fbpx
হেডলাইন

করোনায় থমকে হলদিয়ার এই গ্রামের কোজাগরী আরাধনা

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্পশহর হলদিয়া থেকে মাত্র কয়েক কিমি দূরে অবস্থিত দুটি গ্ৰাম কিসমত শিবরামনগর ও চাউলখোলা। ঐ দুই গ্ৰামে দুর্গাপুজা হয়না। তাই শারদোৎসবের কয়েকটা দিন কাটিয়ে দুই গ্ৰামের মানুষ অপেক্ষা করে থাকে লক্ষ্মী পুজোর জন‍্য। দুর্গাপুজোর আনন্দ লক্ষ্মী পুজোয় পুষিয়ে নেয়। ঐতিহ্য, আড়ম্বর, থিম থেকে সাবেকিয়ানা কোনও কিছুই বাদ পড়ে না হলদিয়ার কিসমত শিবরামনগর ও চাউলখোলা গ্ৰামের লক্ষ্মী আরাধনায়।

শারদোৎসবের মতো লক্ষ্মী পূজাতেও ছাপ ফেললো মহামারী করোনা। এই অতিমারীর আবহে এবার লক্ষ্মী পুজো একেবারেই ম্লানভাবে পালিত হচ্ছে বলা যায়। তাই এবার বিষাদগ্রস্থ মন নিয়েই গৃহস্থের ঘরে ঘরে চলছে কোজাগরী আরাধনার প্রস্তুতি। কোরোনার জেরে ছবিটা একেবারেই অন‍্যরকম। জৌলুস এবং জাঁকজমক কোনটাই নেই। কেবল নামমাত্র পুজো করছেন উদ‍্যোক্তারা।

এই দুই গ্ৰামে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় সাত থেকে আটটি পুজো হয়। এর মধ‍্যে পাঁচটি বিগ বাজেটের পুজো। প্রত‍্যেক বছর পূজো উপলক্ষ‍্যে তিন চার দিন ব‍্যাপি মেলা বসে। আশপাশের গ্ৰাম ছাড়িয়ে ভিন জেলা থেকেও মানুষ আসেন পুজো দেখতে। কিন্তু এবার লক্ষ্মী বন্দনায় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে কোরোনা।

শুধু এখানেই নয়। দুই মেদিনীপুর জুড়ে ঐতিহ্যশালী প্রাচীন সব লক্ষ্মীপূজোতেই কোরোনার প্রভাব পড়েছে রীতিমত। ঘাটালের গম্ভীরনগরের রাণা পরিবারের লক্ষ্মীপূজায় দেবীর সঙ্গে থাকে ৬ জন দাসী। এবার ১৩০ বছরে পা দিলো। ১২৯৯ তে জনৈক সত্যেশ্বর রাণা পিতল কাঁসার ব্যবসা করতে করতে এই পূজো শুরু করেন। আবার মেদিনীপুর শহরের পাটনা বাজারের পাণ্ডব পরিবারের লক্ষ্মীপূজোও ১১০ বছরের প্রাচীন। সোনার গয়নায় সাজানো হয় দেবীকে। মেদিনীপুরের চিড়িমারসাই এলাকার বর্ধিষ্ণু দাস পরিবারের লক্ষ্মীপূজো ৭৫ বছর ধরে চলছে।আগে হাতি ও ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘট ডোবানো হোতো। এখন শুধু ঘোড়ার পিঠে চড়ে যাওয়ার রীতি আছে। প্রত্যেক পরিবারের বক্তব্য চলতি বছরে কোরোনা আবহে বেশিরভাগ উপচার থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে। সেইসাথে আনন্দ উপভোগ থেকেও ছাঁটকাট করতে হচ্ছে অনেক কিছুই।

কিসমত শিবরামনগর বিনয়ী সংঘ এই এলাকায় বিগ বাজেটের পুজোগুলির মধ‍্যে অন‍্যতম পুজো। এবার ৬৪ তম বর্ষে তাঁদের নামমাত্র পুজো হচ্ছে বলে জানান পুজো উদ‍্যোক্তা শম্ভু ভৌমিক। কোরোনা আবহে সকলের আর্থিক অবস্থা খারাপ। অন‍্যান‍্য বছর যেখানে থিমের মন্ডপ তৈরি করা হয়। এবছর সেখানে নিয়মরক্ষার পুজো করা হচ্ছে। হলদিয়ার অন্যান্য উদ‍্যোক্তাদের কথায়, কোরোনা ও লকডাউনের জোড়া ধাক্কায় পুজোর বাজেটে একাধিক কাঁটছাঁট ক‍রা হয়েছে। গতবছর যা বাজেট ছিল, এবার তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

সমন্বয় ক্লাবের গৌতম মান্না বলেন, পুজোর পাশাপাশি ক‍্যুইজ, বির্তক, সংবাদপাঠের মতো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রতিবছর হতো। কিন্তু এবছর সবকিছুই বন্ধ। তবে প্রশাসনের বিধিনিষেধ মেনেই পুজোর আয়োজন করছে সমস্ত পুজো কমিটিগুলি‌। জোর দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর। চাউলখোলা অগ্ৰণী সংঘের সম্পাদক এবং হলদিয়া ব্লকের মৎস‍্য ও প্রাণী কর্মাধক্ষ‍্য গোকুল চন্দ্র মাঝি বলেন, করোনা সংক্রমন আটকাতে প্রশাসনের নির্দেশ মতো পুজো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমস্ত পুজো মন্ডপের সামনে থাকছে মাস্ক বিতরণ ও স‍্যানিটাইজার এর ব‍্যবস্থা।

স্থানীয় বাসিন্দা একাদশী বেরা বলেন, আমাদের গ্ৰামের বড় উৎসব কোজাগরী উৎসব। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গ্ৰামে বিগ বাজেটের পুজো হয়ে আসছে। এবার কোরোনার জেরে সব শেষ। বছরের এই তিন চারদিন আনন্দে মেতে ওঠে দুই গ্ৰামের মানুষ। কিন্তু এবার কোরোনা বদলে দিয়েছে সবকিছুই। ফলে আনন্দ উচ্ছ্বাস নেই। সবকিছুতেই কার্যত একটা শুকনো শুকনো ভাব। মিইয়ে যাওয়া উৎসবের রেশ লক্ষ্মী পূজোতেও।

Related Articles

Back to top button
Close