fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাঁচি হাইকোর্টের নির্দেশ, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কায় এই বছর বন্ধ শ্রাবণী মেলা

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এই বছর বৈদ্যনাথধামে হচ্ছে না শ্রাবণী মেলা। এর ফলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশন। প্রতিবছর দেশের নানা প্রান্ত থেকে লাখো লাখো ভক্ত রেলপথে ট্রেনে শ্রাবণ মাসে শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে দেওঘর বা বৈদ্যনাথধামে আসেন। দেওঘর ও যশিডি স্টেশন আসানসোল রেলডিভিশনের আওতার মধ্যে পড়ে।
আসানসোল ডিভিশনের আধিকারিক চিত্তরঞ্জন ঝা বলেন, গত বছর শ্রাবণী মেলা উপলক্ষ্যে শুধু একমাসেই ১১ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। করোনা ভাইরাসের কারণে রাঁচি হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়ে বলেছে এই শ্রাবণ মাসে ভক্তরা আসতে পারবেন না বৈদ্যনাথধাম মন্দিরে। কিন্তু লক ডাউনের জন্য মন্দির থাকবে বন্ধ। ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তাই কার্যত হতাশ সেইসব ভক্তরা।
রেল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসের  প্রতি সোমবার ১৫ লক্ষ তীর্থযাত্রী যশিডি স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। শ্রাবণ মাসের প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয় । দ্বাদশ জ্যোর্তিলিঙ্গ বাবা, বৈদ্যনাথ ও সতীপীঠ জয়দুর্গা মন্দির এখানে একসঙ্গে রয়েছে। ভূভারতে আর কোথাও নেই। এখানেই শিব-শক্তিকে সামনে রেখে গড়ে উঠেছে ধর্মীয় পর্যটন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেওঘর বা বৈদ্যনাথধামে ভক্তরা আসে গোটা শ্রাবণ মাস জুড়ে। এরমধ্যে ৯০ শতাংশ তীর্থযাত্রীর ভরসা হলো রেলপথ বা ট্রেনের সফর।
শ্রাবণ মাসের জন্য আসানসোল রেলডিভিশন যে আয় করে তার জন্য ঢেলে সাজানো হয় যশিডি ও দেওঘর স্টেশনকে। যাত্রী পরিষেবার কথা মাথায় রেখে নানা পরিকল্পনা নেয় আসানসোল ডিভিশন। নতুন করে সাজানো হয়  ওয়েটিংরুমকে। শুধু যাত্রী পরিষেবা বা তাদের স্বাচ্ছন্দই নয়, যাতায়াতের সুবিধার জন্য  শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে স্পেশাল বাড়তি ট্রেন দেওয়া হয় আসানসোল থেকে। আসানসোল রেলডিভিশনের ডিআরএম সুমিত সরকার বলেন, শুধুমাত্র শ্রাবণ মাসের সোমবার গুলিতে যশিডি, দেওঘর ও বাসকিনাথ স্টেশন মিলে ৭০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। প্রতি সোমবার ৭০ লাখ টাকা করে আয় হয় আসানসোল ডিভিশনের। সেই শ্রাবণী মেলা হবেনা। ট্রেন চলাচলও বন্ধ। তাই আয়ও বন্ধ। বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ল আসানসোল ডিভিশন।

Related Articles

Back to top button
Close