fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুজো আসছে! অর্ডার মিলছে না পটুয়াদের

ভীষ্মদেব দাশ, খেজুরি (পূর্ব মেদিনীপুর): মাস দুয়েক বাকি পুজো আসতে। বাঙালির দুর্গাপুজোর তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় এমন সময় থেকেই। পুজো উদ্যোক্তারা অন্যান্য বছর এই সময় থেকে পটুয়াদেরকে লক্ষ লক্ষ টাকার অর্ডার দিতেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চন্ডিপুরের পট শিল্পীদের কাছে ভিড় জমত পুজো উদ্যোক্তাদের। কিন্তু করোনার গ্রাসে চলতি বছর ফিকে হয়ে গিয়েছে পটুয়াদের জীবন। অন্যান্য বছর যেখানে লক্ষ লক্ষ টাকার অর্ডার চলে আসত সেখানে চলতি বছরে অর্ডার নেই বললেই চলে। ঘূর্ণিঝড় আমফানের আগে যে কটি অর্ডার ছিল তাও আবার ঝড়ের পরে বাতিল হয়ে গিয়েছে। ফলে চলতি বছর বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার অর্ডার নিয়ে সংশয় জেগেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চন্ডিপুরের পট শিল্পীদের মধ্যে।

 

 

 

মূল অস্ত্র রং- তুলি। আর সেই রং- তুলির টানে অদ্ভুত শিল্পকর্মে তৈরি হতো বিভিন্ন পুজো মন্ডপ। চোখ ধাঁধিয়ে উঠত দর্শনার্থীদেরও। ঠিক এমনটা হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরেও। কিন্তু পথে বিপত্তি হয়ে দাড়ায় নোভেল করোনাভাইরাস। তার সাথে সাথে সঙ্গ দেয় ঘূর্ণিঝড় আমফান। আর এই দুইয়ের মাঝে জেলার পটুয়ারা আজ বিপর্যস্ত। চন্ডিপুর ব্লকের হবিচক, নানকারচক গ্রামের শতাধিক মানুষ পট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। পট শিল্পকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে তাদের ঝুলিতে রয়েছে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্তরের পুরস্কারও। কিন্তু বর্তমান বছরে লকডাউন শুরু হওয়ার সময় থেকেই পট শিল্পের বাজার নেই। তবে শিল্পের চাহিদাকে লকডাউন থমকে রাখতে পারলেও শিল্পীর হাতের কারুকার্য আজও থমকে নেই। প্রাচীন এই পটচিত্রকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে করোনার বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন। যদিও লকডাউনের জেরে শিল্পীরা মানুষের সামনে সরাসরি যেতে পারছেন না কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজেদের পটগান পোষ্টের মাধ্যমে মানুষকে করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতন করে চলেছেন।

 

 

আগের মতো এখনো শিল্পের আঁকিবুঁকি ঠিক সেই ছন্দেই চলছে। বর্তমানে পটচিত্রের তেমন বাজার না থাকলেও আগামী দিনে বাজার ঠিক ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদী জেলার পটশিল্পীরা। ঘূর্ণিঝড় আমফানের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক শিল্পীর বাড়িঘর। বেহাল হয়েছে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও। অন্যান্য বছর এই সময় থেকেই বড় বড় থিম পুজোর জন্য পটের বায়না আসতো শিল্পীদের কাছে। যা থেকে এই পুজোর মরসুমেই লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন হত পটুয়াদের। কিন্তু চলতি বছরে বায়না নেই। ঘূর্ণিঝড়ে আমফানের আগে যে ক’টি বায়না এসেছিল তাও আবার ঝড়ের পরে বাতিল হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত কল্পনা চিত্রকর বলেন, “এই সময় পুজোর বাজার ধরার পাশাপাশি বড় বড় থিম পুজোয় লক্ষ লক্ষ টাকার অর্ডার আসতো। কিন্তু লকডাউনের কারণে এবারে বায়না নেই। আমাদের এই দুঃসময়ে কেউ খোঁজও নেয় না।”

 

 

শিল্পীর মনে আক্ষেপের সুর শোনা গেলেও থেমে নেই শিল্প কার্য। এখনো প্রত্যেকদিন নিয়ম করেই চলছে পট শিল্পের কাজ। পটুয়ার সমিতির সম্পাদক আবেদ চিত্রকর বলেন, ” অন্যান্য বছর এমন সময় দুর্গা পুজাতো বটেই, পাশাপাশি কালি পুজারও অর্ডার পেতাম। কিন্তু এবছর বাজার খারাপ। দীর্ঘ লকডাউনের ফলে পটুয়াদের অর্থনৈতিক অবস্থা সঙ্কটে। সরকারি সাহায্য না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো মুশকিল।” দুর্গাপুজোর অর্ডার যেমন নেই তেমনি সরকারি সাহায্য নিয়ে আক্ষেপের সুর শিল্পীদের মনে। তবে খুব শীঘ্রই বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশাবাদী শিল্পীরা।

Related Articles

Back to top button
Close