fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খহেডলাইন

বিধায়ক-সাংসদ না হলে নো এন্ট্রি তৃণমূলত্যাগী বিজেপি নেতাদের!

রক্তিম দাশ, কলকাতা: বারবার কাতর আবেদন করেও তৃণমূলে দরজা খুলছে না। উনিশের লোকসভা ভোটের পর থেকে যেভাবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার ধুম পড়েছিল, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের ভরাডুবির পর ঠিক সেভাবেই পাশার দান উলটে গিয়ে একই ঘটনা ঘটছে। একুশের ভোটের আগে বিজেপির কতিপয় ‘ভিনদেশি তারা’র দৌলতে সবুজ রং থেকে গেরুয়া জামা পরা যতটা সহজ ছিল, কিন্তু এবার তা সহজে বদলানো যাচ্ছে না। ঘর ওয়াপসির এই খেলায় বিধায়ক, সাংসদ না হলে তৃণমূলের দরজা খুলছে না একাধিক প্রাক্তন ঘাসফুলত্যাগী বিজেপি নেতাদের।

একুশের বিধানসভা ভোটের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিজেপির চার বিধায়ক এবং এক সাংসদ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের তালিকায় আরও বেশ কয়েকজন বিধায়ক, সাংসদ রয়েছেন বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। এরমধ্যেই দল এখনও না ছাড়লেও রায়গঞ্জের কৃষ্ণ কল্যাণীর মতো বেশ কয়েকজন বিধায়ক নানা ইস্যুতে মুরলিধর সেন লেনের কর্তাদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রকাশ্যে বিবৃতিও দিয়ে চলেছেন। এরকম বাগী ছয় বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলের রাডারে রয়েছেন। যে কোনও মুহূর্তে তাঁদের পদ্ম শিবির ছেড়ে তৃণমূলের আশ্রয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপিতে যাওয়া সেইসব নেতারা যাঁরা বিধায়ক বা সাংসদ নন তাঁরা কিন্তু বারবার ঘরওয়াপসির আবেদন করেও তৃণমূলে কল্কে পাচ্ছেন না। তাঁরা শত চেষ্টা করলেও তৃণমূল তাঁদের জন্য এখনও ‘নো এন্ট্রি’ বোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে।

তৃণমূলের  সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করে বলেছিলেন, ‘যাঁরা হেরেছেন তাঁরাই শুধু নন, বিজেপির হয়ে জিতে বিধায়ক হয়েছেন, এমন অনেকে দলে আসতে চাইছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্ত ওয়ার্কিং কমিটির হাতে ছেড়েছেন। পরবর্তী মিটিংয়ে এই নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’ একুশের ভোটের পর বিজেপি থেকে তৃণমূলে ঘরওয়াপসি শুরু হয় মুকুল রায়কে দিয়ে। গত ১১ জুন কৃষ্ণনগরের উত্তরের বিজেপি টিকিটে প্রথমবার বিধায়ক হওয়া মুকুল রায় তাঁর পুত্র প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশুকে নিয়ে তৃণমূলে ফেরেন। এরপরই বিজেপি থেকে ঘরওয়াপসি ঘটে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে চলে যাওয়া বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ, বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস এবং কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়ের। আর তারপরেই সবাইকে চমকে দিয়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে চলে যান বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরে চলে যাওয়া পূর্ব বর্ধমানের সাংসদ সুনীল মন্ডলও ফের তৃণমূলে ফিরে এসেছেন বলে দাবি করছেন।

অপরদিকে, গত তৃণমূল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মন্ত্রিসভা ত্যাগ করে ডোমজুড়ে বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়ে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকা শুরু করেন। একাধিক তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে ফের সখ্যতাও শুরু করেন। তৃণমূলে ঘরওয়াপসির জন্য বারবার সিগনাল দিলেও আজও তাঁর জন্য তৃণমূলের দরজা খোলেনি। একইভাবে বিজেপিতে যাওয়া প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস তৃণমূল ফিরতে চাওয়ার চেষ্টা করলেও আপাতত সবুজ সংকেত পাননি। তৃণমূলের ঘরের মেয়ে বলে পরিচিত বিজেপিতে যাওয়া প্রাক্তন বিধায়ক সোনালী গুহ ভোটের পরে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে লিখিত চিঠি পাঠালেও তিনিও আপাতত সক্রিয় হতে পারেননি তৃণমূলে।

সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম নেতা, তৃণমূলের তৎকালীন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁকে সিঙ্গুরে প্রার্থী করা নিয়ে স্থানীয় বিজেপির মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভও দেখা দিয়েছিল। ভোটে হেরে তিনিও তৃণমূলের পথে। বিজেপির কর্মসূচিতে যান না। উল্টে তাঁর দাবি,‘ঘুণ ধরা সংগঠন বিজেপির। আমাকে বিশেষ সম্মান দিয়ে ডাকাও হয় না।’একইভাবে উত্তরপাড়ার প্রবীর ঘোষাল দল বদলে ভোটের আগে  বিজেপির টিকিটে উত্তরপাড়ায় দাঁড়িয়ে হারেন। হারার পরেই ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকে যান। শুধু এরাই নন, তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন মালদার প্রাক্তন বিধায়ক সরলা মুর্মু, উত্তর দিনাজপুরের অমল আচার্য-সহ একাধিক বিজেপিতে যাওয়া তৃণমূলত্যাগীরা। কিন্তু কারও আবেদনেই এখনও সাড়া দেননি তৃণমূলের শীর্ষনেতারা। একদা দলের বিধায়ক থেকে বিজেপিতে গিয়ে সাধারণ নেতা হয়ে যাওয়া এসব নেতাদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

রাজনৈতির মহলের মতে, ক্ষমতার লোভে বিজেপিতে যাওয়া এসব নেতাদের ছাড়াই ব্যাপকভাবেই দল জয় পেয়েছে একুশের নির্বাচনী যুদ্ধে। পেয়েছে বিধানসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তাই বিধায়ক,সাংসদ না হলে  ঘরওয়াপসির ক্ষেত্রে তৃণমূল এঁদের জন্য গেটে আপাতত ‘নো এন্ট্রি’ লাগানোকেই শ্রেয়  বলে মনে করছে।

Related Articles

Back to top button
Close