fbpx
দেশহেডলাইন

আইন প্রত‌্যাহারের দাবিতে অনড় কৃষকরা, শনিবার ফের বৈঠক

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: অধরা সমাধান সূত্র। বৃহস্পতিবার বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রের সঙ্গে আন্দোলনরত কৃষক সংগঠনের নেতাদের দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘন্টার বৈঠক নিস্ফলাই থেকেছে। ফলে সমাধানের রাস্তা খুঁজতে ফের আগামী শনিবার কৃষক নেতাদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে মোদি সরকার। আইন প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় থেকেছে কৃষক সংগঠনগুলি, আর কেন্দ্রের তরফে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য এবং আদালতে মামলার দাবি নিয়ে কিছুটা সুর নরম করা হয়েছে।

বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার দায় অবশ্য পরোক্ষে কৃষক নেতাদের উপরেই চাপিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। তাঁর কথায়, ‘সরকার কোনও অনড় অবস্থানে বসে নেই।’ তবে মোদি সরকারের কৃষিমন্ত্রীর কথায় গুরুত্বই দিতে চাননি আন্দোলনকারী কৃষক নেতারা। তাঁরাও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘দাবি আদায় না পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। হয় সমাধান, না হয় গুলি-কিছু একটা আদায় করে নেবেন।’

সরকারের আশ্বাস, এমএসপি-তে হাত দেওয়া হবে না। আদালতে যাওয়ার দাবিও বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের কোনও ইগো নেই। সরকার খোলা মন নিয়েই কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। শনিবার ফের বৈঠক। নতুন কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ শুক্রবার ন’দিন হল। এর মধ্যে তিন বার কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছে কেন্দ্র। কিন্তু কোনও বৈঠক থেকেই সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি।

কৃষিমন্ত্রী তোমর বলেন, “আগের বৈঠকে ও এদিনের বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। সরকারের কোনও ইগো বা অহংকার নেই। খোলা মনে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস‌্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে নুন্যতম সহায়ক মূল্য  শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন কৃষকরা। আর সে কারণেই তাঁরা উদ্বিগ্ন। কৃষিমন্ত্রী জানিয়ে দেন, এমএসপি নতুন কৃষি আইনের অংশ নয়। তাই বিষয়টিতে কোনও পরিবর্তন করা হবে না। বরং সরকার এমএসপিগুলিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করবে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশে এনকাউন্টারে নিহত সাইকো কিলার দিলীপ দেওল

বৈঠকের পর কৃষক প্রতিনিধিরা তাঁদের বিক্ষোভ-ধরনা স্থলে ফিরে যান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীষূষ গোয়েল বলেন, সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে তাঁদের সভাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তোমর জানান, নতুন কৃষি আইন অনুযায়ী কৃষকরা এসডিএম আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন। কিন্তু কৃষকরা সরাসরি ফৌজদারি আদালতে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সরকার তাঁদের এই দাবি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার খোলা মনে আলোচনা করছে তাই তাঁদের আন্দোলন প্রত‌্যহারের অনুরোধ করা হয়েছে। এদিনের বৈঠকে সরকার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ‌্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং তাঁর দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সোম প্রকাশ।

বিক্ষোভ দিল্লির উপকন্ঠে হাজির। রাজধানী ঢোকার ৫ রাস্তায় বসে রয়েছেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। তারা যাতে না ঢুকতে পারেন তার জন্য ব্যারিকেড খাড়া করেছে দিল্লি পুলিস। মোতায়েন করা হয়েছে র্যাফও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনও ইগো নেই। কৃষি বিল নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে কৃষি আইন বাতিলের দাবি মানা সম্ভব নয়।  বৈঠকে কৃষক নেতাদের দাবি ছিল, সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে কৃষি আইন বাতিল করা হোক।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close