fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনার জেরে ঈদ ও রাখি বন্ধন উৎসবের আগেও নেই গ্ৰাহক, মাথায় হাত বস্ত্র ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: ঈদ ও রাখি বন্ধন উৎসবের আগে একদিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাব অন্যদিকে দুই দিন ধরে বৃষ্টির ফলে বাজার না জমায় দিনহাটায় মাথায় হাত জামাকাপড় ও বস্ত্র ব্যবসায়ীদের। গতবছর এই উৎসব গুলিতে দিনহাটায় প্রায় ২০ কোটি টাকার ব্যবসা হলেও এবছর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ব্যাবসাও সম্ভব হয়নি। করোনার আক্রমণে এভাবে লকডাউন এর ফলে বাইরে থেকে মালপত্র তারা যেমন আনতে পারছেন না তেমনি গ্রাহকের সংখ্যাও কম থাকায় তাদের অবস্থা কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

করোনা ভাইরাসের ফলে গত চার মাস ধরে শুরু হয়েছে পর্যায়ক্রমে লকডাউন। গত দুই মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা দিনহাটায় ফিরে আসার পর থেকেই করোনা সংক্রমনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। দিনহাটা শহরের ইতিমধ্যে ৯ জন করোনা সংক্রমিত হয়। এছাড়াও দিনহাটা ১ ও ২ ব্লকেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফের দিনহাটা শহর ও দিনহাটা দুই ব্লক ছাড়াও এক ব্লকের বেশ কয়েকটি এলাকা কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়। ফলে দোকানপাট খোলা রাখার সময়সীমাও মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪ ঘন্টার জন্য বেঁধে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় ঈদ ও রাখি বন্ধন উৎসবের ঠিক আগে সেভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কঠিন এই সময় কালে কেন্দ্রীয় রাজ্য সরকারকে ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দাবি উঠেছে। তা না হলে অবস্থা আরো ভয়ানক হয়ে উঠবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

এদিকে বুধবার রাত থেকে নতুন করে শুরু হয় বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দফায় দফায় এই বৃষ্টি চলতে থাকায় দুই উৎসবের আগে হতাশ হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তাদের অনেকেরই আশা ছিল নববর্ষ ও প্রথম ঈদের বাজার মার খেলেও এই দুই উৎসবের আগে কিছুটা হলেও জমে উঠবে। কিন্তু সেই আশাতে ও জল ঢেলে দেয় একদিকে করোনা অন্যদিকে বৃষ্টি এমনটাই অভিমত দিনহাটার ব্যবসায়ীদের।

দিনহাটায় বস্ত্র ব্যবসায়ীদের রাজকুমার সোমানি জানান, এবছর করোনা ভাইরাসের থাবায় তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। করোনাভাইরাসের ফলে যেমন ক্ষতি হয়েছে তেমনি দুই দিন ধরে বৃষ্টিতে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হল। ১৫ শতাংশ ব্যবসা হয়নি বলেও তিনি জানান।
আর এক জামা কাপড় ব্যবসায়ী বিল্পব সাহা জানান করোনা ভাইরাসে দিনহাটায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলায় কনটেনমেন্ট জোন থাকায় ২ উৎসবের আগে ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। মানুষের হাতে টাকা পয়সা না থাকায় ইচ্ছে থাকলেও নতুন জামা-কাপড় কিনতে পারছে না অনেকেই। করোনা তাদের মতো ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের কঠিন সমস্যায় ফেলে দিয়েছে।

দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক উৎপলেন্দু রায় বলেন, চৈত্র সেল থেকে শুরু করে ঈদ এই দুই মাসে পাঁচ থেকে দশ শতাংশ ব্যবসা হয়েছে। দিনহাটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও কার্যত ভেঙ্গে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রানা গোস্বামী, ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক উৎপলেন্দু রায় বলেন, এ পর্যন্ত তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৮৫ শতাংশ ব্যবসা ক্ষতি হয়েছে। পয়লা বৈশাখে চৈত্র সেল থেকে শুরু করে নববর্ষ এবং ঈদ এবং ঈদের পরবর্তী পর্যায়ে প্রাক পুজা উপলক্ষে ও ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি শুরু করে। করোনার ধাক্কার ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লকডাউনের ফলে সেভাবে বাজার ঘাট না খোলায় লোকজন বাজারে সেভাবে আসতে না পারায় এবং একশ্রেণীর মানুষের হাতে টাকা পয়সা না থাকায় আঘাত নেমে এসেছে ব্যবসায়ীদের ওপর।

Related Articles

Back to top button
Close