fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ঘরে ফিরেও মেলেনি সাহায্য, বিক্ষোভে সামিল পরিযায়ীরা

মিল্টন পাল,মালদা: ঘরে ফিরেও মেলেনি রাজ্যের আর্থিক সাহায্য। ঘটনাায় ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বাইরে থেকে ফেরা চাচল এর পরিযায়ী শ্রমিকরা।  করোনা সংক্রমনের জেরে ভিন রাজ্যে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকেরা জেলায় ফিরে এসেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হলেও কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েতে মেম্বারদের আত্মীয়দের নাম এসেছে। অথচ প্রকৃত পরিচয় শ্রমিকরা তাদের কোনও নাম আসেনি। আর এই ঘটনার পর পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাল কয়েকশো পরিযায়ী শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার চাঁচোলের ১ নম্বর ব্লকের মহানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে।পঞ্চায়েত প্রধানের দাবি তৃণমূল ষড়যন্ত্র করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
করণা সংক্রমণে জেরে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। আর এরপর থেকে ভিন রাজ্যে বহু শ্রমিক আটকে পড়ে। সেখানে তারা কষ্ট করে থাক ছিলেন।পরবর্তীতে কেউ বা সাইকেলে চেপে আবার কেউ বা পায়ে হেঁটে রাজ্যে ফিরতে শুরু করে। পরবর্তীতে বাংলায় রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ট্রেন ও বাসের মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকেরা জেলায় জেলায় ফিরে আসে।এরপর থেকেই মালদা জেলার বিভিন্ন জায়গায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে সেই পরিযায়ী শ্রমিকরা থাকতে শুরু করে।পশ্চিমবাংলায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সেই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্যের কথা ঘোষণা করে।সেইমতো পঞ্চায়েতের তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি সেই তালিকাভুক্তদের সাহায্য দেওয়ার তালিকা বের হয়। সেখানে দেখা যায় প্রকৃত পরিযায়ী শ্রমিক যারা রয়েছেন তাদের কোনো নাম নেই। সেই তালিকায় রয়েছে মহানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কংগ্রেসের মেম্বারদের আত্মীয়,ঘনিষ্ঠদের নাম। আর এই তালিকা প্রকাশের পরই শ্রমিকেরা পঞ্চায়েত দপ্তরের গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।বাধ্য হয়ে এদিন কয়েকশো পরিযায়ী শ্রমিক পঞ্চায়েত দপ্তরের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ভিন রাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিক এরশাদ আলী জানান,বাড়িতে ফিরে আসার পর স্থানীয় পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বলা হয় সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে চাল,ডাল,আলু সাহায্য করা হবে। সেইমতো তারা পঞ্চায়েতের নাম নথিভুক্ত করেন।সম্প্রতি সেই তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায় সেখানে মেম্বারের আত্মীয় ঘনিষ্ঠদের নাম রয়েছে। প্রকৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের কোনো নাম নেই। কেন এইরকম হবে জবাব দিতে হবে প্রধান মেম্বারদের। যতক্ষণ না জবাব দেবে ততক্ষণ এই বিক্ষোভ চলতেই থাকবে।

চাচল ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসু বলেন, ঘটনার তদন্ত করে দেখা হবে। যদি অভিযোগ প্রমানিত হয় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশ্বাস ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের।
গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গোপাল চৌধুরী বলেন, বিডিও অফিস থেকে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে সেই অনুযায়ী কুপন বিলি করা হয়েছে। কারো নাম বাদ পড়লে তিনি পঞ্চায়েতে লিখিত ভাবে আবেদন করতে পারেন। তৃণমূল কংগ্রেস ষড়যন্ত্র করে এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর পিছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদত দিচ্ছে রাজ্যের শাসক দল।
জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি দুলাল সরকার বলেন, কংগ্রেস মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে কংগ্রেস তৃণমূলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আসলে পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য দেওয়ার নাম করে স্বজন পোষণ করেছে। এখন তা প্রকাশ্যে চলে আসায় তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে হাত পা ঝেড়ে ফেলতে চাইছে। আমরা ঘটনার সঠিক তদন্ত চাইছি।
জেলা বিজেপির রাজ্য নেতা মানবেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। এটা সাহায্যের অর্থের কাটমানি নিয়ে বিবাদ। তাই ন্যায্য পাওনার দাবিতে পঞ্চায়েত ঘেরাও করেছে। আমরা এর তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

Related Articles

Back to top button
Close