fbpx
অন্যান্যঅফবিটকলকাতাহেডলাইন

বাংলাদেশি অতিথি নেই, খাঁ খাঁ করছে হোটেল, রেস্তোরাঁ…… মন্দা নিউ মার্কেট চত্ত্বর

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট চত্ত্বরের চেনা ছবিটাই হারিয়ে গিয়েছে করোনার দাপটে। এই চত্ত্বরে ফুটপাতের বিকিকিনি থেকে একাধিক হোটেলে অতিথিদের সমাগমে এক সময় গমগম করত। কিন্তু এখন সেই গমগমে ভাবটাই নেই। নিউ মার্কেট লাগোয়া মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের হোটেল, রেস্তোরাঁ, পাইস হোটেলগুলো এলাকায় ‘বাংলাদেশি হোটেল’ নামেই পরিচিত। মূলত কলকাতায় বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা বাংলাদেশি নাগরিকরা এই এলাকার হোটেলগুলোতেই ওঠেন। কিন্তু করোনা সংক্রমণের ফলে বাংলাদেশ থেকে ওদেশের নাগরিকরা ভারতে আসতে পারছেন না। মূলত আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ থেকে অতিথিরা আসতে না পারায় এই অঞ্চলের হোটেল, রেস্তোরাঁগুলো খাঁ খাঁ করছে।

এই এলাকার একটি নামি হোটেল ‘এস্টোরিয়ার ফ্রন্ট ডেস্কের অফিসার সুকৃতি দাস বলেন, ‘আমাদের হোটেলে বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাগরিক, সরকারি কর্তাব্যক্তি, মন্ত্রী, সাংসদেরা কলকাতা এলে ওঠেন। বাংলাদেশের বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন গত ৩০ বছর ধরে এখানেই ওঠেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি একেবারে আলাদা। লকডাউনের ফলে গত ১৯ মার্চ থেকে হোটেল বন্ধ হয়ে যায়। জুলাইয়ের শেষের দিকে হোটেল খুলেছে। কিন্তু যেহেতু আন্তর্জাতিক বিমান বন্ধ, বাংলাদেশ থেকে অতিথিরা আসতে পারছেন না। হোটেল ফাঁকাই পড়ে রয়েছে। ‘লিণ্ডসে হোটেলের ম্যানেজারও একই কথা বললেন। তিনি জানান,’ আমাদের হোটেলকে ধরলে তিনটি বড়ো হোটেল খোলা, বাকি সব বন্ধ। বাংলাদেশের অতিথিরাই আমাদের এখানে ওঠেন। উড়ান বন্ধ থাকায়, ভিসা না মেলায় ওঁরা আসতে পারছেন না। ফলে হোটেল খোলা থাকলেও ফাঁকা পড়ে থাকছে।’ মার্কুইস স্ট্রিটের কেম্পটন হোটেলের ম্যানেজার বলেন, ‘বালাদেশের নাগরিকরা না আসায় আমাদের বুকিংয়ের হার ৯০ শতাংশ কমেছে। আগে যেখানে প্রতিমাসে আমাদের ৯৫ শতাংশ ঘর বুক থাকতো, এখন সেটা ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।’

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরে আরও ৮০ টি বিশেষ ট্রেন, তালিকায় রয়েছে বাংলাও

এই চত্ত্বরের পাইস হোটেল থেকে রেস্তোরাঁগুলোয় মেনু তালিকায় জ্বলজ্বল করছে সর্ষে ইলিশ, ইলিশ ভাপা, চিতল মাছের মুইঠ্যার মতো জিভে জল আনা পদ। কিন্তু খদ্দের নেই। ওঁদের বক্তব্য, ওপার বাংলা থেকে মূলত চিকিৎসা ও ব্যবসার জন্য কলকাতায় আসেন বছরভর। আর সংস্থার পুষ্টিকর পরিষেবা পেতে এই হোটেলগুলো বাছেন। কিন্তু এখন পসরা সাজিয়ে বসাটাই সার।
পূর্ব ভারতের রেস্তোরাঁ ও হোটেল সংগঠনের সচিব সুদেশ পোদ্দার বলেন, ‘নিউ মার্কেট এলাকার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রসিদ্ধ হোটেলগুলোর গড় বুকিং ৯০ শতাংশ কমেছে।’শুধু হোটেল, রেস্তোরাঁই নয় এই চত্ত্বরে যাঁরা বিদেশি মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবসা করতেন, মোবাইলে স্থানীয় সিম পরিবর্তনের ব্যবসা করতেন তাঁরাও বাংলাদেশি অতিথিরা না আসায় সমস্যায় পড়েছেন। সব মিলিয়ে মধ্য কলকাতার এই পাড়ার মন খারাপ।

Related Articles

Back to top button
Close