fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মেলেনি ডিজিটাল রেশন কার্ড বা কুপন, রেশনের খাদ্য সামগ্রী থেকে বঞ্চিত মেখলিগঞ্জের যোগেন বর্মন

বিজয় চন্দ্র বর্মন, মেখলিগঞ্জঃ লক ডাউনের সংকট সময়ে রেশনের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা লাভের জন্য ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকা আবশ্যক। যাদের ডিজিটাল রেশন কার্ড নেই তারাও যাতে এই সংকট কালে রেশনের মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী পায় তার জন্য খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর কুপন বিলি করেছে।

 

ডিজিটাল রেশন কার্ড না থাকলে রেশন তোলার ক্ষেত্রে বৈধতা দেওয়া হয়েছে এই কুপনকে। এই দুটি নথি ছাড়া রেশন পাওয়ার আর অন্য কোনও উপায় নেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই দুটি নথির যে কোনও একটি কি সব লোকেদের কাছেই রয়েছে ? না, সবার কাছে নেই। তাহলে যাদের এ দুটোর একটিও নেই তারা কি এই সুযোগ পাবে না? এই লক ডাউনের সংকটকালেও কি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে? আর এদের সংখ্যাটাই বা ব্লকে কতজন? বিশেষ করে এই না থাকার দলে যে সব দিন আনা দিন খাওয়া লোক রয়েছে , তাদের কি হবে ? এরকমই একজন হলেন মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠুনকির ঝাড়ের বাসিন্দা যোগেন রায়। পেশায় দিন মজুর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারি। সংসারে সদস্য সংখ্যা ৫ জন। তার পরিবারের সদস্যদের কারও ডিজিটাল রেশন কার্ড নেই। লক ডাউনের সময় সরকারি ভাবে যে কুপন দেওয়া হয়েছে সেটাও তার মেলেনি।

 

সে ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু তার পরও তার নামে কার্ড আসেনি। ডিজিটাল কার্ড যাদের নেই তাদের আপাতত রেশন থেকে খাদ্য সামগ্রী পেতে দেওয়া হচ্ছে কুপন। সেই কুপন ও তার নামে আসেনি। ফলে এপ্রিল মাসের রেশন সে যেমন তুলতে পারেনি তেমনি মে মাসেও রেশন থেকে খাদ্য সামগ্রী তুলতে পারবে কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা । এদিকে লকডাউনে রোজগার বন্ধ থাকায় তার পরিবারে দেখা দিয়েছে অভাব। দু বেলা খাবার জুটছে না তাদের। লকডাউনে সাধারণ মানুষরা যাতে খেতে পায় তার জন্য রেশনের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা মিলছে। কিন্তু ডিজিটাল রেশন কার্ড না থাকায় সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঠুনকির ঝাড় এলাকার দিন মজুর যোগেন বর্মন। পরিবারে তার স্ত্রী সহ তিন জন ছেলে মেয়ে রয়েছে। যোগেন বাবুই পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যাক্তি। তার ছোটো ছোটো ছেলে মেয়েরা এই লক ডাউনে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

 

সোমবার দিন দু একজন দয়া করে যোগেন বর্মনকে আটার প্যাকেট দিয়ে সহযোগিতা করে। সে প্যাকেট নিয়ে তার চোখে গড়িয়ে পড়ে জল। সে জানায়, এই লক ডাউনে তার রোজগার বন্ধ হয়ে আছে। তার মতো গরীব মানুষেরা যদি এরকম দিনে রেশন না পায় তাহলে বাঁচবে কি করে ? সে আরও জানিয়েছে, এলাকার ধনী ব্যাক্তিরা রেশন থেকে বস্তা বস্তা চাল আটা পাচ্ছে, অথচ তার মতো গরীব লোকের সেসব জুটছে না। লক ডাউনেও সে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান , পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের দারস্থ হয়ে রেশন থেকে যাতে সুবিধা মেলে তার অনুরোধ জানায়। কিন্তু কোনও ব্যাবস্থা তার হচ্ছে না। এ বিষয়ে মেখলিগঞ্জের খাদ্য নিয়ামক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখছেন।

Related Articles

Back to top button
Close