়ার ধর্ষক বিনয় শর্মার প্রাণভিক্ষার আরজি খারিজ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। আসামি বিনয় শর্মার মেডিক্যাল রিপোর্ট বলছে তিনি মানসিক এবং শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ। বিনয় শর্মার আবেদনে বলা হয়েছিল, তাঁর মানসিক অসুস্থতা সম্পর্কিত সমস্ত প্রাসঙ্গিক রেকর্ড রাষ্ট্রপতির সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। কিন্তু দিন আদালতে সরকার পক্ষ দেখিয়ে দেয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি যে মেডিকাল রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল তাতে তাঁকে মানসিক দিক থেকে একেবারে সুস্থই বলা হয়েছিল। এটাই বিনয়ের ফাঁসির হাত থেকে বাঁচতে শেষ আইনি চেষ্টা ছিল। কাজেই ফাঁসির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার তার আর কোনও সম্ভাবনা তার নেই।

এর আগে আরও দুই আসামি মুকেশ সিং ও অক্ষয় কুমার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়। তারপর তারাও সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছিল। সেখানও সুরাহা পায়নি। বিনয়ের ক্ষেত্রেও এক অন্যথা হল না।প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার আদালতে শুনানি চলাকালীন বিনয়ের আইনজীবী এপি সিং দাবি করেন, তাঁর মক্কেলকে বেআইনিভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এমনকী তার উপর অত্যাচারও চালিয়েছে তিহার জেল কর্তৃপক্ষ। যদিও বিনয়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে সরকার। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘আইনজীবী এপি সিং দাবি সঠিক নয়। এ বিষয়ে বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার বিশেষ কোনও জায়গা নেই। কারণ রাষ্ট্রপতি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।’ এদিন বিনয়ের আইনজীবীর সমস্ত দাবি খারিজ করে দেয় আদালত।

আরও পড়ুন: নিম্নকক্ষ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করলেন বিপিন রাওয়াত

এদিকে ধর্ষণ কাণ্ডের সময় পবন গুপ্তা নাবালক ছিল বলে দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু পুলিশি তদন্তের সময় তাকে নাবালক হিসেবে দেখানো হয়নি। এ নিয়ে আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পবনের আইনজীবী। সেসময় তার আরজি খারিজ করে দেওয়া হয়। কেন তার সেই আরজি খারিজ করা হল, এনিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তার আইনজীবী। তার সেই আরজিও খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এদিন বিনয়ের আরজি খারিজের ফলে চার দোষীর ফাঁসির জট কিছুটা কাটল বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্ভয়াকাণ্ডে চার অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়ে অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশ দেয় দিল্লি আদালত। দিল্লি হাইকোর্টের ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় সরকার।বিচারের আশায় দিনের পর দিন ঘুরে বেড়াতে হয়েছে তাঁর মা আশা দেবীকে। তবে হাল ছাড়েননি নির্ভয়ার বাবা-মা। মেয়ের আত্মা যাতে শান্তি পায়, তার জন্য দোষীদের শাস্তি চেয়েছেন বারবার।

 

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close