fbpx
কলকাতাহেডলাইন

করোনাতে মরেও শান্তি নেই, দেহ সৎকারেও পড়তে হচ্ছে ‘প্যাকেজের’ কবলে

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: করোনার কারণে রাজ্যে এমনিতেই মৃত্যুহার বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু রাজ্যের সর্বত্র করোনায় মৃতদের দাহ করতে না দেওয়ার ফলে তৈরি হচ্ছে সমস্যা। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগের পর ধাপায় ইতিমধ্যেই দুটি চুল্লি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু মৃতদেহ দাহ করতে গিয়ে পড়তে হচ্ছে বেসরকারি সংস্থার ঠিক করে দেওয়া প্যাকেজে।
সূত্রের খবর, করোনায় মৃতের সংখ্যা বিপুল সংখ্যায় বেড়ে যাওয়ার কারণে কলকাতায় করোনায় মৃতদের দেহ সৎকারের জন্য বেসরকারি সংস্থাকে অনুমতি দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। গত ৪ জুলাই থেকে কাজ করছে এরকম ২টি সংস্থা। অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালে করোনায় মৃতদের দেহ সৎকার করতে হচ্ছে বেসরকারি সংস্থা দিয়ে। আর সেজন্য ৫,০০০ – ৭,০০০ টাকার প্যাকেজ হাঁকাচ্ছে ওই সংস্থাগুলি।  অথচ এই কাজ হওয়ার কথা সরকারি তত্ত্বাবধানে একেবারে বিনামূল্যে।
কিন্তু কী কারণে এই প্যাকেজ মানতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ?  জানা গিয়েছে, করোনায় মৃতদের দেহ বেসরকারি হাসপাতালগুলির হেফাজতে থাকলেও তা সৎকার করার বা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অধিকার রয়েছে একমাত্র কলকাতা পুরসভার কাছে। এদিকে শহরে রোজ ১০-১২ জনের করোনায় মৃত্যু হলেও এখন ধাপায় চুল্লি একটাই। কারণ আমফানের কারণে দ্বিতীয় চুল্লি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এদিকে করোনায় মৃতদের অন্য কোথাও সৎকার করাও সম্ভব নয়। ফলে দেহ সৎকারের চাপ সামলাতে নাভিশ্বাস উঠছে কলকাতা পুরসভার কর্মীদের।
এই পরিস্থিতিতে দিনের পর দিন মর্গে দেহ পড়ে থাকা পরিবারের পক্ষেও কষ্টদায়ক। তাই অনেকেই বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে সৎকার করাতে বাধ্য হচ্ছেন। আর তারই সুযোগে ৫০০০ থেকে ৭০০০ টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে পরিবার। যদিও করোনায় মৃতদের দেহ সৎকারের কাজে যুক্ত সংস্থার প্রতিনিধিদের দাবি, কলকাতা পুরসভার অনুমতি নিয়েই তাঁরা কাজ করছেন। একটি দেহ সৎকার করতে ৩ জন লোক লাগে, তাছাড়া গাড়ি সহ আনুষাঙ্গিক খরচ তো রয়েইছে। তাই নির্ধারিত সঠিক মূল্যই নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মৃতদেহ দাহের অধিকার বেসরকারি সংস্থার হাতে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে দাবি পুরসভার। এক আধিকারিকের মতে, পুরসভা দিনে সর্বোচ্চ যতগুলো দেহ সৎকার করতে পারে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে তা অতিক্রম করেছে। ফলে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বেসরকারি সৎকার সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে কেউ কোথাও অভিযোগ থাকলে তা পুরসভাকে অবশ্যই জানাতে পারেন।

Related Articles

Back to top button
Close