fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আজ রথযাত্রা! গড়বে না ডেমুরিয়া ও মহিষাদলের ঐতিহ্যবাহী রথের চাকা

ভীষ্মদেব দাশ, খেজুরি (পূর্ব মেদিনীপুর): রথে চড়ে মাসির বাড়ি যাওয়া হবে না জগন্নাথদেবের। করোনা বাধ সাধলো জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি যাওয়ার ক্ষেত্রে। যেভাবে করোনার সংক্রমণ দেশজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে তাতে ইতিমধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের দুই প্রাচীন রথ মহিষাদল ও কাঁথির ডেমুরিয়া রথ। আর তাই আজ রথযাত্রায় মন খারাপ রথপ্রেমী সাধারণ মানুষের।

 

প্রায় ২৪৪ বছরের প্রাচীন মহিষাদল রাজবাড়ির রথযাত্রা। মহিষাদলের প্রাচীন ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, রাজা আনন্দলাল উপাধ‍্যায়ের সহধর্মিণী ধর্মপ্রাণ রানী জানকি দেবী প্রথম মহিষাদলের রথের সূচনা করেছিলেন। প্রথমে এই রথ ছিল সতেরো চূড়ার। কিন্তু যা আজ ঠেকেছে তেরো চূড়াতে। মহিষাদলে রথের অন্যতম ব্যতিক্রমী বিষয় হলো এখানকার রথে জগন্নাথ দেবের সঙ্গে যান রাজবাড়ীর কূলদেবতা শ্রী মদনগোপাল জিঊ। প্রতিবছর রথের দিন এই রথ টানতে হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমাতেন। ভিড় জমতো রথের মেলাতেও। মহিষাদলের রথতলা ও ছোলাবাড়ি প্রাঙ্গণে কয়েকশো দোকান নিয়ে গমগম করতো প্রায় একমাসের এই রথের মেলা। কাঁঠাল পট্টির কাঁঠালের গন্ধে মম করতো গোটা এলাকা। কিন্তু সবকিছুই কেমন যেন ফিকে হয়েছে এবছরের রথে। এবছর চলবেনা রথ। এর পরিবর্তে প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই রাজবাড়ির পালকি চড়ে প্রভু যাবেন মাসির বাড়ি। সোমবার বিকেলে অন‍্যান‍্য বছরের মতোই লেত উৎসবের দিন রথের ওপর চড়ানো হয় রাজবাড়ির কলস। চলে পুজো পাঠও। কিন্তু রথ টানা না হওয়ার কারনে কেমন যেন মন খারাপ ভক্তদের। মহিষাদল রাজ পরিবারের সদস্য হরপ্রসাদ গর্গ বলেন, “সামাজিক দূরত্বের কথা মাথায় রেখে আমরা রথ টানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে রাজবাড়ির পালকি চড়েই জগন্নাথদেব যাবেন মাসিরবাড়ি। যেখানেও মেনে চলা হবে সামাজিক দূরত্ব।”

 

অন‍্যদিকে, করোনা সংক্রমন এড়ানোর জন্য এবার বন্ধ রাখা হয়েছে প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন কাঁথির ডেমুরিয়ার রথযাত্রা। তবে ভক্তদের সঙ্গে প্রভুর দেখা করার জন্য রথের দিন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা চড়বেন রথে। পরানো হবে রাজবেশ। তবে টানা হবেনা রথ, বসবেনা মেলাও। রথের মেলা না বসায় স্থানীয় মানুষদের ব‍্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এই মেলা থেকেই রোজ ছোটো ব‍্যবসায়ীরা কয়েক লক্ষ টাকা আয় করবেন। কিন্তু এবছর সব বন্ধ। রথযাত্রার পরিচালন কমিটির সম্পাদক তমালতরু দাস মহাপাত্র বলেন, “রথের মেলায় বিক্রিবাট্টা করে ব‍্যাবসায়িরা কয়েক লক্ষ টাকা আয় করতেন। কিন্তু করোনার জন্য সবকিছুই বন্ধ। তাই বিশালাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে ব‍্যবসায়ীদের।”

Related Articles

Back to top button
Close