fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আপাতত শান্ত বাসন্তী, স্বস্তির নিঃশ্বাস প্রশাসনের 

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাসন্তী: ২০১৬ থেকে বিগত চার বছর ধরে শাসক দলের গোষ্ঠী কোন্দলে বারে বারে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাসন্তী ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে। এবার সেই বিবাদের আপাতত অবসান ঘটেছে। নিজেদের মধ্যে বিবাদ ভুলে একসাথে চলার অঙ্গীকার করেছেন বাসন্তীর তৃণমূল ও যুব তৃণমূলের নেতারা। রবিবার বাসন্তীর চুনাখালিতে বাসন্তী ব্লক তৃণমূলের উভয় গোষ্ঠীর নেতারা একটি প্রকাশ্য সভা করেন। সেখান থেকেই কোন্দল ভুলে একসাথে থাকার বার্তা দেন সকল নেতৃত্ব। আর এই বার্তার ফলেই কার্যত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা।

 

বিগত বিধানসভা ভোটের পর থেকেই কার্যত বাসন্তী ব্লকে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ, সংঘর্ষ লেগেছিল। লাগাতার দুইগোষ্ঠীর বিবাদে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল বাসন্তী ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে বাসন্তীর কাঁঠালবেরিয়া, ফুলমালঞ্চ, আমঝাড়া, চড়াবিদ্যা গ্রাম পঞ্চায়েত গুলির দখল কাদের হাতে থাকবে তা নিয়েই শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ বেধেছিল। এ নিয়ে চরম অশান্তি ও হয়েছে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। একাধিক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ফলে। মাস খানেক আগেও দুপক্ষের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বাসন্তীতে। কিন্তু এবার সেই বিবাদ ভুলে এবার একসাথে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। ফলে সম্প্রতি এই ব্লক থেকে নতুন করে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের খবর আসেনি।  পুলিশ ও তৃণমূল সূত্রের খবর, বিগতচার বছর ধরে দলের উচ্চ নেতৃত্ব ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন বাসন্তী ব্লক তৃণমূল নেতৃত্বকে।

একের পর এক গোষ্ঠী কোন্দল, তৃণমূল কর্মী খুন, বাড়িতে আগুন লাগানো,বোমাবাজি সহ অগ্নিগর্ভ বাসন্তী নিয়ে বারে বারে ব্লকের নেতৃত্বকে তিরস্কার করেছেন রাজ্য নেতৃত্ব। এমনকি তৃণমূল সুপ্রিমোকেও উস্মা প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের সুযোগ নিয়ে এই ব্লকে ঘর গোছাতে শুরু করেছে বিজেপি। উত্তর মোকামবেরিয়া, নফরগঞ্জ, জ্যোতিষপুর সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপি নিজেদের সংগঠন বেশ মজবুত করেছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদের ফলে দলের মধ্যে কোনঠাসা নেতৃত্ব যখন দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে ভাবছিলেন সেই সময় উপরতলার নেতৃত্বের নির্দেশে বাসন্তীতে একসাথে পথ চলার কথা ঘোষণা করেছেন ব্লক তৃণমূল ও যুব তৃণমূল নেতৃত্ব। নিজেদের দলের ভাঙন রুখতে ও বিজেপির শক্তি কমাতে কার্যতএই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল।

 

বাসন্তী ব্লকের বিজেপি নেতা প্রতিশ্রুতি দেবনাথ বলেন, “ বাসন্তীতে বিজেপির শক্তি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।এবার ভোটেও বিজেপিই জিতবে বাসন্তীতে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে তাই এক হয়েছেতৃণমূল।” বিজেপির আরও দাবি সামনে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী এক হলেও ভিতরে ভিতরে এঁদের দন্ধ লেগেই রয়েছে। যেকোন দিন আবারও বাসন্তীতে এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ বাঁধবে। যদিও বিজেপির সেই দাবিকে নস্যাৎ করে গোসবার বিধায়ক তথা বাসন্তী ব্লকের তৃণমূলেরসংগঠনের অন্যতম কান্ডারি জয়ন্ত নস্কর বলেন, “ বিজেপি কি বলল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমাদের দলের কর্মীদের মধ্যে যে মনমালিন্য ছিল তা আমরা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নিয়েছি। আর আমরা সকলেই একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আগামী বিধানসভা নির্বাচন লড়বো।”

বাসন্তী ব্লকে মূলত তৃণমূলের বিবাদ জয়ন্ত অনুগামীদের সাথে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা দক্ষিন ২৪ পরগনা যুব তৃণমূলের সভাপতি শওকত মোল্লার অনুগামীদের। দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব বাসন্তীর সংগঠন নিয়ে শওকতকে মাথা ঘামাতে বারণ করার পর থেকেই কার্যত চাপে পড়ে যান এই ব্লকের যুব তৃণমূলকর্মীরা। পাশাপাশি বাসন্তীর মুড়োখালিতে একটি খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় যুব তৃণমূলের নেতাদের। অন্যদিকে ফুল মালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইউসুফ আনসারি সহ বেশ কয়েকজন যুব তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয় অন্য একটি ঘটনায়। এই দুটি ঘটনার পর থেকেই বেশ কিছুযুব তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া ছিলেন। সেই সুযোগে তৃণমূল নেতৃত্ব যুব তৃণমূল কর্মীদের চাপ দিয়ে নিজেদের শিবিরে যোগ দিতে বাধ্য করেন। ফলে এই ব্লকে নিজেদের অস্তিত্ব সঙ্কট বুঝতে পেরেই যুব তৃণমূল নেতারা একে একে জয়ন্তর বগুলাখালির বাড়িতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

 

নিজেদের ভুল স্বীকার করে তাঁর নেতৃত্বেই দলের সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাবলেন যুব নেতা আমানুল্লা লস্কর, জালাল মোল্লারা। যুব তৃণমূল নেতৃত্বের কথা মেনে নিয়ে একসাথে পথ চলার কথা ঘোষণা করেন জয়ন্ত। তিনি বলেন, “ আমাদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি মিটে গেছে। একসাথেই দলের সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাব।” আমানুল্লাও বলেন, “জয়ন্ত কাকুর নেতৃত্বেই আমারা বাসন্তীতে তৃণমূল দল করবো। একসাথে দলের সংগঠনকেশক্তিশালী করে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করবো।” ব্লকের শীর্ষ নেতৃত্ব মুখে একসাথেচলার কথা বললেও আদতে কতদিন এরা একসাথে চলতে পারবেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে গোটা বাসন্তী জুড়ে। বিধানসভা ভোট মিটলেই আবারও এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়ে যাবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসন্তীর এক বাসিন্দা বলেন, “ দীর্ঘদিন ধরেই দেখছি বাসন্তীতে সব দলের অন্তরকলহ লেগে রয়েছে। আগে বামেদের মধ্যে ছিল, এখন তৃণমূলের মধ্যে আছে। এ বিবাদ যেন বাসন্তীর রক্তে মিশে রয়েছে। তবে যাই হোক বিবাদ মিটলেই ভালো। সাধারন মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।”

Related Articles

Back to top button
Close