fbpx
কলকাতাহেডলাইন

বজ্র আটুনি ফস্কা গেরো, কন্টেইনমেন্ট এলাকায় অসচেতন সাধারণ!

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো! কার্যত এটাই এখন  কন্টেইনমেন্ট  এলাকার নতুন সংজ্ঞা। শুক্রবার  কন্টেইনমেন্ট     এলাকা জুড়ে এমনটাই দেখা গেল।
একদিকে  কন্টেইনমেন্ট   এলাকা জুড়ে যেমন গার্ড রেল বসিয়ে এলাকা সিল করা হয়েছে। অন্য্ দিকে কনটেনমেনট এলাকায় অসাবধানতাবশত অবাধে মুখের মাস্ক নামিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন জন সাধারণ। নানা অছিলায় মুখের থেকে নামিয়ে ফেলছে মুখের মাস্ক। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে যেখানে করোনার মত অতি মারির সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় পারস্পরিক দূরত্ব ও মাস্ক এবং এলকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার। সেখানে মানুষ কিভাবে পুলিশ প্রশাসনের সামনে এই অসাবধানতা  করছেন। যদিও বেশিরভাগ কন্টেনমেন্ট এলাকাতে পোস্টার ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বাইরে থেকে প্রবেশ নিষেধ। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ গার্ড রেল পেরিয়েই অবাধে ঢুকে পড়ছেন কনটেনমেনট এলাকায় সেই চিত্র দেখা গেছে বহু জায়গায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং নবান্ন থেকে বহুবার সাংবাদিক সম্মেলন করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু বারেবারেই জনসাধারণ অসাবধানতা কেই অবলম্বন করছেন। পুরসভার পক্ষ থেকেও পৌর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম হাতজোড় করে সাধারণ মানুষের কাছে সাবধানতা অবলম্বন করতে আবেদন জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে মানুষ নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছেন। সাধারণ মানুষ যদি নিজেদের সচেতন করতে না পারেন সে ক্ষেত্রে মহামারী অবশ্যম্ভাবী। এখন যে সংক্রমণ রাজ্যের বিভিন্ন পকেট এ রয়েছে খুব শীঘ্রই তা আগুনের মত ছড়িয়ে পড়বে গোটা রাজ্যে।
বৃহস্পতিবার বিকালে থেকে কার্যত মহানগরীর বুকে থাকা কনটেনমেন্ট জোনগুলি সহ বৃহত্তর কলকাতার একটা বড় অংশেই শুরু হয়েছে লকডাউন। ওই সব এলাকাকে লোহার রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। সব জায়গায় মোতায়েন রয়েছে স্থানীয় থানার পুলিশ।
পেট্রোলিং ডিউটির মাধ্যমে পুরো এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সেই রেলিং টপকে ভিতরের কাউকে বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না আর বাইরের কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এলাকার ওষুধের দোকান খোলা রাখার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হলেও বাকি সব রকমের দোকান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে ওই এলাকায়। তবে পুরপ্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে লকডাউন চলাকালীন প্রতিদিন সকালে ‘সুফল বাংলা’র সবজি গাড়ি ওই কনটেনমেন্ট জোনের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে যাবে। সেখান থেকে ন্যায্য মূল্যে সবজি পাবেন ওই সব এলাকার বাসিন্দারা। সেই সঙ্গে ওই সব এলাকায় একটি করে হেল্পলাইন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। যদি কারোর মুদিখানা বা অন্য কোনও দরকার পরে তাহলে সেই নম্বরে ফোন করলে লোক এসে প্রয়োজন মিটিয়ে দিয়ে যাবে। এক কথায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যাবে হোম ডেলিভারিতে। কোনও ভাবেই বাইরে যাওয়া যাবে না।
 এদিন সকাল থেকেই কলকাতার লকডাউন এলাকায় মাইকিং করে পুলিশ ওই ২৫টি কনটেনমেন্ট জোনের  বাসিন্দাদের লকডাউন চলাকালীন কী করতে পারবেন আর কী করতে পারবেন না সেই সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করে দেয়। পাশাপাশি বিধিনিষেধ ভঙ্গ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়ে দেয় পুলিশ। আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে লকডাউন এলাকার বাসিন্দাদের অফিস হাজিরা বাধ্যতামূলক নয়। তবে এই লকডাউনের জেরে উত্তর শহরতলির জনজীবন কার্যত থমকে গিয়েছে।
 শহর কলকাতার বুকে বিশেষ করে দক্ষিন শহরতলির জনজীবন অবশ্য স্বাভাবিক রয়েছে। খোলা রয়েছে বাজারহাট, দোকানপত্র। খোলা রয়েছে অফিসও। চলছে যানবাহন। তবে কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে সব কিছু বন্ধ রয়েছে।
এদিন পুরসভায় পুরো প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য অতীন ঘোষ জানান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কনটেন মেনট এলাকা গুলিকে ঘিরে রাখা হয়েছে। কিন্তু যেগুলি বড় রাস্তা ওপর অবস্থিত সেগুলিকে সাময়িকভাবে ঘিরে রাখা হয়েছে। এর জন্য সাধারণ যানচলাচল বা মানুষের জীবন বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না। শুধু ওই বাড়ি সংলগ্ন দোকানপাট বন্ধ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ফুটপাত ও গার্ড রেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হচ্ছে।’

Related Articles

Back to top button
Close