fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাংলায় খাদ্যের অভাবে কেউ মারা যায়নি: ছত্রধর মাহাতো

সুদর্শন বেরা, ঝাড়গ্রাম: ‘বাংলায় খাদ্যের অভাবে কেউ মারা যায়নি’, ঝাড়গ্রামের সর্ডিহাতে তৃণমূলের কর্মিসভায় বললেন দলের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো। বুধবার ঝাড়গ্রাম জেলার ঝাড়গ্রাম গ্রামীন ব্লকের সর্ডিহা বাংলো ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো, তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির চেয়ারম্যান বীর বাহা সরেন টুডু, ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী রেখা সরেন, বঙ্গ জননীর ঝাড়গ্রাম জেলার সভানেত্রী নিয়তি মাহাতো, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অনিল মন্ডল, নরেন মাহাতো সহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ওই কর্মী সম্মেলনের প্রধান বক্তা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো তার ভাষণে বলেন, বাংলায় খাদ্যের অভাবে কেউ মারা যায়নি। বাংলায় খাদ্য বস্ত্র শিক্ষা স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন প্রকল্পে উন্নয়নের কাজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা সারা বিশ্বে এক নজির বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ৩৪ বছর বাংলায় ক্ষমতায় ছিল বামেরা। সেই সময় জঙ্গলমহলের মানুষের প্রতি অত্যাচার শোষণ করেছে তারা। তার বিরুদ্ধে ঘাম ও রক্ত অনেক ধরেছে। তাই ৩৪ বছরের বাম জমানার অত্যাচারের কথা জঙ্গলমহলের মানুষ ভুলে যায়নি। তিনি বলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করতে সকলকে রাস্তায় নামতে হবে। কর্মীদের উজ্জীবিত হতে হবে।

তিনি তাঁর ভাষণে বলেন, বাংলায় এক অশুভ শক্তির উদয় হয়েছে গত লোকসভা নির্বাচনে। সেই অশুভ শক্তি নামক দলের নেতা হলেন বিজয়বর্গীয়। তিনি তাকে পরিযায়ী নেতা বলে উল্লেখ করেন। ওইপরিযায়ী নেতাদের আসল উদ্দেশ্য বাংলাকে অশান্ত করে তোলা। বাংলার উন্নয়নে বাধা দেওয়া। তিনি বলেন, এই জঙ্গলমহলের সাঁওতাল আদিবাসী কুড়মি আদিবাসীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তা সত্ত্বেও আদিবাসীদের ভগবান বীরষা মুন্ডার মূর্তিকে ওদের নেতা চিনতে পারেনি। ওরা বীরষা মুন্ডাকে অপমান করেছে। যার ফল ওই পরিযায়ীদের ভুগতে হবে। তিনি বলেন, যারা বাংলার সংস্কৃতি জানেন না, তারা বাংলায় রাজনীতির কথা বলেন। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার উন্নয়ন তথা জঙ্গলমহলের যে উন্নয়ন করেছে। সেই উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হবে। এখন থেকে প্রতিটি কর্মীকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রাজ্য সরকারের প্রকল্প গুলির কথা তুলে ধরে প্রচার করতে হবে। সেই সঙ্গে মিথ্যাবাদী অত্যাচারী সন্ত্রাস সৃস্টি কারী বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার যে বাংলাকে বঞ্চনা করছে তা মানুষের কাছে তুলে ধরার তিনি আহ্বান জানান।

সেই সঙ্গে ছত্রধর মাহাতো বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এটা বিহার নয় এটা বাংলা। যেভাবে আপনারা বিহারে ক্ষমতায় এসেছেন বাংলায় সেভাবে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করবেন না। কারণ বাংলার মানুষ অতি সতর্ক এবং বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুন, তারপরে বাংলা দখলের কথা বলবেন। কারণ যেভাবে বিহারে ভোট চুরি করে আপনারা জিতেছেন বিহারের মানুষ আপনাদের ভালোই শিক্ষা দেবে। অপরদিকে বুধবার ঝাড়গ্রাম শহর কমিটির উদ্যোগে ঝাড়গ্রাম শহর শহরের ডিএম হলে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সম্মেলন আয়োজন করা হয়। ওই কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি দুর্গেশ মল্লদেব, প্রসূন ষড়ঙ্গী, তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির সদস্য
শ্যামল দে ও ঝাড়গ্রাম শহর তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সভাপতি প্রশান্ত রায়। ওই কর্মী সম্মেলনে ঝাড়গ্রাম পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ড থেকে দলের সক্রিয় কর্মী ও সমর্থকরা সামিল হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: হাসিনা সরকার হিন্দু নির্যাতনে পদক্ষেপ না নেয়ায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে : গোবিন্দ প্রামাণিক

ঝাড়গ্রাম শহর তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সভাপতি প্রশান্ত রায় দলীয় কর্মীদের বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কাজগুলির কথা মানুষের কাছে তুলে ধরে প্রচার করতে হবে। বিজেপি উন্নয়ন হয়নি বলে যে অপপ্রচার করছে তার যোগ্য জবাব দিতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি হাজার চেষ্টা করলেও ২০২১ সালের বাংলা ক্ষমতায় আসতে পারবে না ২০২১সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম জেলার চারটি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন। কারণ লোকসভা নির্বাচনে মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়েছিল বিজেপি। সেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি মানুষ এখন ধরে ফেলেছে। যারা রেল লাইন তৈরি করার কথা বলেছিল ঝাড়গ্রাম থেকে পুরুলিয়ার বান্দোয়ান এবং ঝাড়গ্রাম থেকে ওড়িশার বারিপদাপর্যন্ত। কোথায় গেল সেই রেল লাইন তৈরির কাজ। গত একবছরে কি কাজ করেছে বিজেপি সাংসদ যা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। কর্মীসভায় তাই তিনি বলেন ভোট চুরি করে বিহারে জয় পেলেও বাংলায় জয়ের আশা বিজেপির বাস্তবে কোনদিন হবে না। বাংলার মানুষ বিজেপি কে প্রত্যাখ্যান করবে। বাংলায় তৃণমূলের জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে।

Related Articles

Back to top button
Close