fbpx
অন্যান্যঅফবিটহেডলাইন

পটের গান শুনিয়ে রোজগার নেই, অন্য পেশায় ঝুঁকছেন পটুয়ারা

সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাঁইথিয়া : সাঁইথিয়া থানার ভ্রমোরকোল গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জামকোলা গ্রামে প্রায় পঁচিশ ঘর পটুয়া বাস করেন। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র দুটি পরিবার পটের গান শুনিয়ে জীবিকানির্বাহ করেন। এই আধুনিক যুগে পটের গান আর কেউ শুনতে চায়না। অথচ একসময় গ্রামে গ্রামে বাচ্চা বুড়ো সকলে পটের গান শুনতে ভীড় জমাতো।

 

 

 

দিনের শেষে মানুষের দেওয়া থলি ভর্তি চাল আলু ও অন্যান্য কাঁচা সবজী নিয়ে বাড়ী ফেরা হত বলে জানালেন জামকোলা গ্রামের বাবুলাল পটুয়া। কিন্তু এখন আর সেদিন নেই। এখন গ্রামে গেলেও ছেলেপুলেরা ছুটে আসে না। রোজগারও হয়না তেমন। তাই তিনি পটুয়ার কাজ ছেড়ে এখন রংমিস্ত্রীর কাজ করেন। বয়স হয়েছে তাই গ্রামে গ্রামে ঘোরার ধকল নিতে পারা যায় না। গলা ছেড়ে গান গাওয়াও কঠিন এখন। তাঁর স্ত্রী গেনি পটুয়াও পটের গান গাইতে পারলেও পট নিয়ে বের হন না। তিনি গ্রামে গ্রামে চুড়ি ফেরি করে বেড়ান। এতে রোজগার বেশী হয় বলে জানালেন তিনি। আর একজন নাজু পটুয়া। তাঁরও বয়স হয়েছে এবং হতাশার সঙ্গে জানালেন তাঁর ছেলেরা কেউ পটের গান নিয়ে আগ্রহী নয়। শিখতেও চায় না।

 

 

 

জামকোলা গ্রাম ছাড়াও বীরভুমে কানাচি, ষাটপলসা, ইটেগড়ে, কুসুমগড়িয়া প্রভৃতি গ্রামেও অনেক পটুয়া পরিবার বাস করে। এসব গ্রামের পটুয়ারাও আর পটের গান শুনিয়ে রোজগারের কথা চিন্তা করেন না। জেলাতে পটুয়াদের মধ্যে হিন্দু মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। জামকোলা গ্রামের সবাই মুসলিম ধর্মাবলম্বী। এদেরই একজন নির্মল পটুয়া তাঁর সরকারী অনুদানে পাওয়া একতলা পাকা বাড়ির দাওয়ায় বসে জানালেন তিনি এখনও পটের গান গেয়েই সংসার চালান। পটের প্রতি ভালবাসা থেকেই এই শিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছেন। ঠিক এমনই আরেকজন ভজু পটুয়া। তিনিও প্রতিদিন সকাল হলেই পট কাঁধে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে পৌরানিক কাহিনী শুনিয়ে বেড়ান। তবে এযুগে নির্মল পটুয়া বা ভজু পটুয়ার মতো লোক হাতে গোনা যায়। জামকোলা গ্রামেরই আর্শাদ পটুয়া, মানু পটুয়ারা জানালেন, এসব পটের গান নিয়ে তাদের কোন আগ্রহই নেই। তারা নয় রাজমিস্ত্রী বা দিনমজুরের কাজ করে দিনে অনেক বেশী রোজগার করেন এবং সংসার চালান।

 

 

 

দুঃখের বিষয়,  এই মোবাইল ফোন ,টেলিভিশন, ইন্টারনেটের যুগে পটশিল্প যা একসময হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গান শুনিয়ে বেড়াত গ্রামে গ্রামে তা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে জেলার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল থেকে।

Related Articles

Back to top button
Close