fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

নীতিশ নয়, বিজেপিতেই ভরসা বিহারের এনডিএ শরিকদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাটনা: করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ। অঙ্ক কষে নীতিশ কুমারকে মুখ করেই এগোতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু অন্য শরিকরা চাইছে নীতিশকে বাদ দিয়ে বিজেপির নেতৃত্বে অন্যমুখ।
রবিবার এনডিএ-এর পক্ষ থেকে একটি ভারচুয়াল জনসভা করে বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজাতে চলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই জনসভায় থাকার কথা নীতিশ কুমারেরও। কিন্তু তার আগেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বিজেপি-জেডইউর জোটসঙ্গী লোকজনশক্তি পার্টির (এলজেপি) নেতা চিরাগ পাসওয়ান। জেডইউ বা নীতিশ কুমার নয়, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বে লড়তে চায় বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আমাদের কে জোটের নেতা হবে বা কে জোটের মুখ হবে এই ব্যাপারটা ‘বৃহত্তম’ জোটসঙ্গীরই ঠিক করবে। তবে আমরা এটুকু বলতে পারি বিজেপি যা সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তার সঙ্গেই আছি। তাতে বিজেপি যদি শেষপর্যন্ত নীতিশকেই মুখ করে, আমরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’

পাশাপাশি তিনি এও জানিয়ে দেন, জোটের আসন ভাগাভাগিতে নীতিশের কথা তাঁরা শুনবেন না। শুধু তাই নয়, তাদের যা আসন রফা হবে সবটাই বিজেপির সঙ্গে। এর থেকেই স্পষ্ট, তারা জেডইউকে বা নীতিশ কুমারকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে না।

তবে ২০১৯ এর শেষের দিকে বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে নীতিশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করেই এগোবে তারা। এর মূল কারণ ছিল, নীতিশ কুমারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে ব্যবহার করা। তাছাড়া, বিজেপি জোট ভেঙে দিলে নীতিশ কুমার ফের লালু যাদবের আরজেডির সঙ্গে জোট ফিরে যেতে পারে। কিন্তু সেই সময় ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয়ের পরেও, দিল্লি, ঝাড়খণ্ড এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্য নির্বাচনে বিজেপি অপ্রত্যাশিত ধাক্কা খেয়েছিল। তাই ২০১৫ সালের একলা চলার ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চায়নি।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতি নতুন করে হিসাব বদলে দিয়েছে। কারণ, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নীতিশ কুমারের ব্র্যান্ডের ‘সুশান বাবু’ পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়েছে। অন্যদিকে করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিহারের বেকারত্ব সমস্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। কারণ করোনা প্রাদুর্ভাবের আগেই বিহার ১০ শতাংশের বেশি বেকারত্বের সমস্যায় ভুগছিল।

সর্বশেষ সিএমআইই তথ্য অনুসারে, জাতীয় চাকরি হারের হার এখন ২৩.৯১ শতাংশে। বর্তমান এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে ১০ লক্ষেরও বেশি অভিবাসী বিহারে ফিরে এসেছেন। যা বিহারে বিরাট দুর্দশা তৈরি করতে বাধ্য। আর তাতে নীতিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। তাই বিজেপি একলা চলার সিদ্ধান্ত না নিলেও জোট সঙ্গীদের গুরুত্ব বাড়াতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles

Back to top button
Close