fbpx
কলকাতাহেডলাইন

স্বাধীনতার পর এতো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার কেউ দেখেনি: দিলীপ ঘোষ

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: কেন্দ্রীয় দলের কাছে আমফানের ক্ষতিপূরণের অঙ্কের দাবি আর তার প্রতিবর্ত ক্রিয়া হিসাবে শাসক ও প্রধান বিরোধী দলের তরজায় চাঞ্চল্য রাজনৈতিক মহলে। কেন্দ্রীয় দলের কাছে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১ লক্ষ ২ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা চাইলো রাজ্য। যে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দিলীপ ঘোষ । অন‌দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় গেরুয়া শিবিরের উদ্দেশ্যে কুৎসা রটানোর অভিযোগ করে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর কোন মুখ্যমন্ত্রীকে এতো বিপর্যয় সামলাতে হয়নি। বিজেপি শুধু শুধু কুৎসা করছে।’ এর জবাবে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘ স্বাধীনতার পর এতো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার কেউ দেখেনি।’

এদিন সন্ধ্যায় সল্টলেকে নিজের বাসভবনে তিনি বলেন, ‘ স্বাধীনতার পরে এতো দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বৈরাচারী সরকার কেউ দেখেনি। গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে, সংবাদ মাধ‌মের উপর আক্রমণ হয়েছে। উনি বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহান, সব কিছুতে উনি এগিয়ে, এগিয়ে বাংলা। আর যেই বিপদে পড়লেন, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন অমনি পাঁজর বেরিয়ে গেল, দম থাকলে সামলান। অন্যকে দোষ দিচ্ছেন কেন।’ আমফানের ক্ষতিপূরণে রাজ্যের দাবি নিয়ে তথ্যের অসংলগ্নতার অভিযোগ করেন তিনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ মেয়র ঝড়ের রাতে বললেন, ৩ লাখ গাছ পড়েছে, পরের দিন সকালে বললেন ৫ লাখ, দুপুরে অঙ্কটা বেড়ে হল ৮ লাখ। এইধরনের তথ্যের অসঙ্গতি সর্বত্র। এখন ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নিয়েও বিভ্রান্তি। আসল তথ্য না দিলে বিভ্রান্তি বাড়বে। ভুগবেন সাধারণ মানুষ।’ এদিন দুর্নীতির প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তিনি বলেন,, ‘শুক্রবার সম্মেলন করে, ভিডিও কনফারেন্স করে বিধায়ক, সাংসদদের নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচন আসছে, তৈরি হয়ে যান।টাকা আসছে ইলেকশান ফাণ্ড তৈরি করুন।’পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ‘ স্নেহের পরশ’ প্রকল্প নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, ‘স্নেহের পরশে স্নেহ কই।’

আমফানের ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা করতে আসা কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শনিবার দুপুরে দেখা করে স্মারকলিপি দেয় রাজ্য বিজেপির প্রতিনিধি দল। দক্ষিণ কলকাতার এক হোটেলে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করে দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ সরকারের তরফে কেন্দ্রের পাঠানো ১ হাজার কোটি টাকা ৫ লক্ষ পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা করে গিয়েছে বলা হচ্ছে। কিন্তু আসলে ২ থেকে আড়াই লক্ষের বেশি মানুষের কাছে তা পৌঁছায়নি। আর এটুকুও যাঁরা পেয়েছেন তাঁরা সবাই পার্টির লোক। আমরা সবাই দেখেছি পাকা বাড়ির মালিকরা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। আর পার্টি তাঁদের থেকে কাটমানি খেয়েছে। এইজন্য আজ আমরা দাবি জানিয়েছি ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হোক।’ যাদের পাকা বাড়ি আছে তাদের কাঁচা বাড়ি দেখানো হচ্ছে, এমন ২ হাজার মানুষের তালিকা বিজেপি নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের হাতে তুলে দেন।

আরও পড়ুন: ১লক্ষ কোটির বেশি ক্ষতি রাজ্যে, কেন্দ্রীয় দলকে রিপোর্ট দিল নবান্নের

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, এর আগে আয়লা, বুলবুলের সময়েও ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হতেই পারে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছতে হবে। কেন্দ্র যে টাকা পাঠাচ্ছে তার যাচ্ছে কোথায়?’ একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যাঁরা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না, বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা যাতে অভিযোগ জানাতে পারেন তারজন্য ওয়েবসাইট বা অ্যাপ তৈরি করা হোক। বিজেপি নেতৃত্ব এদিন কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দিয়ে কংক্রিটের বাঁধ তৈরি করার দাবি জানিয়েছেন এবং পুরো প্রকল্পটি যথাযথ রূপায়ণের জন্য এ মাস বা একবছরের জন্য নোডাল অফিসার নিয়োগেরও দাবি জানান।

কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সফররত সাংবাদিকদের লঞ্চে মাঝ নদিতে আটকে রাখা হয় যাতে গ্রামবাসীরা কি বলছেন সংবাদ মাধ্যম জানতে না পারে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ সত্য চাপার জন্য সংবাদ মাধ্যমকে আটকানো হচ্ছে। তানাহলে সাংবাদিকেরা বিপর্যয়ের সত্যিকারের তথ্য সামনে নিয়ে আসবেন। এমনিতেই সংবাদ মাধ্যমের উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এভাবে সত্য চাপা থাকে না।’ এদিন প্রতিনিধিদলে দিলীপ ঘোষ ছাড়াও ছিলেন প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়প্রকাশ মজুমদার প্রমুখ। এরপর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল নবান্নে যান।

Related Articles

Back to top button
Close